অধিকারবোধ সামলানোর ৫টি উপায়

মনস্তত্ত্ব ১০ ফেব্রু. ২০২১ Contributor
ফোকাস
অধিকারবোধ
Photo Courtesy: Pexels

দুর্বলতা, বিশ্বাস এবং অধিকারবোধ- এগুলির পরস্পরের সাথে সম্পর্কিত। আপনি যখন কাউকে ভীষণ বিশ্বাস করেন, তখন তার প্রতি আপনার দুর্বলতা তৈরি হয়, কারণ, মানুষ যাকে বিশ্বাস করে, একমাত্র তার প্রতিই নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করে। যে কোনও সম্পর্কে অধিকারবোধ তৈরি হওয়ার অর্থ হল, কারও কাছ থেকে তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ ও ভালোবাসা আশা করা।

যে কোনও সম্পর্কের মধ্যে যখন কারও প্রবল অধিকারবোধ তৈরি হয়, তখন সেই পরিস্থিতি সামলানোর মতো কিছু বিষয় জেনে রাখা ভালো, যা কাজে লাগতে পারে এবং যদি সেই অধিকারবোধ প্রশমন করা সম্ভব না হয়, তাহলে তাকে কীভাবে আপন করে নেবেন- তা-ও এখানে আলোচনা করা হবে।

১. স্ব-সচেতনতা এবং অধিকারবোধ

আপনি কী চান সেই বিষয়ে ভালো ভাবে জানুন। প্রতিটি সম্পর্কের জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন হয়, তাই আপনার মানসিক ও শারীরিক চাহিদা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকুন। আপনার মধ্যে যদি নিজের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি অধিকার বোধ অত্যন্ত প্রবল হয়, তাহলে তাঁর পক্ষে এই বিষয়টি ভালো ভাবে বোঝা খুবই কঠিন। তাই আপনাদের সম্পর্কে আপনার ভূমিকা ঠিক কী, আপনার শক্তি বা দুর্বলতা ঠিক কোনখানে, সেই সম্পর্ক থেকে আপনি ঠিক কী চান- সেগুলি আপনাকেই বিশ্লেষণ করতে হবে। এবং এগুলিই হল স্ব-সচেতনতা তৈরি করার প্রধান উপায়। একবার যদি আপনি নিজের ক্ষমতা ও দুর্বলতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে যান, তাহলে আপনি খুবই ভালো ভাবে সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি নিজের অতিরিক্ত অধিকারবোধ সামলে নিতে পারবেন।

২. অন্য কিছুতে মনকে ব্যস্ত রাখুন

ব্যস্ত মানুষদের মন নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার বেশি সময় হয় না। ভেবে দেখুন কোন জিনিস আপনি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন (আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী ব্যতীত), এবং কোনও নিজের মধ্যে শখ বা হবি তৈরি করুন, যা আপনাকে হিংসা করার মতো ক্ষতিকারক মানসিকতা কিংবা প্রবল অধিকারবোধের দ্বন্দ্ব থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করবে। যেমন, ছবি আঁকা, রান্না করা, বই পড়া কিংবা গান শোনা, এই ধরনের ছোটখাট অভ্যাসও মনকে ব্যস্ত রাখার বিষয়ে সাহায্য করতে পারে।

৩. অধিকারবোধ বিষয়ে মন খুলে কথা বলুন

বিভিন্ন বিষয়ে আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে কথা বলুন, তার মধ্যে আপনার অনুভূতি নিয়েও কথা বলার চেষ্টা করুন। আপনি যদি বুঝতে পারেন যে, আপনি নিজের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি অতিরিক্ত

অধিকারবোধের ফলে সমস্যা হচ্ছে কিংবা এই অধিকার বোধের ফলে আপনি কাউকে অকারণ হিংসা করছেন, তাহলে সেই বিষয়ে মন খুলে কথা বলুন। যদি আপনর এই সমস্যার কথা আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী বুঝতে পারেন, তাহলে নিশ্চিন্তে থাকুন যে আপনারা দুইজনে মিলে এই পরিস্থিতি অবশ্যই কাটিয়ে উঠতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনার অধিকারবোধের অনুভূতিকে আপনার সাথী হীনম্মন্যতায় ভোগা বা ভীত হওয়ার জন্য দায়ী করেন, তাহলে আপনাকে নিজের আচরণ বদলাতে হবে। তবে, যে কোনও ক্ষেত্রে আপনার অনুভূতি সম্পর্কে সৎ ভাবে স্বীকারোক্তি করার মাধ্যমে পরিস্থিতি অনেকটাই সহজ হয়ে যেতে পারে। যদি আপনি তা না করেন, তাহলে অতিরিক্ত হিংসা বা অকারণ ভাবনার ফলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ার মাধ্যমে সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

৪. বিশ্বাস

নিজের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর উপরে বিশ্বাস রাখুন। যে সম্পর্কে বিশ্বাস নেই, সেই সম্পর্ক কোনও ভাবেই দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে না। নিজের সাথীকে অন্ধ ভাবে বিশ্বাস করার মধ্যে যে মিষ্টি ঝুঁকি রয়েছে, তা-ই সম্পর্কের মাধুর্য রক্ষা করে। তাঁকে সর্বদা বিশ্বাস করার মধ্যে, বিশেষ করে যখন আপনি সেই বিশেষ মানুষটিকে প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসেন, এক ধরনের সাহস ও প্যাশন থাকে। এই বিশ্বাস থাকাটা খুবই জরুরি যে, কোনও অবস্থাতেই আপনার ভালোবাসার মানুষটি আপনাকে আঘাত করবে না, বরং যে কোনও আঘাত থেকে আপনার রক্ষা করবে। ভালোবাসার মানুষের প্রতি এমনিতেই আমাদের অগাধ বিশ্বাস তৈরি হয়। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য যদি, কিন্তু-র মতো পরিস্থিতি থেকে যায়। মনে রাখতে হবে, প্রবল অধিকারবোধের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে হলে সবার আগে ভালোবাসার মানুষটিকে বিশ্বাস করতে শিখতে হবে।

৫. নিজের দুর্বলতাকেই শক্তি বানিয়ে তুলুন

আমরা নিজেদের দুর্বলতা একমাত্র তাদের সামনেই তুলে ধরি, যাদের আমরা মন থেকে ভালোবাসি। আপনি জানেন যে, সেই দুর্বলতার জন্য আপনি আঘাত পেতে পারেন। এই আঘাত পাওয়ার হাত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য, আত্মরক্ষার পন্থা হিসেবেই আত্মপ্রকাশ করে অধিকারবোধ। তাই নিজের অনুভূতিগুলিকে মেরে না ফেলে, নিজের হৃদয়কে পাথরে পরিণত করার পরিবর্তে, নিজের দুর্বলতাকেই নিজের শক্তি বানিয়ে তুলুন। নিজের খামতিগুলো যদি নিজে মেনে নিতে পারেন, তাহলে দেখবেন আর অধিকারবোধের মানসিক দ্বন্দ্বে ভুগতে হচ্ছে না।