অ্যালার্জিকে অবহেলা করবেন না

Allergy
ID 137216587 © Kingdonlisa | Dreamstime.com

অ্যালার্জি ঋতুচক্রের পরিবর্তনের মতোই প্রতিবছর আমাদের শরীরে বাসা বাঁধে। এই রোগটি পরিবেশজনিত কারণ এবং মৌসুমজনিত কারণে বেশি হয়ে থাকে। কমবেশি লোকজনই অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন। আশ্চর্যের বিষয় অনেকেই আছেন যারা অ্যালার্জিতে বারকয়েক  ভোগার পরেও চিকিৎসার শরণাপন্ন হননি। বিষয়টা অদ্ভুত তাই না, যেকোনো রোগই নির্মূল করা উচিৎ অথচ কিছু রোগকে পাত্তাই দেওয়া হয় না। অ্যালার্জিজনিত সমস্যা থাকলে তার সঠিক ব্যবস্থা আপনার অত্যন্ত জরুরি।

অ্যালার্জির উৎস বলতে গেলে একটা নয় অনেকগুলো কারণই মাথায় ভিড় করে। তবে মৌসুমীজনিত অ্যালার্জিটা একটু বেশি চোখে পড়ে। বর্তমানে করোনা আতঙ্কে মানুষ অন্যান্য রোগের পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেনা অথবা গুরুত্বও দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু অ্যালার্জির মতো রোগ মোটেও উপেক্ষণীয় নয়।

এই মৌসুমী অ্যালার্জি সাধারণত আগাছা ও ফুলের পরাগরেনুজনিত কারণে ঘটে। তাই যখন নতুন গাছের থেকে এর সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে পড়ে। শীতের শেষের দিকে ঠান্ডাজনিত কারণে অ্যালার্জি হয় এবং ফ্লু জনিত সমস্যা ও দেখা যায়।

অ্যালার্জির লক্ষণ কী কী  হতে পারে?

অ্যালার্জিতে হাঁচি, কাশি, গায়ে ফুসকুড়ি হয়, চোখ লাল হয়ে যায়। তাছাড়া অ্যালার্জি থেকে প্রচণ্ড  শ্বাসকষ্ট হয়, চোখ দিয়ে জল গড়াতে থাকে। মাঝে মাঝেই জ্বর এর উপক্রম হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন  যে এর থেকে সর্দিজনিত সমস্যা বেশি হয় না(কম লোকজন এরই দেখা যায় ),কিন্তু সবারই চুলকানিটা প্রচণ্ড রকম হয় এবং জায়গা গুলো ক্রমাগত লাল হয়ে যায়।

এবার অনেকেই তাদের হাঁচি কাশি অ্যালার্জির জন্য হচ্ছে কিনা বুঝতে পারেন না,তারওপর করোনার উপসর্গ অ্যালার্জির সাথে বেশ মিল রেখে এগিয়েছে ফলে একটা আতঙ্কও রয়েছে। সেক্ষেত্রে একটু লক্ষ্য করে দেখবেন যে প্রতিবছর একই সময়ে হাঁচি কাশি বা শ্বাসকষ্ট হচ্ছে কিনা? যদি হয় তখনই আপনি একজন অ্যালার্জিস্ট কে অবশ্যই দেখান। যদি আপনার হাঁচি কাশি টা তুলনামূলকভাবে প্রচণ্ড বেশি হয় তার মানে আপনার পরাগরেনু থেকেই অ্যালার্জির সংক্রমণ ঘটেছে। কারন ফুলের পরাগরেনু হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়, আর যখন সেই হাওয়া আপনার নিঃশ্বাস প্রশ্বাস দিয়ে শরীরে প্রবেশ করবে তখন এই হাঁচি কাশি শুরু হয়ে যায়।

গবেষকদের মতে, যারা হাঁপানিতে ভুগছেন তাদের যদি অ্যালার্জি সংক্রমণ হয় তো হাঁপানি ভালো করা অসম্ভব হয়ে পড়ে,ভালো হতেই চায় না। মৌসুমি জনিত অ্যালার্জিতে যারা ভোগেন তাদের সর্দির সাথে কোনো মিল থাকে না চুলকানিটাই বেশি হয়।

রোগের চিকিৎসা কিভাবে করবেন? 

যদি মনে হয় অ্যালার্জির লক্ষণ নিজের শরীরে কিছুটা ধরা পড়ছে অথচ বাইরে থেকে আচ করতে পারছেন না, তখন অ্যালার্জিস্ট এর কাছে যান। ছোটো থেকে অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে থাকাটা ভালো, তাহলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অ্যালার্জি যদি কর্মক্ষেত্র বা বিদ্যালয় ও আপনার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পরিস্থিতি বা  জায়গায় আপনার সমস্যা ঘটায়, তাহলে অবশ্যই সেটার প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। ডাক্তাররা সাধারণত পরামর্শ দিয়ে থাকেন যে,যার থেকে অ্যালার্জি হচ্ছে (যেমন -নানারকম খাবার,ত্বকে ও নানান পরিবেশগত জিনিস), তা থেকে সর্বদা দূরত্ব বজায় রেখে চলা উচিত। এছাড়া অ্যালার্জি রুখতে সাধারণত কর্টিকোস্টেরড ও অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধই প্রাথমিক চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। অ্যালার্জেনের বিরুদ্ধে লড়ার প্রতিরোধক শরীরে ধীরে ধীরে তৈরি করতে হবে। এবার যদি সেটা তীব্র হয়ে ওঠে তখন অ্যাড্রেনালিন প্রয়োগ করা হয়। ইমিউনিটি বাড়িয়ে অ্যালার্জির বিরুদ্ধে প্রতিষেধক ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে পারা অত্যন্ত ভালো।

অ্যাজমাজনিত সমস্যা যাদের আছে তারা একটু এ ব্যপারে সাবধান হন। বায়ুদূষণের কারণে ধীরে ধীরে অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে তাই সঠিক লক্ষণ  বুঝে সাবধান হন।