SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

অকার্যক্ষম মানুষের জীবনের কয়েকটি নেতিবাচক দিক

শিক্ষা ০৩ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
অকার্যক্ষম
© Khosrork | Dreamstime.com

সফল ব্যক্তিদের একটি সাধারণ গুণ হল তারা কার্যক্ষম। অনুরূপভাবে বিফল মানুষেরাও সাধারণত অকার্যক্ষম হয়ে থাকে। এরকম মানুষ পদে পদে ভুল করার কারণে সফলতা তাদের পদচুম্বন করে না। নিম্নে অকার্যক্ষম মানুষের এমন কিছু ভুল ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করা হল যা তাদের সফলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ভুলগুলির মধ্যে যেগুলি আমাদের মধ্যে আছে আমরা চেষ্টা করব সফলতার পথে বাধা এসকল ভুল থেকে সরে আসার।

অকার্যক্ষম-দের বিলম্ব এবং অলসতা

“বিলম্বে কাজ সম্পাদন কারীরাই সময় নিয়ে আপত্তি জানায়” কথাটি প্রকৃতপক্ষেই সত্য। ক্লান্ত হয়ে পড়েছি বলে মনে করে আমরা অনেক সময় কাজ করা বন্ধ করে দিই। এটিই অলসতার লক্ষণ। এবং আমরা যত বেশি বিলম্ব করব অলসতা উত্তরোত্তর ততই বৃদ্ধি পেতে থাকবে। কুরআনে বারবার বিলম্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

“এমনকি যখন তাদের কারো কাছে মৃত্যু এসে হাজির হয় তখন তারা বলে, ‘হে আমার প্রতিপালক! আমাকে আবার (দুনিয়াতে) পাঠিয়ে দিন। যাতে আমি সৎকর্ম সম্পাদন করতে পারি যা আমি আগে করিনি।” (আল কুরআন-২৩: ৯৯-১০০)

একারণে কোনো কাজ সম্পাদনের সময় এখনই। যারা বিলম্ব করে এবং মূল্যবান সময় নষ্ট করে তারা নিজেরাই নিজেদের উপর মারাত্মক অবিচার করে চলেছে। সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিকট একটি আমানত। তাই সময়কে যারা অলসতা দিয়ে নষ্ট করে তারা কখনও সফল হয় না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়শই এই দু’আ করতেন, “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট উদ্বেগ ও শোক থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও কাপুরুষতা থেকে, ঋণ ও মানুষের আধিপত্যের বোঝা থেকে সুরক্ষা চাই।” (বুখারী)

আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞতা

আল্লাহ আমাদেরকে যেসকল নি’আমত দান করেছেন সেগুলির জন্য আমরা কতবার আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করি? অকার্যক্ষম লোকেরা আকাঙ্ক্ষিত বিষয়ে এত বেশি মনোনিবেশ করে যে, আল্লাহ তাদেরকে যে অনুগ্রহ দান করেছেন তা তারা অগ্রাহ্য করে। এভাবে আল্লাহর অকৃতজ্ঞতা করে।

তাদের প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, “হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ করো। তিনি ব্যতীত আর কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে কি যিনি তোমাদেরকে আকাশ ও যমীন থেকে রিযিক দান করেন? তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তাহলে কীভাবে তোমরা বিপথগামী হচ্ছ?” (আল কুরআন-৩৫:৩)

মুমিনদের প্রতি আল্লাহর প্রতিশ্রুতি হল তিনি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিবেন। আল্লাহ বলেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নি‘আমাত) বৃদ্ধি করে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (তবে জেনে রেখ, অকৃতজ্ঞদের জন্য) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।” (আল কুরআন-১৪:৭)

ইবাদতে শিথিলতা

মানুষ নিজের ইচ্ছায় এই দুনিয়াতে অস্তিত্ব লাভ করেনি। আল্লাহ তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় মানুষকে তাঁর ইবাদত করার জন্য এবং এই পৃথিবীতে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠার জন্য সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু অকার্যক্ষম লোকেরা ইবাদতে শিথিলতা প্রদর্শন করে। আল্লাহ বলেন, “আমি জ্বিন ও মানবজাতিকে আমার ইবাদত করা ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সৃষ্টি করি নি।” (আল কুরআন-৫১:৫৬)

সুতরাং, মুসলমানের দায়িত্ব আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করা, আন্তরিকভাবে তাঁর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করা এবং আল্লাহর রহমতের প্রতি আশাবাদী হওয়া।

দায়িত্ববোধের অভাব

মুসলমানের মৌলিক আকিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল তাকদির। তবে কোনো কাজ সম্পাদনের জন্য আমাদেরকেও দায়িত্ব নিতে হবে। আল্লাহ মানুষকে বুদ্ধি ও পছন্দ করার সক্ষমতা দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, “তিনি যাকে ইচ্ছা প্রজ্ঞা দান করেন। আর যাকে প্রজ্ঞা প্রদান করা হয় তাকে তো প্রভূত কল্যাণ দান করা হয়; এবং বিবেকসম্পন্নগণই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে।” (আল কুরআন-২:২৬৯)

সুতরাং, মানুষ ঠিক ও বেঠিকের মধ্যে পার্থক্য জানে। হাশরের ময়দানে আল্লাহর সামনে জবাবদিহিতার সময় আমাদের সকলকে আমাদের কর্ম এবং সেইসাথে আমরা কীভাবে সময় কাটিয়েছি তা নিয়ে প্রশ্ন করা হবে।

আফসোস ধরে রাখা

অকার্যক্ষম লোকেরা যা হয়ে গেছে তার জন্য দীর্ঘদিন আফসোস ধরে রাখে। আফসোস না করে যা হয়ে গেছে তাকে যেতে দিন। অন্যায় হয়ে গেলে আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে আল্লাহ এই বিষয়টি শিক্ষা দিয়েছেন।

আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি অসৎকাজ করে কিংবা নিজের আত্মার প্রতি যুলম করে, অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা ভিক্ষে করে, সে আল্লাহকে অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবে পাবে।” (আল কুরআন-৪:১১০)

“হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের উপর বাড়াবাড়ি করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি অতি ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।” (আল কুরআন-৩৯:৫৩)

এসকল আয়াতে আল্লাহ আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন যে, ভুল হয়ে গেলেও আমরা যেন তা নিয়ে আফসোসের সাথে বসে না থাকি। বরং, আল্লাহর অপার ক্ষমা ও অনুগ্রহের সন্ধান করে আমরা যেন এসকল ভুল থেকে ফিরে আসি।

আশা করি উপরোক্ত আলোচনা আপনার জীবনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন নিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে। নেতিবাচক চিন্তাভাবনাকে সর্বদা এড়িয়ে চলুন এবং এসকল মন্দ অভ্যাস থেকে নিজেকে দূরে রাখুন। ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনার পদচুম্বন করবে।