অসুস্থ চিনা নাগরিক ভর্তি হাসপাতালে, ঢাকা-কলকাতায় তীব্র করোনাভাইরাস আতঙ্ক

Tamalika Basu ২৭-জানু.-২০২০
ID 170214282 © Andrianocz | Dreamstime.com

ঘাতক নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক এবার কড়া নাড়ছে বাংলাদেশে। এই ভাইরাসের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে সোমবার ঢাকার একটি হাসপাতালে সর্দি-জ্বর নিয়ে ভরতি হয়েছেন এক চিনের এক নাগরিক। সম্প্রতি তিনি চিনে গিয়েছিলেন বলে জানা যাচ্ছে। যে কারণে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।

অন্যদিকে, রবিবার রাতে করোনাভাইরাস সন্দেহে কলকাতার বেলেঘাটার আইডি হাসপাতালে এক চিনা তরুণীকে ভরতি করা হয়েছে। আপাতত তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে খবর। আর এরই মধ্যে আবার বাইপাসের ধারের রুবি হাসপাতালে শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হল থাইল্যান্ডের এক তরুণীর। সেই তরুণীর মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোনও যোগ রয়েছে কিনা, খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাও। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য দফতর।

নতুন ধরনের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম লক্ষণ হল সর্দিজ্বর। সেই সঙ্গে মাথা ব্যথা, কাশি, শরীরের অস্বস্তি বোধ হয়। যে কারণে সর্দি-জ্বর নিয়ে চিনা নাগরিকের হাসপাতালে ভরতি হওয়ার ঘটনা সরকারি আধিকারিকদের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে দু’দেশের প্রশাসন।

চিনের পাশাপাশি থাইল্যান্ডেও ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাসের থাবা। ইতোমধ্যে সেদেশে ৮ জন আক্রান্তকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড থেকে এদেশে ঘুরতে এসে কলকাতায় তরুণীর মৃত্যুতে নতুন করে আতঙ্ক দানা বাধছে। যদিও এখনও বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন করা হয়েছে স্বাস্থ্য মহল থেকে। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দিন তিনেক আগে প্রচন্ড শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে রুবি হাসপাতালে ভরতি করা হয় ওই তরুণীকে। তারপর থেকে তাঁকে ভেন্টিলেশনেই রাখা হয়েছিল। সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়। এরপরই ওই মৃত্যুর সঙ্গে করোনাভাইরাসের কোনও সম্পর্ক আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্বাস্থ্য দফতরকেও সমস্ত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধিকর্তা অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সেদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘সর্দি-জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভরতি হওয়া ব্যক্তি চিন থেকে এসেছেন। অতীতে তিনি একাধিকবার চিনে গিয়েছেন। তার অর্থ এই নয় যে, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হবে।’ সারা বিশ্বে প্রায় ৩০০০ জনের দেহে এই ভাইরাসে সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। চিনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনা ভাইরাসে সর্বাধিক আক্রান্তের ঘটনা সামনে এসেছে। এই শহরে এখনও পর্যন্ত ৭৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একাধিক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।