অর্থনীতিকে বাঁচাতে লক্ষ্য হোক পচনশীল প্লাস্টিক

Plastic
ID 158644379 © Tatiana Chekryzhova | Dreamstime.com

পৃথিবী পলিথিনের ভারে ভারাক্রান্ত। এখানে থাকা অতিক্ষুদ্র অণুজীব থেকে বৃহৎ মানবজাতির জীবনে পলিথিনের প্রভাব বিস্তর জায়গা করে নিয়েছে। মানুষের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছে প্লাস্টিক। বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত বেশিরভাগই জিনিসেরই উপাদান প্লাস্টিক।শিল্প বিপ্লবের পর থেকে নন-বায়োডিগ্রেডেবল প্লাস্টিকের ব্যবহার বহুল বেড়েছে। এই নন-বায়োডিগ্রেডেবল  প্লাস্টিকের পরিবর্তে বাজারে আনতে হবে বায়োডিগ্রেডেবল পলিথিন যা নষ্ট হয়ে মাটিতে মিশে যায়। এর ফলে পরিবেশের ভার কিছুটা কমবে আগের থেকে। মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের পথে নিয়ে গেছে এই কৃত্রিম প্লাস্টিক। কৃষি থেকে শুরু করে জলাশয় সব জায়গায় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক কী?

পৃথিবীতে যা প্লাস্টিক উৎপাদন করা হয়েছে তার বেশিরভাগই আজও রয়ে গেছে। বায়োডিগ্রেডেবল পলিথিন দুভাবে তৈরি হয় প্রাকৃতিক ও সিন্থেটিক। পলিঅ্যামাইড ও এস্টারের ঘর্ষণের ফলে তেরি হয়। ঘনীভবন,রিংখোলার পলিমারেজেশনের ফলে অ্যামাইড ও এস্টার গ্রুপের সাথে মিশে তৈরি হয় এই উপাদান। বাগসেস একটি তন্তুভিত্তিক পলিমার যেগুলো প্যাকেজিং,ডিসপোজেবলটেবিল ওয়্যায়। বাগসেস ফাইবার গুলো আখের ডাঁটার অংশ যা কাগজ সজ্জার মতো প্রক্রিয়াজাত করা হয়। কাথেকস্টার্চ ভিত্তিক পলিমার ,আলু, আদা, আখ দিয়ে তৈরি হয় পলিমার যা বায়োডিগ্রেডেবল । এই প্লাস্টিক পচে গিয়ে পরিবেশে  কার্বন ডাইঅক্সাইড, বায়ু মুক্ত করে দেয় অধিক পরিমাণে।

কীভাবে ব্যবহার করা যায় বায়ো-ডিগ্রেডেবল প্লাস্টিক?

প্লাস্টিক যদি পচনশীল হয় তবে পৃথিবীতে আগের থেকে দূষণ অত্যাধিক মাত্রায় কমবে। শুধু তাই নয়, অনেক টাই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। পেট্রোলিয়াম জাতীয় কাঁচামাল ছেড়ে এমন কাঁচামাল থেকে বায়োগ্রেডেবেল প্লাস্টিক তৈরী করতে হবে যেগুলো সহজলভ্য এবং পুর্নব্যবহারযোগ্য, কম খরচেই পাওয়া যাবে।

পাট থেকে তৈরী ব্যাগ, যার নাম সোনালি ব্যাগ বা জুট ব্যাগ ব্যবহার বাড়াতে হবে। প্রথমে এটি হয়ত তিন-চার টাকায় কিনতে হবে কিন্তু পরে ব্যবহার বেশি বেড়ে গেলে এক টাকা অথবা ৫০পয়সা খরচে নামিয়ে আনা হবে। বর্তমানে প্লাস্টিক নিয়ে যে দূষন বেড়ে চলেছে এই নিয়ে মানুষেরা অনেক সমস্যার মুখী। তাই এইসময় বিকল্প হিসেবে তাদের কাছে বিকল্প হিসেবে  কিছু তুলে ধরলে তারা সেটা সানন্দেই গ্রহন করতে এগিয়ে আসবে। কৃত্রিম প্লাস্টিক অপচনশীল ফলে মাটিতে মিশে যেতে পারে না।মাটিতে মিশতে প্রায় ৩০০০-৪০০০ বছর লেগে যায়। কিন্তু প্রতিদিন যে পরিমানে প্লাস্টিক তৈরী হচ্ছে সেগুলো যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে। সব প্লাস্টিক এক করে একজায়গায় যদি জড়ো করা হয় তাহলে তা মাউন্ট এভারেস্টকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করা হয়।

বর্তমানে অব্যবহৃত প্লাস্টিক এর মধ্যে কিছু শতাংশ পুর্নব্যবহার এর জন্য তৈরী হয়েছে।কিছু শতাংশ আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন প্লাস্টিক এখনো যেখানে সেখানে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। নালা-নর্দমা তে গিয়ে আটকে যাচ্ছে অথবা নদীতে মিশে জলাশয় এর মাছ প্রচুর পরিমানে মারা যাচ্ছে। কিন্তু বায়োগ্রেডেবেল প্লাস্টিক মাটিতে মিশে যাবে এবং মাটির গুণগত মান বৃদ্ধি করবে। বিভিন্ন ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া প্লাস্টিক কে নাপা ভাবে আক্রান্ত করে সহজেই চটজলদি কার্বন-ডাই -অক্সাইড, পানি ও জৈব পদার্থে পরিণত করে ফেলে। বিশ্বকে দূষণ ও অন্ধকার ভবিষ্যত থেকে নামিয়ে এনে  নতুনত্বের দিশা দেখিয়ে মোড় দিয়েছে বিজ্ঞানীদের এই অভাবনীয় আবিষ্কার বায়োগ্রেডেবেল প্লাস্টিক।

যেহেতু পৃথিবীতে প্লাস্টিক নষ্ট হয় না তাই জমা করা হয় বিভিন্ন জায়গায় কিন্তু এই জায়গাটাও প্লাস্টিকের তুলনায় কম। আমরা সময়ের চাহিদা মেনে কম সময়ে বেশি  জিনিস চাই। যেকোনো প্লাস্টিকের তৈরি হলে আমাদের সেই চাহিদা পূরণ হয়। পলিথিন ধুয়ে গিয়ে জলাশয়ে পড়ছে মাছ জলজ জীব যেমন মরছে তেমনি জলাশয়ের ভারসাম্যও থাকছে না। নদী আকারে ছোটো হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে।

শুধু কি তাই! সহজলভ্য কাঁচামাল এর ব্যবহার ও এই সাধারণ প্রযুক্তি ব্যবহারেই বিদেশে প্রচুর রফতানি বাড়বে। গোটা পৃথিবী আপন তালে চলার ছন্দ ফিরে পাবে আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এ সক্ষম হওয়া যাবে। ফলে দেশের অর্থনীতির অবস্থা ফুলে ফেঁপে উঠবে।। বিশ্বকে নতুন মোড় এ পৌঁছে দেবে এই প্লাস্টিক শিল্প।