SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

অনলাইনে অর্থনৈতিক সুরক্ষা: জেনে নিন কিছু নিয়ম

প্রযুক্তি ২১ ডিসে. ২০২০
ফোকাস
অনলাইনে অর্থনৈতিক সুরক্ষা

প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে-সঙ্গে ব্যাংকিং ও টাকা ট্রান্সফারের ব্যাপারটাও প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে। এখন ২৪*৭, যেকোনো সময় টাকা জমা দেওয়া থেকে টাকা তোলা করা যায়। শুধু তাই নয় যেকোনো সময় ব্যাংকের কোনও স্কিম শুরু করাও এখন অনলাইনে জলভাত। যে কারণে অনলাইনে অর্থনৈতিক সুরক্ষা আজ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কিন্তু, সব সহজ জিনিসের মধ্যেই একটু অস্বাচ্ছন্দ্য লুকিয়ে থাকে। অনলাইন টাকা আদান প্রদানের অস্বাচ্ছন্দ্য… সুরক্ষার অভাব!

আধুনিক ডিজিটাল যুগে মানুষের থেকে মানুষের বিষয়ে তথ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার কোণও ব্যক্তিগত তথ্য ভুল হাতে পড়লে আপনার জীবনের অনেকখানিই অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এই তথ্যের মধ্যে সবচেয়ে আগে আক্রান্ত হয় আপনার অর্থনৈতিক তথ্য। অর্থাৎ ক্রেডিট/ ডেবিট কার্ডের পিন, নেটব্যাঙ্কিং-এর পাসওয়ার্ড, অ্যাকাউন্ট নম্বর, ইউ পি আই আইডি ইত্যাদি যদি অচেনা কারোর হাতে পড়ে যায় তাহলে নিমেষে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরি যেতে পারে।

সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে কোভিড-১৯এর প্রকোপের সময় থেকে যেহেতু ডিজিটাল পেমেন্টের ব্যাপারটা বেড়েছে, পাল্লা দিয়ে অনলাইন স্ক্যাম, ফিশিং, মিথ্যে বলে এটিএম কার্ডের পিন জেনে টাকা তুলে নেওয়ার প্রকোপও বেড়েছে। বিশেষ করে এই সমস্যার শিকার হয়েছেন একটু বয়স্ক মানুষ যারা সেভাবে অনলাইন সুরক্ষার বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না।

অনলাইনে অর্থ রাখুন সুরক্ষিতঃ

অনলাইন ব্যাংকিং পরিসেবা সাধারণত ফিশিং, স্কিমিং ও হ্যাকিং-এর মাধ্যমে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়া কার্ডের পিন ও নেটব্যাংকিং -এর পাসওয়ার্ড জেনে গেলে সে আরেক বিপদ! সহজ করে বোঝাতে গেলে বলা যায়, যিনি অনলাইন টাকা পেমেন্ট করছেন তিনি একটি ডেটা পয়েন্ট। আর তার কারদের নম্বর, পাসওয়ার্ড ইত্যাদি তার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য। একজন হ্যাকার সবসময় খেয়াল রাখবে যে এই তথ্য যদি কোণও অসুরক্ষিত ইন্টারনেট কানেকশন যোগে ব্যবহৃত হয় তাহলে সেখান থেকে সে সহজেই তা আহরণ করে নিতে পারে। এই জন্যই অনলাইন টাকা পয়সার ক্ষেত্রে নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবহার করার কথা বলা হয়। ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে আরও ভাল।

অনলাইনে নিজের টাকা পয়সা সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু সহজ কিন্তু প্রয়োজনীয় পদ্ধতি রয়েছেঃ

১। কখনওই কোণও পাবলিক নেটওয়ার্কে নিজের ব্যাংকের সাইটে লগ ইন করবেন না। ই-কমার্সে শপিং করলেও পেমেন্টের সময় নিজের ব্যক্তিগত ইন্টারনেট পরিসেবাই ব্যবহার করবেন। এছাড়া ফোন ও ওয়াই ফাই-এর পাসওয়ার্ড প্যাটার্ন বেস না বায়োমেট্রিক বেস করার থেকে সাধারণ পিন নম্বর দিয়ে করা বাঞ্ছনীয়। বায়োমেট্রিক বেস পাসওয়ার্ডের সমস্যা হল, সিস্টেম ব্রিচ হলে আপনার আঙ্গুল-এর ছাপও হ্যাকারের কাছে চলে যাবে।

২। কম্পিউটারে অবসম্ভাবি নতুন অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করবেন। অপারেটিং সিস্টেমের আপডেট কখনও মিস করবেন না। মনে রাখবেন, আউট ডেটেড অপারেটিং সিস্টেম কিন্তু হ্যাকারের কাছে স্বর্গ! সেইখান থেকেই সে আপনার কম্পিউটারে ম্যালওয়ার প্রবেশ করিয়ে আপনার সম্পর্কে সব তথ্য জেনে নিতে পারে।

৩। অনলাইন ব্যাংকিং বা পেমেন্টের সময় অটোমেটিক লগ ইন এনাবেল না করে রাখাই বাঞ্ছনীয়। কোণও ভাবে কোনও ডিজিটাল প্রমাণ বা ফুটপ্রিন্ট রাখবেন না। কোনোভাবে সিস্টেম ব্রিচ করলে কিন্তু আগে সেই তথ্যগুলোই চলে যাবে।

৪। এটা মনে রাখবেন আপনার ব্যাংক কখনওই ফোন করে আপনার কার্ডের পিন, নেট ব্যাংকিং-এর ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে চায় না। নেট ব্যাংকিং-এর সাইটে লগ ইন একবারই করতে হয়। তারপরে বারবার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিতে হয় না। যদি নেটব্যাংকিং-এর সাইট খোলার পর বারবার আলাদা করে কোনও পপ আপ উইন্ডো বারবার আপনার আইডি পাসওয়ার্ড চায় তাহলে নিশ্চয়ই বুঝবেন আপনি ফিশিং সাইটের পাল্লায় পড়েছেন। সেক্ষেত্রে সেই সাইট থেকে বেরিয়ে আসা বাঞ্ছনীয়।

৫। একটি সুরক্ষিত অ্যান্টি ভাইরাস ও অ্যান্টি ম্যালওয়ার প্রোগ্রাম কম্পিউটারে ইন্সটল করা ভীষণ জরুরি। বিশেষ করে যে সমস্ত সফটওয়্যার ম্যালওয়্যার আটকায় সেই সফটওয়্যার লাগানোই কাম্য। এর ফলে কোন কোন সাইট আসলে নকল বা ফিশিং সাইট তা সহজেই চিহ্নিত করা যাবে।

আপনার তথ্য আপনার জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিজে দায়িত্বশীল থেকে আপনার তথ্যকে রক্ষা করুন।