অনুপ্রাণিত হতে চাইলে মনে রাখুন ৭ উপায়

ID 144474524 © Deskyart | Dreamstime.com
ID 144474524 © Deskyart | Dreamstime.com

নিঃসন্দেহে, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অনুপ্রেরণা দান করেন। তিনি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক ক্ষমতা দিয়ে মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। বিভিন্ন ক্রিয়ার মাধ্যমে বা উপায় অবলম্বন করে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব। এখানে আমরা সংক্ষিপ্তভাবে কিছু অনুপ্রেরণা বৃদ্ধির উপায় উল্লেখ করব। আশা করি, আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এগুলি অর্জনের তওফিক দান করবেনঃ

১) একাগ্রতা

সৃষ্টিকে ভুলে কেবলমাত্র সৃষ্টিকর্তার চিন্তার মাঝে নিবদ্ধ হওয়া একজন ব্যক্তির মাঝে আন্তরিকতা সৃষ্টি করতে পারে কারণ এর দ্বারা সে বুঝতে পারে যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান, সবকিছুই দেখেন। ইবনুল কাইয়্যিম(রহঃ) বলেছেনঃ
“সঠিক চিন্তাধারা মানুষের ধর্মীয় চেতনাকে বৃদ্ধি করে; সঠিক চিন্তা না থাকলে কেউ তার উদ্দেশ্য বুঝতে পারে না”

২) সত্যবাদিতা

যে ব্যক্তি তার সংকল্প ও কর্মে সত্যবাদী, সে নিঃসন্দেহে অনুপ্রাণিত ব্যক্তি; এই গুণ তাকে উভয় জগতেই আনন্দ উপভোগ করাবে। দৃঢ়তার সাথে সত্যবাদিতা বিনা দ্বিধায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে; এবং এর দ্বারা একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো সহজ হয়।

৩) জ্ঞান

যে বিশ্বাস করে যে, জ্ঞান ও অজ্ঞতা উভয়টিই সমান তার মাঝে কোনো অনুপ্রেরণা নেই। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জ্ঞান কোনো ব্যক্তির চালনাকে উত্সাহ দেয়, তাকে অজ্ঞতা ও অন্ধ অনুকরণের অপমান থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার উদ্দেশ্যকে শুদ্ধ করে। তদুপরি, জ্ঞান একজনকে শয়তানের চক্রান্ত এবং বিভ্রান্ত করার কৌশল সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।

৪) মনোযোগ

এই গুণটি একজন মানুষকে অসতর্কতা ও অজ্ঞদের কর্ম থেকে বিরত রাখে, শিথিলতা থেকে রক্ষা করে এবং তার প্রেরণাকে এমন পরিমাণে বাড়িয়ে তোলে যে, সে জান্নাতে যাওয়ার মত উপযোগী হয়ে যায়। যে ব্যক্তি অনেক উচ্চে উঠতে চায় তাকে অবশ্যই নির্বোধদের সঙ্গ পুরোপুরি এড়িয়ে চলতে হবে, নয়ত এর জন্য পরবর্তীতে কেবল আফসোসই করতেই হবে।

৫) সিদ্ধান্ত গ্রহণে অবিচলতা

সিদ্ধান্তহীনতা একজন মানুষকে অনেক নিয়ামত থেকে বঞ্চিত করে। কেবলমাত্র একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ব্যক্তিই তার লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়; অতএব, কোনো বিষয়ে অনিশ্চিত ও উদ্বিগ্ন হবেন না এবং নিজেকে সন্দেহের মাধ্যমে ধ্বংস করবেন না। বরং এর পরিবর্তে আল্লাহ যা বলেছেন তা বিবেচনা করুনঃ
“অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ তা’আলার উপর ভরসা করুন” (আল কুরআন-৩:১৫৯)
“অতঃপর যুদ্ধের সিদ্ধান্ত হলে তারা যদি আল্লাহর নিকট দেয়া অঙ্গীকার পূর্ণ করত, তবে তা তাদের জন্য কল্যাণকর হত” (আল কুরআন ৪৭:২১)

৬) আত্ম-সচেতনতা এবং নিজের মূল্য বোঝা

এর অর্থ এই নয় যে, আমাদেরকে অহংকারী বা গর্বিত হতে হবে; বরং আমাদেরকে বুঝতে হবে যে, একজন মানুষ হিসাবে আমরা মহান আল্লাহ তা’আলার অন্যান্য সমস্ত সৃষ্টির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সুতরাং সৎকর্ম, জ্ঞান, অধ্যবসায় এবং গবেষণার মাধ্যমে নিজেকে সত্তাগতভাবে পরিশুদ্ধ করে, নিজের মনকে আলোকিত করে, এবং নিজের আত্মার মধ্যে উচ্চাভিলাষ এবং আভিজাত্যকে জাগ্রত করে নিজেকে উঁচু করে তোলার এবং সার্থকতা বৃদ্ধিতে আগ্রহী হতে হবে।
মনে রাখবেন, ফেরেশতারা পর্যন্ত মানুষকে সিজদা করেছিলেন এবং তাদেরকে আল্লাহ আমাদের সেবায় নিয়োজিত করেছেন। সকল ফেরেশতা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে ও হুকুম পালনে মশগুল। কিন্তু আল্লাহ তাদের প্রশংসা না করে আমাদের মধ্যে কিছু মানুষের প্রশংসা করছেন যারা কিছুক্ষণ তাঁর ইবাদাত করার জন্য বিছানা ত্যাগ করে। তিনি বলেনঃ
“তাদের পার্শ্বদেশগুলি বিছানা থেকে আলাদা থাকে” (আল কুরআন-৩২:১৬)
কত ফেরেশতা আছেন, যারা কখনও খাবার বা পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করেন না। কিন্তু ফেরেশতাদের প্রশংসা না করে মানুষ যখন কিছুক্ষণ খানাপিনা থেকে বিরত থাকে, তখন মহান আল্লাহ তা’আলা মানুষের প্রশংসা করে বলেনঃ
“রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর কাছে মেশকের চেয়েও বেশি প্রিয়”
সুতরাং আসুন আমরা আল্লাহর কাছে নিজেদের মূল্য বুঝি।

৭) দু’আ

আমি নিবন্ধের শেষে এই বিষয়টি উল্লেখ করা পছন্দ করেছি কারণ এটি এই সমস্তকিছুর মধ্যে শ্রেষ্ঠ; নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
“মা্নুষের মধ্যে সর্বাধিক অক্ষম ঐ ব্যক্তি, যে দু’আ করে না”
নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেনঃ
“দু’আর চেয়ে অধিক সম্মানজনক আর কোনো আমল নেই”
এছাড়া অন্য হাদিসে এসেছেঃ
“দু’আ হল সমস্ত নেক আমলের মগজ”।
সুতরাং, আল্লাহকে নিজের করে পেতে আল্লাহর কাছে সর্বাবস্থায় দু’আ করতে থাকুন। তিনি আপনার সকল সমস্যাকে দুর করে দেবেন। এতে আপনার প্রেরণা বৃদ্ধি পাবে।
আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে এই সকল গুণ অর্জন করার তওফিক দান করুন। আমীন