অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা গঠন করবেন কী উপায়? (২য় পর্ব)

Muslim friends greet reach other, happy, kindness
© Rawpixelimages | Dreamstime.com

গত পর্বে আমরা পড়েছি যে, অনেক সময়ে আমরা কাউকে সাহায্য করতে পারব জেনেও দ্বিধা ঝেড়ে সে পথে পা বাড়াতে পারি না। কারণ, আমরা ব্যর্থ হতে ভয় পাই। যদি তাকে সাহায্য করতে গিয়ে আমার কোনো বিপদ হয় এই মনোভাবের কারণে আমরা সামনে অগ্রসর হতে ভয় পাই। এই পর্বে আমরা সহযোগিতা করার মানসিকতা সম্পর্কে অন্যান্য দিকগুলিও জানব।

৪) আলাদা কিছু করুন

আমরা যখন একই জিনিস বারবার করতে থাকি তখন ভিন্ন কোনো ফলাফলের আশা করতে পারি না। আপনি যদি সারাটা জীবন জনসাধারণের সামনে কথা বলতে ভয় পান তবে এটিকে কাটিয়ে উঠতে আজই একটি উদ্দেশ্য স্থির করুন। কর্মক্ষেত্রে বা আপনার সমাজের মাঝে বা অন্তত বন্ধু বা আত্মীয়দের মাঝে কোনো কিছু উপস্থাপন করার চেষ্টা করুন।

আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে কাউকে কিছু না বলে বা না জানিয়ে কিছু লিখতেই থাকেন তবে, আপনার লেখাগুলি আজই শেয়ার করুন। হতে পারে তা শুধু আপনার পরিচিত কারও সাথে বা অন্তত এমন কারও সাথে যিনি আপনাকে উত্সাহিত করবেন। মোদ্দা কথা হল, আপনি এমন কিছু প্রকাশ করুন যা আপনার মাঝে লুকায়িত আছে এবং সকলকে তা জানিয়ে আপনার ভয়কে দূর করুন।

৫) পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা রাখুন

অনেক সময় আমাদের ভয়ের মূল কারণ হয় পরিস্থিতি সম্পর্কে ভিন্ন ধারণাপোষণ। আমাদের ভয়ের ভিত্তি হচ্ছে ভুল ধারণা। কিন্ত এই ভুল ধারণাগুলো শুধরে নেয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা প্রকৃত জ্ঞান অর্জন করতে পারি।

নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করার মাধ্যমে ভয়ের চিন্তাভাবনাগুলোর প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করার চেষ্টা করুনঃ

-আমার ধারণা যদি সত্য হয় তবে পরিস্থিতি কতোটা খারাপ হবে?

-ভয়কে যদি সঠিকভাবে অনুধান করা যায় তবে প্রকৃতপক্ষে কি ঘটতে পারে?

-ভয় থাকা সত্ত্বেও কাজটি করলে ফলাফল কি দাড়াতে পারে?

যখন আপনি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুজে পাবেন, তখন আপনার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা সহোচরের সাথে সেগুলি নিয়ে আলোচনা করুন। আপনার অবস্থার উপর ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গীর মতামত আপনাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পেতে সাহায্য করবে। এতে আপনি প্রকৃত অবস্থা অনুধাবন করতে পারবেন।

৬) আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখুন

আল্লাহ তা’আলা বলেন, “নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে, নামায প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং যাকাত প্রদান করেছে, তাদের জন্যে তাদের তাদের পালনকর্তার নিকট মহাপুরষ্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না। (আল কুরআন-২:২৭৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার উপর যদি আপনার ভরসা থাকে তবে আপনি যে কোনো বাধা অতিক্রম করতে পারবেন। এ ব্যাপারে আল্লাহ আমাদের আবারো নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছেন,

“যদি আল্লাহ তোমাদের সহায়তা করেন, তাহলে কেউ তোমাদের উপর বিজয়ী হতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমাদের সাহায্য না করেন, তবে এমন কে আছে, যে তোমাদের সাহায্য করবে? আর আল্লাহর ওপরই মুমিনদের ভরসা করা উচিত।” (আল কুরআন-৩:১৬০)

হৃদয়ের গভীরতা থেকে যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও একক পালনকর্তা আপনার সর্বোচ্চ কল্যাণ চান, তবে আপনার সাথে যা-ই ঘটুক না কেন তাতে আপনি মোটেও শঙ্কিত হবেন না। যখনই আপনি বুঝবেন যে ফলাফল যা-ই ঘটুক না কেন, আপনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিচ্ছেন, তখন তা আপনি প্রশান্তচিত্তেই মেনে নিবেন। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, আল্লাহ তা’আলা আপনার সাথে যা কিছু করছেন তা-ই আপনার জন্য সর্বাধিক কল্যাণকর। এই জ্ঞানের মাধ্যমে পরিতৃপ্ত হওয়ার চাইতে উত্তম আর কোনো কিছু নেই।

যখন আপনি ভয়কে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন, তখন সময় নিয়ে তা উপভোগ করুন! এটি আপনার মনোবলকে দৃঢ় করবে এবং আপনি অনুভব করবেন যে ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার সাহস রাখা একটি সন্তোষজনক অভিজ্ঞতা।

তাই, দুঃসাহসী হোন। প্রকৃত মুসলিম হোন।

সকলের জন্য সাহায্যকারী হোন

এতক্ষণ আমরা কিভাবে ভয়কে জয় করতে হয় সে ব্যাপারে আলোচনা করলাম। কারণ, অন্যের সাহায্যের পথে বাধা ভয় থেকেই আসে বলে আমরা ১ম পর্বে আলোচনা করেছি। এখন যদি আপনি ভয়কে জয় করতে পারেন তবে অপর ভাইকে সহযোগিতা করার জন্য আপনার ও তার মাঝে কোনো বাধা থাকবে না। তাই আজই নিজের মনোভাবকে পরিবর্তন করুন। অপরকে সাহায্য করে আমরা নিজেদের জন্য এই পৃথিবীকে এমন একটি স্থানে পরিবর্তিত করতে পারি যেখানে না থাকবে কোনো জুলুম আর না থাকবে কোন মাজলুম।

পরিশেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিস উদ্ধৃত কর শেষ করতে চাই। নবীজী বলেন, “তোমার ভাইকে সাহায্য করো। সে জালিম হোক অথবা মাজলুম।” এ কথা কোনো একজন সাহাবী বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! মাজলুমকে সাহায্য করব এ বিষয়টি বুঝে আসল; কিন্তু জালিমকে কিভাবে সাহায্য করব?” তিনি বললেন, “তুমি তাকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে।”