অপচয় এবং বর্জ্য কম করুন এ বারের রমজানে

vegetable market
ID 4012552 © Simon Gurney | Dreamstime.com

ইসলামে অপচয় ও অপব্যয় সম্পূর্ণ হারাম। সূরা বনী ইসরাইলের ২৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।’ কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা খাও এবং পান করো এবং কোনো অবস্থাতেই অপচয় করো না, আল্লাহতায়ালা কখনোই অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না (সূরা আরাফ, আয়াত ৩১)। আমিরুল মোমেনীন হযরত আলী (আ) বলেছেন, প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যয়ই হলো ইসরাফ বা অপচয়।

রোজায় ইফতার-সেহরির মাধ্যমে মানব জাতিকে পরোপকারে অনুপ্রাণিত করা হয়েছে। উত্সাহিত করা হয়েছে নিঃস্বদের দানে। প্রকৃত রোজাদার নিজে ইফতার করবে, অন্যকেও করাবে। অসহায় দুঃখীদের মুখে হাসি ফোটাবে। রমজানে বেশি খাবার খেলে আল্লাহ কোনো হিসাব নেবেন না, এ ধরনের একটা কুসংস্কার প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলাম অতিভোজ কখনোই সমর্থন করে না। এমনও হয়েছে, ঘরে খাবার নেই, রাসূল (সা) না খেয়ে থেকেছেন। তিনি যখন আহার করতেন, আহার শেষে তিনবার আঙুল চেটে খেতেন এবং বলতেন, তোমাদের খানার বাসন থেকে কিছু পড়ে গেলে উঠিয়ে পরিষ্কার করে খেয়ে নাও, তা শয়তানের জন্য ছেড়ে দিও না। (আবু দাউদ-৩৮৪৫)।

জেনে রাখুন,  অতিরিক্ত ভোজ ইসলামে সম্পূর্ণ নাজায়েজ। পেটের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি, এক ভাগ খালি রাখার কথা বলা হয়েছে। রাসূল (সা.) কয়েকটি ভেজা খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। যদি ভেজা খেজুর না থাকত, তবে সাধারণ খেজুরই গ্রহণ করতেন। যদি তাও না থাকত, তবে কয়েক ঢোক পানিই হতো তাঁর ইফতার। (তিরমিযি শরীফ)।

তাই এ বছর রমজানে যথাসম্ভব কম অপচয় করুন। যেটা দরকার নেই সেটা একেবারেই কিনবেন না। যেটা দরকার সেটা কম কিনবেন। জিনিস পুনরায় ব্যবহার করুন। ফেলে না দিয়ে রিসাইকল করুন। শহরবাসীর মধ্যে রোজার দিনে ইফতার আয়োজনে আড়ম্বর করতে দিনভর প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যায়। যদিও এসব আয়োজনে দরিদ্র রোজাদারদের অংশগ্রহণ একেবারেই কম থাকে। দেশের আলেমরা ইফতারকে কেন্দ্র করে এই ধরনের প্রবণতার সমালোচনা করেছেন। তারা বলছেন, ইসলামে ইফতারের অনেক মর্যাদা রয়েছে। তাই আয়োজনের চেয়ে তাকওয়া অর্জনের দিকেই রোজাদারকে মনোযোগী হতে হবে।

এদিকে রমজান মাসে কেবল খাবার-দাবারেই নয়, অনেক কিছুতেই সংযম থাকে না বহু মানুষের। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে গৃহস্থালি বর্জ্য।বর্তমানে চারদিকে ছেয়ে গেছে ওয়ান টাইম ব্যবহার্য বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্যে। স্ট্র থেকে শুরু করে গ্লাস-প্লেট পর্যন্ত পাওয়া যায় ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের। এগুলো একবার ব্যবহার করেই আমরা ফেলে দিই। তবে ওয়ান টাইম ব্যবহার্য পণ্যগুলোর বিকল্প আপনি সহজেই পাবেন। প্রথমেই চিন্তা করুন এগুলো একেবারেই ব্যবহার না করার। এর মানে হলো ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যগুলো ক্রয় করা, ব্যবহার করা ও ফেলে দেয়া কমিয়ে আনা, যাতে করে ভূমি দূষিত না হয়। প্লাস্টিক পণ্য যদি কিনতেই হয়, তবে এমন পণ্য কেনার চেষ্টা করুন, যেগুলো আবার ব্যবহার উপযোগী। পুনর্ব্যবহারকে শেষ বিকল্প হিসেবে রাখুন।

গৃহস্থালি বর্জ্যের অন্যতম একটা উৎস হলো খাদ্য প্যাকেজিংয়ের বর্জ্য। খাদ্য ও ফলের মাধ্যমে বাড়িতে প্রচুর পরিমাণে বর্জ্য আসে। অথচ আপনি কিন্তু খুব সহজেই প্যাকেজিং ছাড়াও ফল বা সবজি কিনে আনতে পারেন। আপনি বাজারে গিয়ে প্রতিটা ফল ও সবজি কেনার সঙ্গে বিক্রেতা একটি করে প্লাস্টিকের ব্যাগ ধরিয়ে দেন। অথচ আপনি যদি একটা কাপড় বা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য ব্যাগ নিয়ে বাজারে যেতেন, তাহলে এতগুলো প্লাস্টিক আপনার বাড়িতে আসত না। আপনি যে খাবারগুলো প্রতিনিয়ত কিনতে চান, তেমন খাবারের স্থায়ী কিছু পাত্র সংরক্ষণ করুন এবং খাবারগুলো কিনতে যাওয়ার সময় সেসব পাত্র নিয়ে যান। ছোট ছোট এ অভ্যাসই একদিন আপনার বাড়িকে প্লাস্টিকমুক্ত করে দিতে পারে।

বাজারে বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিংয়ে দুধ বিক্রি হয়। এর মধ্যে কয়েকটি আছে প্লাস্টিক ব্যাগ, যেগুলো পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ নেই। আবার কিছু ক্ষেত্রে বোতল বা কার্টনে বিক্রি হয়। এই প্লাস্টিক পণ্যগুলো ব্যবহার শেষে আপনি ফেলে দেন এবং সেগুলো গিয়ে পড়ে ভূমিতে। এটা দীর্ঘকাল ধরে ভূমিকে অনুর্বর করে রাখতে পারে। ভূমিকে বাঁচাতে আপনি পুরনো দিনের দুধের প্যাকেজিংয়ে ফিরে যেতে পারেন। ব্যবহার করতে পারেন দুধের কাচের বোতল। কাচের এ বোতল নিয়ে গিয়ে দোকান থেকে আপনি দুধ ঢেলে নিয়ে আসতে পারেন। সে ঝামেলায় না গেলেও বাজারে পাওয়া রিসাইকল যোগ্য প্লাস্টিকের বোতল বা কার্টনজাত দুধ কিনতে পারেন। পরবর্তী সময়েও এগুলো আপনি ব্যবহার করতে পারবেন। বড় শহরগুলোয় এটা ছোট একটা উদ্যোগ হতে পারে, তবে আপনি আশা করতেই পারেন যে আপনার দেখাদেখি এ প্রবণতা অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়বে।