আতর বা সুগন্ধি ব্যবহারের কী কী নিয়ম রয়েছে ইসলামে?

নারী Contributor
সুরভি সুবাস

মধ্যপ্রাচ্যের সুগন্ধি আতরের কথা সর্বজনবিদিত। আতরের সুগন্ধে মন শান্ত ও পবিত্র হয়। প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় আতর যদি ব্যবহার করা হয় তবে চারপাশে এক পবিত্র ভালবাসাপূর্ণ মহল তৈরি হয়। অন্যান্য অনেক দ্রব্যের মতো আতরও পৃথিবীর প্রতি ইসলামের অনুপম দান। রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘‘প্রত্যেক সাবালকের জন্য জুমআর দিন গোসল করা, মিসওয়াক করা এবং যথাসাধ্য সুগন্ধি ব্যবহার করা কর্তব্য।’’

সমাজে যেতে হলে পরিপাটি বেশবাসের সঙ্গে আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা অবশ্যকর্তব্য।

ইসলামে আতর ব্যবহার বৈধ হলেও তার কিছু নীতি ও নিয়ম রয়েছে

এমনিতে মহান নবী রাসুল (সাঃ) নিজের সুগন্ধি ব্যবহার করতে অত্যন্ত ভালবাসতেন। প্রিয় নবীর কথা মতো পছন্দের সুগন্ধ ব্যবহার করা আসলে সুন্নাত, কিন্তু একটি শর্ত রয়েছে। শর্তটি হল, সুগন্ধির মধ্যে যেন কোনও হারাম দ্রব্য না থাকে।

ইসলামে সুগন্ধি ব্যবহারের রকম নিয়ে হাদিসের নানাবিধ বর্ণনা রয়েছে,

হজরত আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহুর মতে, নবী রাসুল (সাঃ) বলেছিলেন, , ‘‘তোমাদের দুনিয়ার মধ্যে আমার কাছে স্ত্রী ও খোশবুকে প্রিয় করা হয়েছে। আর নামাযকে করা হয়েছে আমার চক্ষুশীতলতা।’’ (নাসাঈ)

এরকমও জানা যায় যে নবী উপহার হিসাবে সুগন্ধি অত্যন্ত পছন্দ করতেন, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কেউ সুগন্ধি উপহার দিলে তিনি তা গ্রহণ করতেন, ফিরিয়ে দিতেন না। আবার কেউ সুগন্ধি দিলে ফিরিয়ে দিতেও তিনি নিষেধ করেছেন।’ (বুখারি)

কিন্তু ঠিক কোন কোন শর্তগুলো মেনে চললে ইসলামে সুগন্ধি ব্যবহার হারাম হয় না ?

প্রথমত, যে সুগন্ধিতে অ্যালকোহলের মাত্রা বেশি সেই সমস্ত সুগন্ধি গ্রাহ্য হবে না। অনেক ডিওডোরান্টে বা বডি স্প্রেতে মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল থাকে, সেই কারণে সুগন্ধিটি অতিরিক্ত ঝাঁঝালো হয়। যেহেতু ইসলামে মদ্যপান হারাম বা মদ্য সংক্রান্ত কোণও বিষয়ই হারাম তাই এই ধরনের সুগন্ধি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

নবী রসুল (সাঃ) বলেছেন , ‘নেশা সৃষ্ট হয় এমন প্রতিটি বস্তুই হারাম।’

অ্যালকোহল ছাড়া যেসব দ্রব্য প্রাকৃতিক ভাবে সুগন্ধ যুক্ত, যেমন ফুলের নির্যাস, গাছের ছাল, রজন, কর্পূর ইত্যাদি সেখান থেকে যে সুগন্ধি উৎপন্ন হয় তা ব্যবহার করা জায়েজ। সুগন্ধি যেন নেশার সৃষ্টি না করে, এটাই মূল বক্তব্য।

এই নীতির মধ্যে শুধু বডি স্প্রে বা পারফিউমই পড়ছে তা নয়, সাবান ও অন্যান্য গায়ে মাখার সুগন্ধি দ্রব্যও এর আওতায় পড়ছে।

যদিও পরবর্তীকালে বহু ইসলামিক পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছেন যে যদি সুগন্ধিতে খুবি অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল ব্যবহার হয় তাহলে সেই সুগন্ধি দ্রব্য ব্যবহার করা যায়। এই অ্যালকোহল শুধু সুগন্ধের জন্য ব্যবহার হয়, এতে নেশার কোণও সুযোগ নেই। এই সুগন্ধ ব্যবহার করে নমাজ আদায় করায় কোণও অন্যায় নেই। আতর বা সুগন্ধির মূল উদ্দেশ্য শারীরের ঘামের দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি দিয়ে পবিত্র মনোভাবের সৃষ্টি করা।

দোষ কাটানো

পণ্ডিতগণ এটাও বলেচেন যে সুগন্ধির মধ্যে যদি হারাম দ্রব্য মেশানোর আগে যদি সেই হারাম দ্রব্য এমনভাবে প্রসেস করা হয় যাতে সেই হারাম দ্রব্যের কোণও মৌলিকত্ব আর বজায় না থাকে তাহলে অবশ্যই সেই সুগন্ধি ব্যবহার করা জায়েজ।

এছাড়া কেউ যদি অজান্তে এমন কোণও সুগন্ধি ব্যবহার করে যার মধ্যে হারাম দ্রব্য রয়েছে তাহলে তার কোণও দোষ হয় না। শুধু জানার পর সে যেন আর ব্যবহার না করে।

যে সুগন্ধি দ্রব্যে রং রয়েছে সেই সব দ্রব্য পুরুষের জন্য নিষিদ্ধ। এই কারণেই জাফরান দিয়ে যে আতর তৈরি হয় তা একান্ত ভাবেই নারীর ব্যবহারের জন্য।

সুগন্ধি ব্যবহারে মন তরতাজা ও আনন্দময় থাকে। তবে মেয়েদের সুগন্ধই ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিধি নিষেধ রয়েছে।

একমাত্র সৌহর বা স্বামীর সঙ্গে বেরনোর সময়ই স্ত্রী সুগন্ধির প্রয়োগ করতে পারে। সুগন্ধির প্রয়োগে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রেম বাড়ে। একা বেরনোর সময় আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করলে তা পরপুরুষের নাকে যাবে। ইসলামে এই বিষয়টি হারাম হিসাবে গণ্য হয় ।

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে, তার স্ত্রীর সুগন্ধি (আতর) থাকলে তা ব্যবহার করে, উত্তম লেবাস পরিধান করে, অতঃপর (মসজিদে এসে) লোকেদের কাতার চিরে (আগে অতিক্রম) করে না এবং ইমামের উপদেশ দানকালে কোন বাজে কর্ম করে না, সে ব্যক্তির জন্য তা উভয় জুমআর মধ্যবর্তী কৃত পাপের কাফ্ফারা হয়ে যায়। আর যে ব্যক্তি অনর্থক কর্ম করে এবং লোকেদের কাতার চিরে সামনে অতিক্রম করে সে ব্যক্তির জুমআহ যোহরে পরিণত হয়ে যায়।’’