অন্তর পরিশুদ্ধ রাখার সাত উপায়

আকীদাহ Contributor
মতামত
অন্তর পরিশুদ্ধ
to 25446913 © Wlad74 | Dreamstime.com

অন্তরই হল শরীরের নিয়ন্ত্রক। অন্তর যদি পরিচ্ছন্ন থাকে, তবে সমস্ত শরীরের কার্যকলাপও সঠিক থাকবে। পক্ষান্তরে অন্তর যদি অসুস্থ হয়, তবে শরীরের সব ব্যবস্থাপনাও বিনষ্ট হবে। তাই সর্বাগ্রে আত্মাকে সংশোধন করা প্রয়োজন। লোহা কিছুদিন মাটিতে পড়ে থাকলে যেমন মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে যায়।

তদ্রূপ আত্মাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা না হলে আত্মাও মরিচাপ্রাপ্ত হয়ে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। দুর্বল অন্তর নয়ে এভাবেই মানুষ সৎকর্ম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একারণেই নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“লোহার মতো আত্মাও মরিচাপ্রাপ্ত হয়।” (তিরমিযী)

কলব (অন্তর) অর্থ দিক পরিবর্তন করা, উল্টানো, ফেরানো ইত্যাদি। কলব দ্রুত পরিবর্তনশীল বলে অন্তরকে ‘কলব’ নামে নামকরণ করা হয়েছে। ব্যক্তি তার অন্তরকে যেদিকে পরিচালিত করে, তা সেদিকে পরিচালিত হয়।

মানব দেহের প্রধান বস্তু হলো অন্তর বা কলব। এ কারণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“মানবদেহে এমন একটি গোশতের টুকরো আছে, যা সুস্থ থাকলে গোটা দেহ সুস্থ থাকে। আর তা অসুস্থ হলে গোটা দেহ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তার নাম হল কলব (অন্তর)” (বুখারি ও মুসলিম)

এ হাদিস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, কলব বা অন্তরই দেহের প্রধান বস্তু। আর এ কারণে কলবকে পরিচ্ছন্ন রাখা অপরিহার্য। আরেক হাদিসে আছে, “আল্লাহ তা’আলা মানুষের বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও সম্পদের দিকে তাকান না, বরং তিনি বান্দার অন্তর ও আমলের দিকে তাকান।” (মুসলিম)

অন্তর পরিচ্ছন্ন রাখার উপায়

অন্তরকে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর একে পরিচ্ছন্ন রাখার কিছু উপায় নিম্নে বর্ণিত হলো-

আল্লাহর যিকির

যিকির অর্থ সদা-সর্বদা আল্লাহকে স্মরণ করা। আল্লাহ তা’আলা এরশাদ করেন, “যারা ঈমানদার তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারাই প্রশান্তি লাভ করে; জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্তি লাভ করে।” (আল কুরআন-১৩:২৮)

আখিরাতের চিন্তা

আখিরাতের চিন্তা মানুষকে গুনাহমুক্ত রাখতে সাহায্য করে, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে। আল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি রাতে সিজদাবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার রবের রহমতের আশা করে সে কি তার ন্যায় যে তা করে না?” (আল কুরআন-৩৯:৯)

কুরআন তেলাওয়াত

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন, “আমি তোমাদের জন্য দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যত দিন সেগুলি আঁকড়ে ধরে রাখবে, ততদিন তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। একটি হলো আল্লাহর কালাম(কুরআন) এবং অন্যটি হল হাদিস।” আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন,

“হে মানবজাতি! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এসেছে এক নসিহত। যা অন্তরের সব ব্যাধির ওষুধ এবং মুমিনদের জন্য পথ প্রদর্শক ও রহমত।’ (আল কুরআন-১০:৫৭)

হাদিসের পঠন ও পাঠন

হাদিস হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী। আর তিনি নিজের থেকে কিছুই বলেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ না বলেন। হাদিস হলো আল্লাহর কালাম কুরআনের ব্যাখ্যা। হাদিস অধ্যয়ন ছাড়া অন্তরকে পরিশুদ্ধ করা সম্ভব নয়। নবীজীর কর্ম ও চারিত্রিক গুণাবলির প্রতিচ্ছবি হলো হাদিস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন ছিলেন, তাঁর মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, মু’জিযা ইত্যাদি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে হাদিসে বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

“রাসুল তোমাদেরকে যা দেন, তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদেরকে বিরত রাখেন, তা থেকে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো।” (আল কুরআন-৫৯:৭)

গুনাহ বর্জন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মানুষ কোনো গুনাহ করলে তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। তাওবা করলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।’ (তিরমিযী)। সুতরাং, অন্তরকে পরিশুদ্ধ রাখতে সর্বপ্রকার পাপাচার ও অশ্লীল কর্ম থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য।

কুরআন-সুন্নাহয় বর্ণিত আত্মশুদ্ধির পদ্ধতি অবলম্বন করা

আত্মশুদ্ধির জন্য পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে কুরআনে বলা হয়েছে,

“হে মুমিনরা! রাসুল যখন তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহবান করেন যা তোমাদের প্রাণবন্ত করে, তখন তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের ডাকে সাড়া দেবে। জেনে রেখো! আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যবর্তী হয়ে থাকেন।’ (আল কুরআন-৮:২৪)

তাওবা-ইস্তেগফার করা

গুনাহ হয় না এমন কোনো মানুষ এ দুনিয়াতে নেই। তবে গুনাহগারদের মধ্যে সেই উত্তম যে নিজের গুনাহ মোচন করার জন্য স্বীয় মালিকের কাছে তাওবা ইস্তেগফার করে। আর গুনাহের জন্য তওবা করলে আল্লাহ গুনাহ মাফ করে দিয়ে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে দেন। আল্লাহ বলেন,

“আর তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে (গুনাহের জন্য) তওবা করো। এতে আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।” (আল কুরআন-২৪:৩১)