অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতিকরণে দশটি উপায়

budget calculator

বর্তমান সমাজে মানি ম্যানেজমেন্ট বা অর্থনৈতিক অবস্থা পরিচালনের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। নিজের টাকা পয়সার ব্যবস্থাপনা ঠিক ভাবে করতে পারলে দানশীলতাও বজায় রাখা যায়। উম্মাতে দান করলে মনের শান্তি পাওয়া যায়, সংসারে উন্নতি ঘটে। 

ইমানদার মুসলমান হিসাবে জীবনযাত্রার উন্নতিকল্পে আমাদের সবসময় নজর দেওয়া উচিৎ। উম্মার উন্নতির জন্য খেয়াল রাখা প্রয়োজন আমাদের সঙ্গীদের মধ্যে কারা  সঠিকভাবে নিজেরদের অর্থনৈতিক অবস্থা সামলাতে পারছেন। উন্নতির প্রাথমিক শর্তই হল অর্থনৈতিক স্থিতি, সেই জন্যই ব্যবসা বাণিজ্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। বেহিসাবি খরচ না করে সঠিক পথে অর্থকে চালালে দুনিয়া এবং আখিরাতে প্রভূত রিটার্ন পাওয়া যায়। অর্থনৈতিক অবস্থা পরিচালন ও উন্নতির জন্য রইল নিম্নলিখিত দশটি উপায়ঃ

১। খরচের আগে ভাবুনঃ 

ধরে নিন আপনার কাছে যে টাকা রয়েছে তা আদতে আল্লার আমানত, অপ্রয়োজনে সেটা খরচ না করাই ভাল। টাকাপয়সার ব্যাপারে সচেতন থাকুন। অবশ্যই পরিবারের বা নিজের প্রয়োজনের খরচ করবেন, কারণ তাতে বরকত লাভ হয়। তবে, যখনই আপনি বৃহৎ কিছু খরিদারি করার ইচ্ছা করবেন, তখন একবার ভেবে নেবেন আপনি সেই জিনিসটা সহজেই কিনতে পারবেন কিনা। মনে রাখবেন, টাকা রয়েছে মানেই কিনতে হবে এমন নয়। এককালীন দামী জিনিস কেনার আনন্দ যেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি কেনার স্বস্তিকে বিঘ্নিত না করে।

২। খরচ-এর হিসাব রাখুনঃ 

অনেকে ভাবতে পারেন, বেশি দামের কিছু কিনছি না, ছোটখাটো কিছু কিনলে আর কীই বা খরচ হবে। এখানেই হয় সমস্যা, একসঙ্গে অনেক অল্প দামের ছোটখাট জিনিস কিনতে কিনতে কখন আপনি আপনার বাজেট পার করে যাবেন ধরতে পারবেন না। এই অতিরিক্ত খরচ আটকানোর একটাই উপায়- যে সমস্ত জিনিস কিনছেন তার দামের রশিদ সহ একটা জার্নালে লিখে রাখুন। মাসের শেষে সেই জার্নালে চোখ বোলালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে খরচ কোথায় বেশি হয়েছে। এখন তো নানাপ্রকার অ্যাপও পাওয়া যায় যার সাহায্যে আপনি আপনার স্মার্টফোনেই খরচের হিসাব রাখতে পারবেন। 

৩। যুক্তিপূর্ণ বাজেটের প্ল্যানঃ

অনেকেই ভাবেন আমি নিজে নিজেই সামলে নেব, প্ল্যান করতে হবে না। এটা কিন্তু সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। মানছি বাজেট প্ল্যানিং করা খানিক একঘেয়ে। কিন্তু যদি আপনি টাকা পয়সার হিসাবে বিশেষ দড় না হন তাহলে একটা যুক্তিপূর্ণ বাজেট প্ল্যান আপনার জমা ও খরচের উপায় অনেক সহজ করে দেবে। একটুখানি একঘেয়েমির বিনিময়ে সারাবছরের যে নিশ্চিন্তি আপনি পাবেন তা অতুলনীয়।

৪। নিয়মিত সেভিংস করাঃ 

যদি স্থির করেন সেভিংস করবেন তাহলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন প্রতিমাসে টাকা জমাতে। সবচেয়ে ভাল হয় যদি এমন ব্যবস্থা করা যায় যেখানে আপনার স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সেভিংসে চলে যাবে। তাহলে আর নিজে থেকে জমানোর চিন্তাটাও করতে হবে না। আসলে সেভিংস একটা অভ্যাস, শুরুতে সকলেরই অসুবিধা হয়। কিন্তু একবার এই অভ্যাস হয়ে গেলে তখন লাভ বই ক্ষতি হয় না। 

৫। বড় খরচের জন্য আগে থেকেই জমিয়ে রাখুনঃ 

বছরে একবার ট্রেকে যাবেন? হজ করার জন্য নিয়ে যেতে হবে আব্বাকে? পছন্দের একটা গাড়ি কিনতে চান? আগে থেকে প্ল্যান করুন। বাজেট প্ল্যানের মাধ্যমে ছোট অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে আনুন। তাহলে দেখবেন , বড় খরচের সময় আর ক্রেডিট কার্ডের ভরসায় থাকতে হচ্ছে না। 

৬। সেভিংস টার্গেট স্থির করুনঃ 

একটু খরুচে মানুষ হলে টাকা জমানোর ক্ষেত্রে অসুবিধা বোধ করেন। সেক্ষেত্রে একটা টার্গেট স্থির করে নিলে অসুবিধা কমে যায় অনেকটাই। টাকা জমানোর প্রথম ধাপ হল ইমার্জেন্সি সেভিংস। হঠাত করে কোনও বড় বিপর্যয় এসে পড়লে যেন সামলানোর টাকা থাকে। এর পরের ধাপ হল শৌখিনতার জন্য টাকা জমানো। প্রথম দু-চার মাস মানাতে না পারলেও যখন সেভিংস অ্যাকাউন্টে বেশ খানিক সঞ্চিত অর্থ থাকবে তখন বেশ ভালই লাগবে। সেটা অস্বীকার্য নয়।

৭। গুরুতর অর্থনৈতিক সমস্যায় উপযুক্ত সাহায্য নিনঃ 

ক্রেডিট কার্ডের অনেকগুলো বিল মিস করেছেন, লোন ফেরৎ দিতে পারেননি এখনও। বাড়ির মর্টগেজের টাকা বাকি? এই অবস্থায় নিজে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। উকিল বা ‘ডেট অ্যাডভাইস চ্যারিটি’র থেকে অবিলম্বে সাহায্য নিন। তাঁদের এক্সপার্ট অপিনিয়নে আপনার ধার সংক্রান্ত সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

৮। সবকিছু একদিকে, সঞ্চয় একদিকেঃ 

একটা জিনিস খুব ভাল করে বুঝতে হবে। জীবনে ভালভাবে বাঁচতে গেলে সঞ্চয় ভীষণ প্রয়োজনীয়। সঞ্চয় নানা প্রকার হয়, কোনওটা শর্ট টার্ম, কোনওটা লং টার্ম। আপনার সমূহ কত টাকার প্রয়োজন সেই বুঝে সঞ্চয় করলে ভাল হয়।

৯। সঞ্চয় ও ইনভেস্টমেন্টঃ 

বেশ কয়েকবছর সঞ্চয় হয়ে গেলে আপনি এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মূলধনের খানিকটা নানা হালাল স্কিমে ইনভেস্ট করতে পারেন। এই হালাল ইনভেস্টমেন্ট কিন্তু পুরোটাই হবে আপনার জীবনের লক্ষ্য অনুসারে।

১০। যত দ্রুত সম্ভব ধার মিটিয়ে ফেলুনঃ 

সঞ্চয় শুরু করার আগে হিসাব করুন আপনার কী কী ধার রয়েছে। ক্রেডিট কার্ড বিল, স্টুডেন্ট লোন, বন্ধুর থেকে নেওয়া টাকা, সব একসঙ্গে শোধ করা শুরু করুন। যদি আপনার একেবারে সব ধার শোধ করার অবস্থা না থাকে তবে মিনিমাম অ্যামাউন্ট শোধ করা শুরু করুন। এইভাবে একসময় সব ধার মিটে যাবে।
ইসলামের পথ অনুসারে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিকভাবে সবল হওয়া ও নিজেদের একটা সুরক্ষিত জীবন উপহার দেওয়া, কারণ শান্তি ও সুরক্ষার পথই একমাত্র পথ।