SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

অল্প জিনিসে সন্তুষ্ট হওয়া জীবনে প্রশান্তি নিয়ে আসে

আকীদাহ ২১ জানু. ২০২১
মতামত
অল্পে তুষ্টি
Ethan H-Unsplash

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর পূত-পবিত্র জীবনের দিকে লক্ষ করুন। কেমন ছিল তাঁর সংসারজীবন এবং জীবন ও জীবিকার রূপ। তিনি যখন দুনিয়া থেকে বিদায় নিচ্ছেন সে সময় পর্যন্ত এমন কোনো দিন আসেনি যেদিন তিনি যায়তুনের তেল দিয়ে পেট ভরে দু’বেলা রুটি খেয়েছেন। (মুসলিম)

তাহলে কি স্বপ পরিমাণে সম্পদ থাকলেই তখন উপার্জন করা ছেড়ে দিতে হবে? না, বিষয়টি সেরকমও নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো এমনও বলেছেন যে,

“তুমি তোমার ওয়ারিশদের অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে ধনী অবস্থায় রেখে যাওয়া ভালো।” (বুখারি )

হৃদয়ের সচ্ছলতায় প্রকৃত সচ্ছলতা

একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবী আবু যর(রাযিঃ) কে বললেন, “আবু যর! তুমি কি সম্পদের প্রাচুর্যতাকে সচ্ছলতা মনে কর?” আবু যর(রাযিঃ) বললেন, “হ্যাঁ ইয়া রাসুলুল্লাহ” তখন তিনি বললেল, “তাহলে তুমি সম্পদের স্বল্পতাকে দরিদ্র্যতা মনে কর?” তিনি বললেন, “হ্যাঁ ইয়া রাসুলুল্লাহ।” রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা শুনে বললেন, “আসলে সচ্ছলতা তো হৃদয়ের সচ্ছলতা, আর হৃদয়ের দরিদ্র্যতাই আসল দারিদ্র্য।” (ইবনে হিব্বান)

শুধু ঐ সাহাবী কেন, প্রতিটি মানুষের কাছেই ধনী-দরিদ্রের সংজ্ঞাটাই এরকম। সম্পদ-ঐশ্বর্যে সমৃদ্ধ যে তাকেই সকলে ধনী মনে করে, আর সহায়-সম্পদ যার কম তাকেই সকলে দরিদ্র মনে করে। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ স্বাভাবিক সত্য বিষয়টি এড়িয়ে আমাদেরকে সন্ধান দিলেন এক মহাসত্যের। সুবিবেচক যে কারও বিষয়টি বোধগম্য। অন্য একটি হাদিসে বিষয়টি আরও সংক্ষিপ্তভাবে কিন্তু আরও তাৎপর্যপূর্ণ ভঙ্গিতে বর্ণিত হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “সম্পদের প্রাচুর্যতা সচ্ছলতা নয়, বরং প্রকৃত সচ্ছলতা তো হলো হৃদয়ের সচ্ছলতা। (বুখারি, মুসলিম)

সম্পদের প্রতি লালসা ও অল্পে তুষ্টি

দুনিয়াতে চলতে গেলে অর্থ-সম্পদ লাগবেই। এটাই স্বাভাবিক। আর এ সম্পদের প্রতি মানুষের আকর্ষণের বিষয়টিও স্বাভাবিক। কুরআনে কারীমের চিরন্তন বাণী, “নারী, সন্তান, রাশিকৃত স্বর্ণরৌপ্য আর চিহ্নিত অশ্বরাজি, গবাদি পশু এবং ক্ষেত-খামারের প্রতি আসক্তি মানুষের কাছে সুশোভিত করা হয়েছে। এসকল তো দুনিয়ার জীবনের ভোগ্যবস্তু আর আল্লাহরই কাছে রয়েছে উত্তম আশ্রয়স্থল। (আল কুরআন-৩:১৪) প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও বলেছেন, “আদম সন্তানের কেউ যদি দুটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদের মালিক হয়, তাহলে সে আরেক উপত্যকা সম্পদ তালাশ করতে থাকে। কেবল মাটিই আদম সন্তানের উদর পূর্ণ করতে পারবে!” (বুখারি)।

সম্পদের প্রতি এ অস্থির লালসা- এটাই মানুষের স্বভাব। তবে এ স্বভাব আর স্বাভাবিকতাকে যারা জয় করতে পারে, নিজের সম্পদ কম-বেশি যেরকমই হোক তাতেই যারা তৃপ্ত হয়, কষ্টকর এ দুনিয়ার জীবনটি তাদের জন্যই সুখকর ও প্রশান্তিময় হয়ে ওঠে। এভাবে তৃপ্ত থাকার এ গুণটিকে ‘কানা’আত’ বা ‘অল্পে তুষ্টি’ বলা হয়। এক সাহাবী তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিয়েছিলেন, “বাবা শোনো! যখন কোনো কিছু তালাশ করবে তখন অল্পে তুষ্টির সঙ্গে তা তালাশ করবে। আর তোমার অন্তরে যদি অল্পে তুষ্টি না থাকে তাহলে কোনো সম্পদই তোমার কাজে আসবে না।

পরিপূর্ণ নিয়ামত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস তো আরও প্রাণবন্ত। তিনি বলেছেন,

“তোমাদের কেউ যখন নিজ বাড়িতে নিরাপদে সুস্থ দেহে দিন যাপন করে আর তার কাছে সেদিনের মত খাবার থাকে,তাহলে তাকে যেন পুরো দুনিয়ার সমস্ত নিয়ামত একত্রিত করে দেওয়া হয়েছে।” (তিরমিযী)।

নিরাপদ নিবাস, সুস্থ শরীর আর পুরো দিনের খাবার, তাহলে আর কী চাই!

জীবিকা উপার্জন, আয়রোজগার, অল্পে তুষ্টি ইত্যাদি সব বিষয়কে আমরা মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে যার জন্য যতটুকু রিজিক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তা সে পাবেই। এর কমবেশি করার সমার্থ্য কারও নেই। তাই যতটুকু রিজিক আমার কাছে এসেছে তাতে সন্তুষ্ট হয়ে গেলে আমার জন্য দুঃখের আর কোনো বিষয় থাকবে না। এভাবেই অন্তর প্রশান্ত হবে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত তাগিদ ও দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন, নির্ধারিত রিজিক পূর্ণরূপে পাওয়ার আগে কারও কাছেই মৃত্যু আসবে না। এটাই আল্লাহর ফায়সালা। আমাদের কর্তব্য, সহজভাবে সাধ্যমতো সেই জীবিকার জন্য চেষ্টা করে যাওয়া।

অল্প জিনিসে তুষ্ট থেকে যদি কেউ এভাবে সফল হতে চায় তবে তার প্রয়োজন আল্লাহ তা’আলার প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস ও আস্থা, প্রয়োজন দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বের স্মরণ করা। এ গুণটি অর্জন করতে পারলে শুধুমাত্র দুনিয়ার এই সসীম জীবনেই নয়, বরং পরকালের অনন্ত অসীম জীবনেও সফলতা পদচুম্বন করবে।