‘অন্যকে বিচার করার আগে তুমি নিজেকে বিচার করো’

আমরা ছোটোবেলা থেকে শুনে আসছি যে কারো পরিস্থিতি না জেনে তাকে বিচার করা উচিত নয়। ইংরেজিতে একটা কথা আছে “Don’t Judge A Book By Its Cover”, এই কথাটি কতটা ইসলামসম্মত? ইসলাম কি কাউকে বিচার করার স্বাধীনতা দেয়? আসুন জেনে নেওয়া যাক।

অন্য মানুষ সে মুসলিম হোক বা অমুসলিম, তার কোনো কাজেই আপনি তাকে বিচার করতে পারেন না। আল্লাহ আপনাকে সে অধিকার দেননি এবং ক্ষমতাও নেই আপনার কাউকে বিচার করার।

আপনি যদি সামনে থেকে কাউকে কোনো গুণাহ্ করতে দেখেন তাহলেও তাকে বিচার করার আপনির এক্তিয়ারে নেই। আল্লাহতায়ালা বলেছেন, অন্যকে বিচার করার আগে তুমি নিজেকে বিচার করো। তুমি কি সর্বদোষ থেকে মুক্ত? তুমি কি জানো তোমার সামনের ব্যক্তি কোন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বা তার মানসিক অবস্থা কী? তুমি তার জায়গায় থাকলে এর চেয়েও ঘৃণ্য কিছু করতে না কি?

মহম্মদ (সাঃ)-এর ভাষায় “আল্লাহ্ প্রতিটি মুসলিমকে পবিত্র ভাবে সৃষ্টি করেছেন, তাদের নিয়ে লেশমাত্র কুচিন্তাও অনুপযুক্ত”

যদি কোনো মুসলমান ব্যক্তি আপর এক ব্যক্তিকে নিঃশব্দে মনে মনেও বিচার করে তাহলেও বিচারক ব্যক্তিটি হারাম কাজ করছেন। এক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের অপরিপক্ক মস্তিষ্কের প্রমাণ দেয়, কারণ অন্যের বিচার করার মতো ভুল বোকারাই করে। অন্যের বিচার করা পবিত্র কোরআন অনুযায়ী ‘আকল’-এর অভাব থেকে হয়।

তাই কেউ আপনার সামনে যতই গুণাহ্গারের কাজ করুক না কেন, নিজেকে সংযত রাখুন। আবার এটাও ভাবতে পারেন যে অনেক বিষয়ে আপনিও ভুল কাজ করেছেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তার জন্য যদি কেউ আপনার বিচার করে তাহলে আপনার কেমন লাগবে!

একটা বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে বিচার করা এবং উপদেশ দেওয়ার মধ্যে পার্থক্য আছে। মনে করুন আপনি একটা কাজ করলেন যা ভুল বা অসঙ্গত সেক্ষেত্রে যদি কোনও ব্যক্তি আপনার ভুল ঠিক করতে বলে বা সেই সম্বন্ধীয় কোনও উপদেশ দেয় সে কিন্তু আপনার বিচার করছে না। উল্টে আপনি যাতে সঠিকটা বেছে নিতে পারেন সেই সাহায্য করছেন। বিচার আর উপদেশের মধ্যে এই পার্থক্যটা বুঝে নিতে হবে। মনে রাখবেন আপনার আত্মীয় বন্ধু এবং অন্যান্য যারা আপনাকে ভালোবাসে তারা কিন্তু আপনাকে বিচার করে না, উপদেশ দেয়। আপনার বিচার তারা করে যারা আপনার উন্নতি চায় না।