অপরকে সহযোগিতা করার মানসিকতা গঠন করবেন কী উপায়?

help each other
Mengejar pahala Ramadan ketika uzur © Jinaritt Thongruay - Dreamstime.com

প্রথম পর্ব 

দুনিয়ার জীবনে আমাদের জন্য পরীক্ষা হল আমরা কীভাবে এই দুনিয়াকে বসবাসের জন্য আরও উপযোগী করে গড়ে তুলতে পারি। পরস্পরকে দ্বীনি ও দুনিয়াবী বিষয়ে সহযোগিতা করে কিভাবে মানবতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারি।

তবে অপরকে সহযোগিতা করার মনোভাব কখনও এমনিতেই গড়ে উঠবে না। এজন্য আমাদেরকে সাহস সঞ্চার করতে হবে। কাউকে সহযোগিতা করতে গিয়ে বিভিন্ন রকমের জুলুমের বিরুদ্ধাচরণ করতে হবে। জালেমদের রোষানলে পড়তে হবে। এজন্য আমাদেরকে অবশ্যই সাহস সঞ্চার করতে হবে এবং আরও ভাল বিশ্ব গড়ার কারিগর হতে হবে। কারণ এটি আমাদের কাজ। হ্যাঁ, এটি আমার কাজ, আপনার কাজ, আপনার প্রতিবেশীর কাজ এবং শেষ অবধি প্রত্যেকের কাজ।

“আর তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদেরকে যমীনের খলীফা বানিয়েছেন এবং তোমাদের কতককে কতকের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা প্রদান করেছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। নিশ্চয় তোমার রব দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (আল কুরআন-৬:১৬৫)

আপনার দায়িত্ব কতটুকু?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তিই একজন রাখাল এবং সবাই তাদের অধীনস্থদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল। একজন ব্যক্তি তার নিজের পরিবারের জন্য রাখাল এবং সে তাদের উপর দায়িত্বশীল।” (বুখারি ও মুসলিম)

সুতরাং, আপনি যেই হন না কেন, নিজেকে যতই দুর্বল মনে করে না কেন, কোনো না কোনো পর্যায়ে আপনার দায়িত্ব আছে। আর সেই দায়িত্বের ব্যাপারে সচেতন না হলে আপনাকে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহি করতে হবে।

এ কারণে আপনার প্রতিভা, আপনার দক্ষতা, আপনার জ্ঞান এবং আপনার অভিজ্ঞতাগুলিকে চিহ্নিত করুন। আপনার আশেপাশের মানুষকে আপনি কিভাবে সাহায্য করতে পারবেন সে ব্যাপারে একটি নকশা তৈরী করুন।

কিভাবে সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলবেন

কাউকে সযোগিতার জন্য মনোভাব গড়ে তুলতে আপনি কি এখনও শঙ্কিত, অনিশ্চিত বা উদ্বেগ বোধ করছেন? তাহলে নিম্নের পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন যাতে আপনিও হতে পারেন সহযোগীদের অন্যতম একজন।

১) ভয়কে জয় করুন

যে কোনো পরিবর্তনই কঠিন। আর জীবনের বড় কোনো দিকের পরিবর্তন করা আরও কঠিন। আর এই পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা আমাদের ভয়।

আপনি যদি চান আপনার জীবনের গতি পরিবর্তন করবেন, তবে বর্তমান থেকেই পরিবর্তন শুরু করতে হবে। আর এই পরিবর্তনের জন্য কিছু কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হবে। কষ্ট ও ঝুঁকি ছাড়া কোনো বড় সফলতা অর্জন করা যায় না।

অনেক সময়ে আমরা কাউকে সাহায্য করতে পারব জেনেও দ্বিধা ঝেড়ে সে পথে পা বাড়াতে পারি না। কারণ, আমরা ব্যর্থ হতে ভয় পাই। যদি তাকে সাহায্য করতে গিয়ে আমার কোনো বিপদ হয় এই মনোভাবের কারণে আমরা সামনে অগ্রসর হতে ভয় পাই। অনেকসময় আমরা ভয় পাই কারণ ভাবি অন্যরা হয়তো আমাদের নিয়ে নেতিবাচক কিছু ভাববে। কোনো বড় পদক্ষেপ নেয়ার পূর্বে আমরা দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে ভাবতে থাকি, “হয়তো আমার এখনও এরূপ করার যোগ্যতা হয়নি”।

ভয়ের কারণে এরকম বহু পিছুটান আমাদের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর সে কারণে আমাদের জীবনের অপার সম্ভাবনাগুলোও নষ্ট হয়ে যায়। তাই আসুন আজই ভয়কে ঝেড়ে ফেলে আল্লাহর উপর ভরসা করে অপরের সাহায্যে আত্মনিয়োগ করি। খুব বেশি চিন্তা করবেন না। নয়ত তা আপনাকে আবার ভয়ের পথে নিয়ে যাবে।

২) ভয় কাটাতে কোনো বিশ্বস্ত ব্যক্তির সাথে পরামর্শ করুন

কখনও কখনও এমনও হয় যে, আপনার ভয় কোন বিষয়ে বা কেন সেগুলি আপনার ভিতর রয়েছে তার কারণ আপনি নিজে উদঘাটন করতে পারেন না। এ মুহুর্তে আপনার কোনো বিশ্বস্ত বুদ্ধিমান বন্ধু বা কোনো বয়স্ক, অভিজ্ঞ মুরব্বীর সাথে আপনি আলোচনা করুন। তার সাথে নিজের ভয়ের বিষয়টিকে শেয়ার করুন। হতে পারে তার বুদ্ধিমত্তা বা অভিজ্ঞতা আপনার এমন কোনো উপকার করতে পারে যেটা আপনি হয়ত কখনও কল্পনাও করেন নি। আর এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয় যে, একটা বিষয়ে যখন একাধিক ব্যাক্তি মাথা খাটায় তখন বিষয়টির খুব সহজেই নিষ্পত্তি ঘটে।

৩) নিজেকে পরিবর্তনের জন্য সময় নিন

নিজেকে পরিবর্তন জন্য সময় ব্যয় করা আপনাকে ভয় কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারে। ভয় কাটিয়ে উঠতে প্রতিদিন আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করুন। প্রার্থনা করার সময়, মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সাথে গভীরভাবে অনুনয়, বিনয় করুন। নিজের ভয়ের বিষয়টি প্রার্থনার মাঝে তুলে ধরুন। এবং দু’আ করুন যেন তিনি সাহস এবং শক্তি দিয়ে এই ভয়গুলিকে প্রতিস্থাপন করে দেন।

 

(চলবে: দ্বিতীয় পর্বে আমরা প্রকৃত পরিস্থিতির মধ্যে মানুষকে সাহায্য় করার উপায় সম্পর্কে জানব)