SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

অনিদ্রা দূর করতে কলা খান রোজ

স্বাস্থ্য ১৭ ফেব্রু. ২০২১
সুস্বাদু
অনিদ্রা দূর
Photo by Aleksandar Pasaric from Pexels

রাত্রিবেলা যথানিয়মে বিছানায় শুতে গেলেন। সারাদিনের কাজের পর ক্লান্ত প্রচণ্ড। ভাবলেন, এক্ষুনি বুঝি ‘ঘুমের দেশে’ পাড়ি দেবেন! কিন্তু সেসব আর হল কই? বারোটা, একটা, দুটো, তিনটে… মোবাইলে ঘড়ি দেখে-দেখে যখন আপনার খানিক নিদ্রা এল, তখন বাজে প্রায় চারটে! পরদিন আবার সকালে সাতটায় উঠে সারাদিনের কাজকর্ম সেরে যখন রাতে শুতে গেলেন, আপনার অবস্থা যে-কে-সেই! দিনের পর দিন যদি এই অবস্থা হয়, এবং ক্লান্ত হয়ে বিছানায় শুলে বা ঘুম পেলেও ঘুম না আসে, তাহলে বুঝবেন আপনি অনিদ্রায় ভুগছেন।

অনিদ্রার ফলে নানারকম সমস্যা হয়, ঘুম না হওয়ার ফলে সারাদিন ঝিমুনির মধ্যেই দিন কাটে, ফলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, মন বসে না কাজেও। অনিদ্রা দূর করতে আপনারা অনেকেই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ঘুমের ওষুধ নিয়ম করে খেয়ে থাকেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ খেলেও তার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বরং দেখা গিয়েছে, কলা কিন্তু অনিদ্রার সমস্যা দূর করতে কাজে লাগতে পারে। আজ আমরা সেই নিয়ে আলোচনা করব।

অনিদ্রা কেন হয়?

বিভিন্ন সময়ে করা সমীক্ষা অনুযায়ী, সারা পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ৩০%, বা কখনও-কখনও তার বেশি মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন। নানাকারণে এই অনিদ্রা হতে পারে, যার মধ্যে অন্যতম আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রা। পেশাদার জগতে কাজের চাপ, নিত্যদিনের প্রতিযোগিতা, উদ্বেগ, স্বপ্নপূরণ না হওয়ার হতাশা, বাস্তব ও স্বপ্নের মধ্যেকার ফারাক, ডিপ্রেশন, যথাসময়ে ঘুমোতে না যাওয়া, রাতে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ঘাঁটার অভ্যেস ইত্যাদির কারণে অনিদ্রা আপনার দৈনন্দিন রুটিনে জাঁকিয়ে বসতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডিপ্রেশন, এমনকী অনেকক্ষেত্রে ক্যানসারের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পায়। আপনার অনিদ্রার সমস্যা থাকলে কলাকে কাজে লাগাতে পারেন।

অনিদ্রা দূর করতে কলা

কলাকে খুবই পুষ্টিকর খাদ্য। ডাক্তাররা বলেন, দিনে একটা করে কলা নিয়ম করে খেলেই আপনি অনেক রোগকে দূরে রাখতে পারবেন! কলায় থাকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি খনিজ পদার্থ এবং ভিটামিন সি, বি৬। একটি মাঝারি আকারের কলা আপনার দৈনন্দিন পটাশিয়ামের চাহিদার প্রায় ৯%-এর যোগান দেয়, এছাড়া কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ দৈনন্দিন চাহিদার ৩৩% ও ম্যাগনেসিয়াম ৮%-এর যোগান দেয়। কলায় থাকা এইসমস্ত খনিজ উপাদান ও ভিটামিন আমাদের স্ট্রেস ও উদ্বেগ কমায়। এছাড়া কলায় থাকা ভিটামিন বি৬ ঘুমের সহায়ক।

পেশির ক্র্যাম্প দূর করে কলা

সারাদিনের খাটাখাটনির পর অনেকেরই পেশির ক্র্যাম্পের সমস্যা দেখা যায়, যার ফলে রাতের ঘুম বিঘ্নিত হয়। এই ক্র্যাম্প বেশিরভাগ সময়েই পটাশিয়ামের ঘাটতির কারণে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের এধরনের ক্র্যাম্প বেশি হয়। কলায় থাকা পটাশিয়াম এই পেশির ক্র্যাম্প দূর করে পেশিকে রিল্যাক্সড রাখে। ফলে ঘুমও আসে সহজে।

অনিদ্রা দূর হবে কীভাবে?

স্ট্রেস ও উদ্বেগজনিত সমস্যা উপশমে কলা ম্যাজিকের মতো কাজ দেয়। কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম এই কাজের সহায়ক। এটি ঘুমোতে যাওয়ার আগে আমাদের রিল্যাক্সড করে এবং স্ট্রেস দূর করে। আমাদের মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস অংশ অ্যাড্রিনালিন হরমোন ও পিটুইটারি গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে। ম্যাগনেসিয়াম এই হাইপোথ্যালামাস অংশকে নিয়ন্ত্রণ করে উদ্বেগ কমায়। ফলে রাতে দ্রুত ঘুমোতে হলে কলা খাওয়া অত্যন্ত দরকার।

অনিদ্রা দূর করে

এছাড়া কলায় থাকা ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরের গামা-অ্যামাইনোবাইট্রিক অ্যাসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি আমাদের শান্তিপূর্ণ ঘুমের সহায়ক। গামা-অ্যামাইনোবাইট্রিক অ্যাসিড মস্তিষ্ক সহ গোটা শরীরকেই শান্ত করে। তাই অনিদ্রার সমস্যা থাকলে কলাকে কাজে লাগাতে পারেন।

কলা সেরাটোনিন ও মেলাটোনিনের উৎপাদন বাড়ায়

কলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৬ থাকে। এই ভিটামিন বি৬ অ্যামাইনো অ্যাসিড ট্রিপটোফ্যানকে সেরাটোনিনে পরিণত করে, যা শরীরের মেলাটোনিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। মেলাটোনিন আমাদের শরীরের বায়োলজিকাল ক্লককে নিয়ন্ত্রণ করে, এবং ঘুমোতে সাহায্য করে। শরীরে মেলাটোনিনের উপস্থিতি কম হলে ঘুমনোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা যায়।

তাহলে দেখতেই পাচ্ছেন, অনিদ্রা দূর করে যাতে ঘুম ভাল হয়, তারজন্য কলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ফল। তবে এক্ষেত্রে আপনি রাতে খাবারের পর একটি করে কলা খেয়ে নিতে পারেন। আপনার যদি ঘুমের সমস্যা থাকে, তাহলে দেখবেন, ঘুমের ওষুধ না খেয়েই কি সুন্দর ঘুম হচ্ছে।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে এড়িয়ে চলুন

মনে রাখবেন, কলা যেমন রাতে ঘুম আসায় সাহায্য করে, তেমনই এমন অনেক খাবার রয়েছে, যেগুলি রাতে খেলে আপনার ঘুম আসতে অবধারিতভাবেই দেরি হতে বাধ্য। এগুলি হল ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়, চিনিযুক্ত খাবার, ফ্যাটজাতীয় খাবার, ভাজাভুজি ইত্যাদি। কারণ এইসমস্ত খাবার হজম হতে দীর্ঘ সময় নেয়, এবং শরীরকে উত্তেজিত করে তোলে ও শরীরে এনার্জির যোগান দেয়। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়। তাই ঘুমনোর সময় এগুলি এড়িয়ে চলাই বাঞ্ছনীয়।