আত্মবিশ্বাসের অভাব বোধ করছেন? পড়ে দেখুন এই গল্পটি

zwaddi-YvYBOSiBJE8-unsplash
Fotoğraf: Zwaddi-Unsplash

এই গল্পটা আমাদের শুনিয়েছেন পশ্চিম বিশ্বে বসবাসরত এক ধর্মান্তরিত বোন। 

আমি জাইনাব। একদিন আরবি পরীক্ষার হলে বসে নিজের উপর ভীষণ রাগ হচ্ছিল। পরীক্ষার যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না আমার। আমি কায়রোতে এসেছি আরবি সাহিত্য অধ্যয়নের জন্য, আমার স্বপ্ন পূরণ করতে, কোরআনের ভাষা বুঝতে, কিন্তু এখানে এসে আমাকে পরীক্ষায় অসফল হতে হবে, এমনটা কল্পনা করিনি ।

আমার শিক্ষক এটা ধরে ফেললেন। তিনি বললেন, “তুমি কি ঠিক আছ? তুমি কি কোনো কষ্ট হচ্ছে?”

“হ্যাঁ …” আমি উত্তর দিলাম, নিজেকে নিয়ে দ্বিধা বোধ করছি। তবে অনুভব করছিলাম, কেউ যদি আমাকে বলতঃ ধৈর্য ধরুন, জ্ঞানের পথ অনেক দীর্ঘ এবং কঠিন, তবে এটি অনেক মূল্যবান। আমি নিজেকে নিজে এটা বোঝাতে চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু তাতে কাজ হচ্ছিল না।

তাই আমি তাঁকে বললামঃ আমি জানতাম এটি কঠিন হবে, আমি কাঠিন্য আশা করেছিলাম। কিন্তু কেউ যদি আমাকে বলত, আরে এটি তো এরকমই তো হওয়ার ছিল।

তখন আমার শিক্ষক আমাকে  আশা দেওয়ার জন্য যা বলেছিলেন তা শুনে সমস্ত রাগ ও হতাশাকে দূর হয়ে গিয়েছিল।

তিনি আমাকে জিজ্ঞাস করলেন, “তুমি কি জান, আরবি ব্যাকরণে ‘দ্য’ বইটি কে লিখেছেন?” “না” বলে আমি মাথা নাড়লাম।

তিনি বললেন,”সিবওয়ে”। এরপর তিনি আমাকে আরবি ভাষার মহান পন্ডিত সিবওয়ের কথা বলতে শুরু করলেন, আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন।

সিবওয়ে আরব ছিলেন না । নির্ভুলভাবে বলতে গেলে পার্সি ছিলেন। সিবাওয়ে যখন আরবিতে কথা বলতেন, তখন আশেপাশের লোকেরা তাকে নিয়ে উপহাস করত। অবশেষে, তিনি শপথ করেছিলেন যে, তিনি আরবি ব্যাকরণের উপর বই লিখবেন এবং এমনকি তিনি এটিকে ‘আল কিতাব-দ্য’ নামকরণ করেছিলেন। তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা (তিনি মহান) তাঁকে তাঁর রচনায় আন্তরিক সাফল্য দান করেছিলেন। শিক্ষক আমাকে এটাও বললেন, এখনও অবধি, বিগত কয়েক শতাব্দী ধরে ,আরব বা অনারব কেউই এই ক্ষেত্রে সিবওয়ের মতো এমন কোনো গ্রন্থ লিখতে পারেননি।

সিবওয়ে যখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌছলেন এবং আল্লাহ তাঁর প্রতি করুণা করেন, তখন তিনি প্রচন্ড দুঃখ অনুভব করতে শুরু করলেন। মৃত্যুর সন্নিকটে তিনি সহচরদের সম্পর্কে চিন্তা করেছিলেন। তার আশেপাশের সমস্ত লোকেরা কুরআন মুখস্থ করেছিল এবং হাদীস মুখস্থ করেছিল। “আমার কুরআন কোথায়? আমার হাদীস কোথায়? ” একথা বলে  তিনি কাঁদছিলেন, এবং দুঃখ করছিলেন এবং আরবী ব্যাকরণ বইয়ের বিখ্যাত দুই চরিত্র ‘জায়েদ’ এবং ‘আমর’ এর মধ্যে আটকে ছিলেন।

সে রাতেই তিনি  স্বপ্ন দেখলেন সর্বকালের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পুরুষ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁকে তার কর্ম সম্পর্কে প্রফুল্লতা দান করলেন।

সিবওয়ে বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর কাজটি সত্যই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানুষকে কুরআন জানতে ও বুঝতে সাহায্য করার মাধ্যম ছিল।

শিক্ষক আমাকে বলেছিলেন, “ইনি কিন্তু একজন অনারব ছিলেন”। “তুমি কি মনে করো যে, তুমি যদি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একজনকে ক্লাসিক্যাল আরবিতে, কুরআনিক আরবিতে কিছু জিজ্ঞাসা করো, তবে কি তারা তোমার উত্তর দিতে পারবে? না, কেউই এটি পারবে না”। তিনি বলে চললেন, “কারণ কুরআন জানার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, এটি কঠিন, তবে অনেক মূল্যবান”।

সিবওয়ে নামক একজন অনারব যদি আরবি ব্যাকরণের উপর বই লিখতে পারেন তবে আল্লাহ তা’আলা আপনাকে যে সমস্ত দক্ষতা ও প্রতিভা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন তাতে আপনারা দ্বারা কি এরকম কিছু সম্ভব না? আপনার কাছে কী আছে ভাবুন এবং মুসলিম উম্মাহ এবং সমাজ গঠনে আপনি কীভাবে ভূমিকা রাখতা পারেন তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

আসুন আমরা সেই কাজটি করি যা এই পৃথিবীতে সর্বকালের সেরা প্রজন্মকে গড়ে তুলতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম করেছিলেন: ব্যক্তিদের মধ্যে দক্ষতা এবং প্রতিভা সন্ধান করুন। এই উম্মতের কল্যাণের জন্য সেটা আমদের খুবই দরকার!

একজন আদর্শ শিক্ষক হিসাবে তিনি (আল্লাহ তা’আলা তাঁকে নিরাপদে রাখুন)  সেই পরীক্ষার হলে আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন:

“ইসবীর, ফা ইন্না ছাবরান নুরুম মিনাল্লাহ”

“ধৈর্য্য ধারণ করুন! নিশ্চয় ধৈর্য্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নূর”