SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

অনিয়মিত পিরিয়ড: কী কী খাবার খেলে উপকার পাওয়া যায়

শারীরিক স্বাস্থ্য ০৩ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
অনিয়মিত পিরিয়ড
© Natalia Melikhova | Dreamstime.com

পিরিয়ডের দিনগুলো কাছে এগিয়ে আসা মানেই আতঙ্ক শুরু হয় প্রায় সব মেয়েদের মনেই। মাসের ওই নির্দিষ্ট ক’টা দিন ঠিকঠাক কাটবে কিনা, বা এবার কতটা পেটব্যথা হবে, এই নিয়ে চিন্তা কাজ করে বেশিরভাগের মধ্যেই। ২০১৭ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ৫০% মহিলা অনিয়মিত পিরিয়ড-এর  সমস্যায় ভোগেন। সাধারণত মাসিকচক্র বা মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল ২৮ দিনের হয়, তা ২৬-৩২ দিনের মধ্যে হলেও তাকে স্বাভাবিক বলে ধরে নেওয়া হয়। কিন্তু পিরিয়ডের সময় বেশি এদিক-ওদিক হলে সেক্ষেত্রে তাকে অনিয়মিত পিরিয়ড বলা হয়ে থাকে। পিরিয়ড অনিয়মিত হলে তাকে নিয়মিত করার জন্য ডাক্তাররা সাধারণত ইস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টেরনযুক্ত কন্ট্রাসেপ্টিভ পিল খেতে বলেন। তবে এমন কিছু খাবার আছে, যেগুলি খাদ্যতালিকায় রাখলে ওষুধ ছাড়াই আপনি অনিয়মিত পিরিয়ডের অবাঞ্ছিত সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। আজ সেগুলি নিয়ে আলোচনা করব।

কেন হয় অনিয়মিত পিরিয়ড?

স্ট্রেস, মানসিক চাপ, আচমকা ওজন বেড়ে বা কমে যাওয়া আপনার পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার একটা বড় কারণ হতে পারে। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ খেলেও তা পিরিয়ডের সাইকেলকে প্রভাবিত করে। জরায়ুর মধ্যে টিউমার, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) ইত্যাদির কারণে পিরিয়ড অনিয়মিত হয়। জরায়ুর ক্যানসার, গর্ভাবস্থায় জটিলতা, গর্ভপাত পিরিয়ডের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। কিছু ঘরোয়া খাবারে এই অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় উপকার পেতে পারেন।

অনিয়মিত পিরিয়ড হলে কফি

কফি খেতে অনেকেই ভালবাসেন। কিন্তু জানেন কি, অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় কফি দারুণ উপকারে দেয়? কফিতে থাকে ক্যাফেইন, যা পিরিয়ড সৃষ্টিকারী ইস্ট্রোজেন হরমোনকে উদ্দীপিত করে। ফলে অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থেকে থাকলে কফি খাওয়া অভ্যেস করতে পারেন। এছাড়া ক্যাফেইন পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়।

ভিটামিন সি যুক্ত ফল

ভিটামিন সি শরীরের পেলভিক রিজিয়নে তাপ উৎপন্ন করে জরায়ুকে সঙ্কুচিত করে। এই সঙ্কোচনের ফলে জরায়ুর আবরণী খসে পড়ে এবং পিরিয়ড নিয়মিতভাবে হয়। এইরকম ফলের মধ্যে অন্যতম হল পেঁপে। পেঁপেতে থাকা ক্যারোটিন ইস্ট্রোজেন হরমোনকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া পেঁপেতে ভিটামিন সি থাকে। খেতে পারেন আম। আম শরীরে ইস্ট্রোজেনের পরিমাণ বাড়ায় এবং প্রোজেস্টেরনের পরিমাণ কমিয়ে দিয়ে জরায়ুকে সঙ্কুচিত করে। তবে আম সারাবছর পাওয়া যায় না। পাতিলেবুও পিরিয়ডের সমস্যায় উপকারে দেয়।

অনিয়মিত পিরিয়ড হলে বাদাম

আমন্ড এবং আখরোট এক্ষেত্রে আপনার ভরসা হতে পারে। এইসব বাদামে প্রচুর ফাইবার ও প্রোটিন থাকে, যা শরীরের আভ্যন্তরীণ তাপ বৃদ্ধি করে। এর ফলে পিরিয়ড নিয়ন্ত্রিত ও নিয়মিত হয়। আপনার পিরিয়ডের ঠিক আগে এই বাদামগুলি খান। হরেক উপকারের পাশাপাশি আমন্ড এবং আখরোট জননক্ষমতা বৃদ্ধিরও সহায়ক।

খেজুর

শীতে ঠান্ডার সময় খেজুর শরীরকে গরম রাখে বলে অনেকেই ৩-৪ টে খেজুর খেয়ে থাকেন। যে-সমস্ত মহিলারা অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরাও কিন্তু এইকারণে খেজুরকে খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। রাতে শুতে যাওয়ার আগে উষ্ণ দুধে ভিজিয়ে খেজুর খান, দেখবেন অনিয়মিত পিরিয়ডের হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

হলুদ

অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যায় হলুদের ব্যবহার অতি প্রাচীন। চিনে প্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতিতে পিরিয়ডের ক্ষেত্রে হলুদকে ব্যবহার করা হত। হলুদ জরায়ু এবং পেলভিক রিজিয়নে রক্ত সঞ্চালনকে উদ্দীপিত করে। এছাড়া পিরিয়ডের আগে হলুদ জরায়ুকে প্রসারিত করে। তাই অনিয়মিত পিরিয়ডের টেনশন থেকে মুক্তি পেতে চাইলে নিয়ম করে গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে খান, পিরিয়ড নিয়মিত হবে।

গুড়

শরীরকে গরম রাখতে ডাক্তাররা শীতে গুড় খেতে বলে থাকেন। আগে পিরিয়ড কম হলে গুড় খেতে পরামর্শ দেওয়া হত। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, পিরিয়ড নিয়মিত করতেও গুড় দারুণ কাজে লাগে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুড় অন্যতম। ডাক্তাররা তাই পিরিয়ডের সময় অল্প পরিমাণে গুড় খেতে বলে থাকেন। যাদের অত্যধিক পেট ব্যথা করে, তাঁরাও গুড় খেলে পেট ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পাবেন।

আদা ও মধু

আদা আর একটি প্রাকৃতিক উপাদান যা পিরিয়ডের স্বাভাবিকত্ব বজায় রাখতে সাহায্যে করে। রান্নায় আদা ব্যবহারের পাশাপাশি আদা চা খাওয়া অভ্যেস করুন। তবে হ্যাঁ, এই চায়ে চিনির বদলে মধু দিলে উপকার পাবেন। কারণ মধু শরীরকে আরাম দেয়ে এবং হরমোনের সামঞ্জস্য বজায় রাখে। মধু আদার সঙ্গে খেলে তা পিরিয়ডকে নিয়মিত করতে সাহায্য করে। তাই রোজকার চায়ে এবার থেকে মধু এবং আদা মিশিয়ে খান।

অ্যালোভেরা

অনিয়মিত পিরিয়ডের সময় অ্যালোভেরার শুনে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন? অ্যালোভেরা শরীরের নানা হরমোন নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং পিরিয়ডকে নিয়মিত করতে সাহায্য করে। প্রত্যেকদিন নাস্তার আগে টাটকা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে একচামচ মধু মিশিয়ে খান। দেখবেন কাজে দিচ্ছে।

এছাড়া খাদ্যতালিকায় জোয়ান, পার্সলে, দারচিনি ইত্যাদি রাখতে পারেন।

করোনাকালীন পরিস্থিতিতে লকডাউনে বাড়ি বসে কাজও পিরিয়ডের ক্ষেত্রে নানা অবাঞ্ছিত সমস্যা ডেকে আনছে। নিয়ম করে ব্যায়াম না করলে বা মোটা হওয়ার প্রবণতা থাকলে তা পিরিয়ডের সময় পেটে ব্যথা, অনিয়মিত পিরিয়ডের সম্ভাবনা বাড়ায়। তাই অনিয়মিত পিরিয়ডের সমস্যা থাকলে রোজ ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করুন। ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে খাওয়াদাওয়া পরিমিত করুন। এবং উপরের খাবারগুলি নিয়ম করে খান। দেখবেন, দ্রুত উপকার পাচ্ছেন, এবং অনিয়মিত পিরিয়ডের টেনশন থেকেও মুক্তি পাচ্ছেন।