অবরুদ্ধ কাশ্মীরের ছবি তুলে পুলিৎজার সম্মান তিন ভারতীয়র

বিশ্ব Tamalika Basu ০৭-মে-২০২০
ID 42435936 © Macrovector | Dreamstime.com

তিন কাশ্মীরি সাংবাদিক পেলেন সম্মানসূচক পুলিৎজার পুরস্কার। তারা হলেন– ফটোসাংবাদিক দার ইয়াসিন, মুখতার খান এবং চননি আনন্দ। তিনজনই মার্কিন বার্তা সংস্থা এপিতে (অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস) কাজ করেন।
সোমবার ইউটিউবে সরাসরি সম্প্রচারে এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ফিচার ফটোগ্রাফি শাখায় তাদের পুরস্কৃত করা হয়। গত বছরের আগস্টে ভারতশাসিত কাশ্মীরে অভূতপূর্ব ৩৭০ ধরা অবলুপ্ত হওয়ার পর লকডাউনের সাহসী সম্প্রচার করায় তাদের সম্মানজনক পুলিৎজার দেওয়া হয়। প্রতিবছর নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুলিৎজার ঘোষণা করা হয়। তবে এবার করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে ওই আয়োজন বাতিল করে পুলিৎজার বোর্ড প্রশাসক ডানা কেনেডির লিভিংরুম থেকে ঘোষণা করা হয় এ পুরস্কার।

পরে ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে পুলিৎজার কর্তৃপক্ষ জানায়, অস্থির কাশ্মীরি জীবনের আকর্ষণীয় ছবি তোলার কারণে এপির তিন সাংবাদিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন। কখনও পথচারীদের আড়ালে লুকিয়ে, কখনও রোডব্লক এড়িয়ে; আবার কখনও সবজির ব্যাগে ক্যামেরা নিয়ে এই তিন সাংবাদিক বিক্ষোভ, পুলিশ আর আধাসামরিক বাহিনীর অভিযান আর প্রাত্যহিক জীবনের ছবি তুলেছেন। ছবি তোলা শেষে তারা স্থানীয় বিমানবন্দরে গিয়ে যাত্রীদের হাতে ফাইল দিয়ে দিল্লিতে এপির কার্যালয়ে ছবি পৌঁছে দেন।

সোমবার পুরস্কার ঘোষণার পর  পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী দার ইয়াসিন সংবাদসংস্থাকে বলেন, সবসময়ই কাশ্মীরে সাংবাদিকতা ছিল ইঁদুর-বিড়ালের খেলা। আর এতে করে আমরা আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতাম যে কখনই স্তব্ধ করা যাবে না। দার ইয়াসিন ও মুখতার খান কাশ্মীরের মূল শহর শ্রীনগরের বাসিন্দা হলেও চেন্নাই আনন্দ জম্মুর বাসিন্দা। আনন্দ বলেন, এই পুরস্কার পেয়ে তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, আমি বিস্মিত আর বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। উল্লেখ্য,  গত বছর য কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন তথা ৩৭০ ধারা বাতিল করে মোদি সরকার। এই পদক্ষেপ ঘিরে ওই অঞ্চলে বিক্ষোভ, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কারফিউ জারিসহ ইন্টারনেট  পরিষেবা বন্ধ বা সীমিত করা হয়। তখন বিক্ষোভের সময় দুর্লভ ছবি তোলেন ওই তিন সাংবাদিক।