অধ্যয়নের প্রতি মনোনিবেশ করতে রপ্ত করুন এই ৫ অনুশীলন

écritures coraniques avec homme
© Fsstock | Dreamstime.com

জ্ঞান অন্বেষণ করা আমাদের ঈমানেরই অঙ্গ। জ্ঞান অন্বেষণের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি কথা প্রচলিত আছে, “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণ করো”

কুরআনের প্রথম আয়াত, “পড়ুন!” এর দ্বারা ইসলামে জ্ঞানের মৌলিক গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বিরতিহীনভাবে অধ্যয়ন করা বাস্তবে খুবই কঠিন।

এখানে কয়েকটি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যা আপনাকে আপনার শারীরিক ও মানসিক শক্তি এবং অধ্যয়নের প্রেরণাকে বৃদ্ধি করতে সহায়তা করতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া

আমরা সকলেই মিষ্টি পছন্দ করি। এবং প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি খাওয়াও আমাদের অভ্যাস। এটিকে কাটাতে চেষ্টা করুন। কারণ মিষ্টান্ন দ্রব্যের দ্বারা প্রাপ্ত এনার্জি দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং এটি আপনাকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ থেকেও বিরত রাখে।

মিষ্টির পরিবর্তে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বাদাম এবং শুকনো ফল আমাদের দেহ ও মস্তিষ্কের জন্য খুবই উপকারী। এগুলি আপনাকে প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করবে এবং আপনার ধূসর কোষগুলিকে উজ্জ্বল, চকচকে করে তুলবে।

শুকনো ফলগুলির কয়েকটির কথা কুরআনে ও হাদিসের মধ্যেও উল্লেখিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খেজুর ও ডুমুর পছন্দ করতেন।

অনেক চাপের সময় স্বাভাবিক থাকতে ভিটামিনের চাহিদা পূরণে প্রচুর পরিমাণে ফল ও শাকসবজি খান। তবে সন্ধ্যায় ফল না খাওয়ার চেষ্টা করুন কারণ এর কারণে সকালে আপনার মাঝে ক্লান্তিবোধ জন্মাতে পারে। এছাড়া নববী চিকিৎসা হিসেবে প্রত্যহ সকালে কালোজিরা ও মধু খেতে পারেন।

স্বাস্থ্যসম্মত পানীয় পান করুন

শীতল ও কোমল পানীয় না খাওয়ার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত শীতল পানীয় আপনার শরীরকে দুর্বল করে তুলবে। এর দ্বারা কাশি বা ফ্লু হওয়াও খুব স্বাভাবিক। আপনি যদি খুব বেশি পরিমাণে শীতল পানীয় পান করেন তবে আপনি আপনার পিঠে শক্ততাও বোধ করতে পারেন।

এছাড়াও, খুব বেশি কফি পান করবেন না। খুব প্রয়োজন হলে সকালে বা বিকালে পান করতে পারেন। তবে সন্ধ্যায় এটি গ্রহণ না করার চেষ্টা করুন যাতে আপনার প্রয়োজনীয় রাতের বিশ্রামে ব্যাঘাত না ঘটে। আল্লাহ রাতকে বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাদের চেয়ে ভাল জানেন, তিনি জানেন যে, আমাদের জন্য কোনটা ভাল।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমান

আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এশার নামাজের পর আমাদেরকে ঘুমাতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাড়াতাড়ি ঘুমানো এবং তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা খুবই ভাল একটি অনুশীলন।

ফজরের নামাজের আগে জেগে উঠা আপনাকে সারা দিনের জন্য আল্লাহর নেয়ামত পেতে সহায়তা করে। এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করুন যে, আপনি কখনই ফজরের সালাত মিস করবেন না। আর যদি পারেন তবে ফজরের ওয়াক্তের ১৫ মিনিট আগে ঘুম থেকে উঠুন এবং তাহাজ্জুদের এই অত্যন্ত উপকারী সময়টি কাজে লাগান।

ঘাড় শক্ত হওয়া এড়াতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় নিজের জন্য একটি আরামদায়ক বালিশ নিশ্চিত করুন। এবং নিশ্চিত করুন যে, আপনার ঘরে পর্যাপ্ত পরিমাণে তাজা বায়ু আছে।

শারীরিক এবং মানসিক ব্যায়াম করুন

শরীর আমাদের উপর একটি আমানত, যা আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন। তাই শরীরের প্রতি আমাদের যথাসম্ভব যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। প্রতিদিন কিছু সাধারণ ব্যায়াম করা এর অংশ হতে পারে। সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে এটি করলে এর জন্য আল্লাহ আমাদেরকে পুরস্কৃতও করতে পারেন।

এছাড়া আধ্যাত্মিক হৃদয়ের যত্ন নিতেও মনে রাখবেন। আপনার শরীরের মতো এটিরও অনুশীলন প্রয়োজন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত ও হাদিস পাঠ করার চেষ্টা করুন। আল্লাহর কাছে প্রতিদিন ক্ষমা প্রার্থনা করুন। এটি আপনার আধ্যাত্মিক হৃদয়কে শক্তিশালী করবে এবং আপনার পথে আসা যে কোনো চ্যালেঞ্জকে সহজ করবে।

কাজের মাঝে বিরতি নিন

যখন আমরা অনেক ব্যস্ত থাকি এবং অধ্যয়নের সাথে জড়িত থাকি, তখন আমরা অন্যান্য কিছু করার জন্য সময় বের করতে ভুলে যাই। তবে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লান্তিকে আপনার দরজায় কড়া নাড়তে দেবেন না। প্রতিদিন কিছু সময় বাহিরে বেড়াতে যান। যাদুঘরে যান, মধ্যাহ্নভোজের জন্য বন্ধুদের সাথে দেখা করুন।

অবশ্য কেনাকাটা আপনার জীবনে আশীর্বাদ নিয়ে আসে না কারণ এটি আপনাকে আরও ক্লান্ত করে তুলবে। আল্লাহর সৃষ্টিকে দেখার এবং উপভোগ করার জন্য অতিরিক্ত কিছু সময় বের করুন।

সপ্তাহে কমপক্ষে একটি দিন সম্পূর্ণ বিরতি নিন। পড়াশুনা বা আপনার কাজ সম্পর্কে এসময় চিন্তা করবেন না।

এ সকল বিষয় মেনে চললে আশা করা যায় জ্ঞান অর্জনের পথে সকল বাধা দূরীভূত হবে এবং আপনি অধ্যয়নের প্রতি আরও মনোনিবেশ করতে পারবেন।