অগাধ ভালবাসায় সুদৃঢ় যে বন্ধন

patrick-boucher-aeOHAi5Hc7M-unsplash
Fotoğraf: Patrick Boucher-Unsplash

ইসলাম পিতামাতা এবং তাদের সন্তানদের মধ্যে বিদ্যমান ভালোবাসার অন্তর্নিহিত বন্ধনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। যাইহোক, কুরআনে এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এর শিক্ষায় এমন কয়েকটি গাইডলাইন রয়েছে যা পিতামাতা ও সন্তান উভয়ের অধিকার ও কর্তব্য স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে।

সন্তানের অধিকার, পিতামাতার বাধ্যবাধকতা

সন্তানের যে সকল অধিকার পূরণ করা পিতামাতার উপর বাধ্যতামূলক ইসলাম প্রথম থেকেই সেগুলির উপর অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। সতর্কতার সাথে পর্যালোচনা করার পরে, শিশুদের সাধারণ অধিকার সম্পর্কিত কয়েকটি নীতি সংক্ষিপ্তসারে উপস্থাপন করা যেতে পারে। প্রথম এবং সর্বাগ্রে যেটা বলা যায়, গর্ভধারণের পর থেকে কোনো সন্তান তার পিতামাতার জন্য ক্ষতি হওয়ার কারণ হতে পারে না।

মা দু’বছর অবধি সন্তানকে স্তন্যপান করান এবং পিতা তার সন্তান ও সন্তানের মা উভয়ের কল্যাণ ও জীবিকা নির্বাহ এবং তদারকি করার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, কুরআন স্পষ্টভাবে এসকল দায়িত্ব পালন করার কথা বলেছেঃ

“… কোনো ব্যক্তির উপর তার সামর্থ্যের অতিরিক্ত কোনো দায়িত্ব চাপানো হবে না” এরপর বলা হয়েছেঃ

“… একজন মা অথবা বাবা তার সন্তানের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হবে না…” (সূরা বাক্বারাহ ২:২৩৩)

সন্তান যেমনিভাবে তার পিতামাতার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে না তেমনি পিতামাতাও তাদের সন্তানের জন্য কোনো ক্ষতির কারণ না হওয়ার ব্যাপারে সমানভাবে দায়বদ্ধ। সন্তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার জন্য পিতামাতাকে তাদের সন্তানের প্রতি নম্র ও বিনয়ী হওয়ার জন্য উত্সাহিত করা হয়েছে।

এরপর সন্তানের শারীরিক এবং মানসিক উভয়প্রকার বিকাশের জন্য পিতামাতাকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে আদেশ দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ও মানসিক বিকাশের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ এবং উপযুক্ত শিক্ষার পাশাপাশি খাদ্য, পোশাক এবং আশ্রয় ইত্যাদিও সন্তানের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার।

কুরআন এছাড়াও স্বীকৃতি দিয়েছে যে, পিতামাতা ও সন্তানের সম্পর্ক পারস্পরিক ভালবাসার ভিত্তিতে নির্মিত। যেকোনো পিতামাতার জন্য সন্তান হলো আনন্দ, গর্ব এবং শক্তির এক অপার উত্স। শৈশবকাল থেকেই সন্তান তার পিতামাতার জন্য দুর্দান্ত আনন্দের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে আসে। পিতামাতাও তাদের সন্তানের সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধনে আবদ্ধ হয়, তার প্রতিদিনের প্রয়োজনে অংশ গ্রহণ করে, তার ঘুমের সময়সূচীর সামঞ্জস্যতা বজায় রাখে, তার সাথে খেলা করে এবং অবিরাম কয়েক ঘন্টা ধরে তাকে তাদের বাহুতে আগলে রাখে এবং নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে ত্যাগ করে তাকে বড় করে তোলে।

সন্তানের কথা বলা শিখার পর তার প্রথম শব্দগুলি পিতামাতার জন্য দুর্দান্ত আনন্দ এনে দেয়। শিশু বড় হওয়ার সাথে সাথে হামাগুড়ি দেওয়া, হাঁটার জন্য গুটুগুটি পদক্ষেপ নেওয়া এবং শক্তি অর্জন করার সাথে সাথে পিতামাতাও এতে গর্বিত হন এবং প্রায়শই সন্তানের প্রতিটি নতুন পদক্ষেপ পরিবার এবং বন্ধুদের সাথে আনন্দের সাথে শেয়ার করেন। এই নতুন শারীরিক এবং মানসিক বিকাশগুলি ঘটার সময় সন্তানকে একটি নিরাপদ এবং সুরক্ষিত পরিবেশ সরবরাহ করাও পিতামাতার দায়িত্ব।