অল্প বয়সে বিয়ে করবেন নাকি বেশি বয়সে? (১ম পর্ব)

বিবাহ Contributor
ফিচার
অল্প বয়সে বিয়ে
Photo: Dreamstime

বিয়ের জন্য কোনটি সঠিক বয়স তা নিয়ে অনেক মতবিরোধ রয়েছে। আজকের দিনে অল্প বয়সে বিয়ে করার গুরুত্ব আছে কি ? অনেকেই বলেন যে, বিয়ে এবং সম্পর্ক আসলে কি তা বুঝে তবেই বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত। আর বিয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক বিষয়টা ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত অনেকে বিয়ের কথা চিন্তাও করেন না।

বর্তমানে অধিকাংশ মানুষই অনেকেই দেরিতে বিয়ে করার পক্ষে। কেননা সকলেই তাদের কেরিয়ার নিয়ে অনেক বেশি সচেতন। কেরিয়ারে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে তারপরেই সকলে বিয়ের জালে আটকাতে চান। মেয়েদের ক্ষেত্রেও এরকম প্রবণতা দেখা যায়। কেননা মেয়েরা সাংসারিক জীবনে স্বাধীনতা চায়। তাঁদের ধারণা অনুযায়ী, যেটা সম্ভব ভাল একটা ক্যারিয়ার গঠনের মাধ্যমে। এ কারণে পড়াশোনা শেষ হয়ে চাকুরিতে না ঢোকা পর্যন্ত তারা বিয়ে করতে চান না।

কিন্তু সত্য কথা হল, অল্প বয়সে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত কিন্তু বেশ বুদ্ধিমানের মত একটা কাজ। তাই বয়স একটু কম থাকলেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা উচিত। এতে জীবনটা অনেক বেশি সহজ মনে হবে আপনার কাছে। এখন দেখা যাক অল্প বয়সে বিয়ে করাতে কি কি সুফল আছে।

১) অল্প বয়সে বিয়ে ও আকর্ষণ 

যৌবনের শুরু থেকেই মানুষের মাঝে বিপরীত লিঙ্গের মাঝে আকর্ষণ কাজ করে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে যেটি আস্তে আস্তে কমে যায়। তাই অল্প বয়সে বিয়ে করলে সঙ্গীর প্রতি আপনার আকর্ষণের দরুন বৈবাহিক সম্পর্ক যেমন সুন্দর হবে, তেমনি নাজায়েজ ও গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকাও আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে। একারণেই হাদিসে এসেছে, “যে বিবাহ করল সে তাঁর ঈমানকে পরিপূর্ণ করে নিল।”

২) সম্পর্কে গাম্ভীর্য 

আপনি যদি বেশি বয়স করে বিয়ে করেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই বয়সের কারণে আপনার আচরণে গাম্ভীর্যতা চলে আসবে। যার দরুন সঙ্গীর সাথে আপনার সম্পর্ক খুব বেশি মধুর ও ঘনিষ্ঠ হবে না। ব্যাপারটি বরং এরকম হবে যে, বিয়ে করার কথা তাই করেছি। এ কারণে আগেই বিয়ে করে নেওয়া ভালো, যখন মানুষের মনে অনেক আবেগ কাজ করে।

৩) সঙ্গীকে সময় দেওয়া 

বেশি বয়সে বিয়ে করলে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের জন্য কতটা সময় পান? বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সন্তানের দায়িত্ব ঘাড়ের ওপর এসে পড়ে। আর একবার সন্তান হয়ে গেলে দু’জনের একান্ত সময় কাটানো আর হয়ে উঠে না। কিন্তু অল্প বয়সে বিয়ে করে ফেললে সঙ্গীর সঙ্গে অনেকটা সময় পাওয়া যায়। এতে সম্পর্ক অনেক ভালো ও মধুর থাকে।

৪) অল্প বয়েস থেকে অনুভূতি ভাগাভাগি 

একা থাকার চেয়ে দুজন মিলে থাকা ভাল- বিষয়টি নিশ্চয়ই না বোঝার কথা নয়। একাই সুখ-দুঃখ ভোগ করার চেয়ে তা দুজনের ভাগাভাগি হলে অনেকটা সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। অল্প বয়সে বিয়ে করলে দুজনের জীবনের সবকিছুই ভাগ করে নেওয়া যায় বলে একজনের উপর মানসিক চাপটাও কম পড়ে।

৫) আয়ু 

সন্তানের জন্য আপনারা খুব ভালো পিতামাতার উদাহরণ হতে পারবেন যদি বিয়ে আগে করেন। বিষয়টি কেউ মানুক আর নাই মানুক, মানুষের গড় আয়ু কিন্তু এখন কমে এসেছে। তাই দেরিতে বিয়ে করলে সন্তান মানুষ করার বিষয়টিও অনেকটা পিছিয়ে যাবে এবং আপনার মানিসকতাও কিন্তু দিনকে দিন নষ্ট হতে থাকবে।

৬) পুনর্বার বিয়ে 

কথাটা তিক্ত হলেও সত্য যে, বর্তমানে অনেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত ঠিকমত নিতে পারে না। তাই এখন তালাকের সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে। কম বয়সে বিয়ে করলে কিন্তু এই দিক থেকেও কিছুটা সুবিধা রয়েছে। যদি অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে অল্পতেই ভেঙে যায় তাহলে জীবনটাকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়ার মত দ্বিতীয়বার সুযোগ পাওয়া যায়, যা দেরিতে বিয়ে করলে পাওয়া সম্ভব হয় না।

৭) এগুলো তো গেল সিরিয়াস বিষয়, এখন শুনুন আগে ভাগে বিয়ে করার একটু অন্যরকম কিছু সুবিধা। আগে বিয়ে করলে ‘কেন বিয়ে করছো না’, ‘কবে বিয়ে করবে’, ‘বয়স বেড়ে যাচ্ছে’, ‘কাউকে পছন্দ আছে কি’ ইত্যাদি ধরনের বিরক্তিকর কথা শোনার হাত থেকে আপনি মুক্তি পেয়ে যাবেন।

এগুলি গেল অল্প বয়সে বিয়ে করার কিছু ইতিবাচক দিক। এখন আমরা পর্যায়ক্রমে দেরিতে বিয়ে করার কিছু নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করব।

১) দৈহিক কারণ

বলা হয়ে থাকে ৩০ বছর বয়সের মাঝেই নারী-পুরুষ উভয়েরই বিয়ে করে ফেলা উচিত; তবে সেটা নারীদের ক্ষেত্রে আরও আগে হলে ভাল হয়। মানবদেহের অনেক জটিলতা রয়েছে। এটা আমরা সবাই জানি যে, মানুষের যৌবন বেশিদিন স্থায়ী হয় না। এ কারণে বিয়ে যদি দেরিতে করা হয় তাহলে নারী-পুরুষ উভয়েরই শারীরিক কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন শারীরিক মিলনে সমস্যা হওয়া, বাচ্চা না হওয়া, বাচ্চা মিসক্যারেজ হওয়া ইত্যাদি। এছাড়া ৩০ বছরের পরে নারীদের গর্ভধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলারও সম্ভাবনা রয়েছে এবং বাচ্চা সুস্থ স্বাভাবিকভাবে হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক কমে যায়।

২) সামাজিক কারণ

যদিও বর্তমানে আধুনিক সমাজের মানুষেরা অনেক বেশি আধুনিক মন মানসিকতার হয়ে গেছেন, তারপরও বিয়ে দেরিতে করলে কিছু না কিছু সামাজিক জটিলতা থেকেই যায়। মেয়ের অনেক বয়স হয়ে যাচ্ছে এটা যেমন সমাজের চোখেও দৃষ্টিকটু, তেমনি বয়স্কা মেয়ের জন্য উপযুক্ত পাত্রের সন্ধান পেতেও বেশ জটিলতা তৈরি হয়। মেয়ে যদি মাস্টার্স পাস করে ফেলে তাহলে তার জন্য ভাল এবং উপযুক্ত ছেলে পাওয়া বেশ কষ্টের হয়ে যায়। কেননা ছেলেরা বিয়ে করতে গেলে একটু কম বয়সের মেয়েদেরই খুঁজে থাকেন। ফলে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় নারীদের।

৩) পারিবারিক কারণ

পিতামাতা যদি বেশি বয়স করে বিয়ে করেন তাহলে তারা সন্তানদের যথেষ্ট সেবা ও সময় দিতে পারেন না। কারণ তারা অল্পতেই অনেক বেশি বয়সের অধিকারী হয়ে যান এবং সন্তানদের তাদের জীবিতকালে সুষ্ঠুভাবে দেখভাল করতে পারেন না। এ কারণেও অল্প বয়সে বিয়ে করা উচিত। মোটামুটিভাবে নিজের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে হলেও দেরিতে বিয়ে করা উচিত নয়।