আত্ম-মূল্যায়ন: কার দৃষ্টিভঙ্গির অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করছেন?

two muslim women
ID 94929002 © Joserpizarro | Dreamstime.com

আমি সম্প্রতি এমন একটি দেশে অবস্থান করছি যেখানে (নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে) আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা তাদের আদর্শের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছেরাস্তায় হেঁটে যাওয়ার সময়, এটি একটি মেয়ের জন্য প্রত্যাশিত বিষয় যে, তাকে ও তার পোশাক নিয়ে বাজে মন্তব্য করা হবে। তবে এটির চেয়েও অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে এ সকল পুরুষরা এই মন্তব্যগুলি এমনভাবে করে যেন এভাবে বলার অধিকার তাদেরকে দেওয়া হয়েছে। 

প্রথমে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করার সময়, আমি ভেবেছিলাম এটি হয়ত তরুণ প্রজন্মের একটি সমস্যা। আমি ভেবেছিলাম যে সম্ভবত এই যুবকরা এখনও পরিণত হয়নি বা কোনো মহিলার সাথে কেমন আচরণ করা উচিত এই শিষ্টাচারগুলি তারা এখনও শেখেনিকিন্তু আমি তখন অবাক হয়েছি যখন দেখেছি যে কিছু মহিলারাও এ ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্যে খুশি হয়। তারা এ ধরনের মন্তব্য শুনতে নিজেদেরকে আরও আকর্ষণীয় করে বাইরে বের হয়।

আমি প্রথমে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু আমি পরে বুঝতে পেরেছিলাম যে এটি আমি প্রথম যা ভেবেছিলাম তার চেয়েও অনেক বড় সমস্যা। এটি আত্ম-মূল্যায়ন ও আত্ম-সংজ্ঞায়নের সমস্যা ছিল। এবং আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, এই সমস্যাটি কেবল সেই সংস্কৃতির মধ্যকারই নয়, বরং নারীদের পুরো জীবনেরঅনেক মহিলা অন্যের মন্তব্য, অন্যের সন্তুষ্টি, অন্যের মতামত দ্বারা নিজেদেরকে নির্ধারণ করা শুরু করেছে; তাদের সত্যিকারের মূল্য কোথায় রয়েছে তা তাদের মধ্যে অনেকেই ভুলে গেছে। দুঃখের বিষয় হল আমরা বুঝতে পারি না যে এটি আমরা কি করছি। এবং আমরা বুঝতে পারি না যে, আল্লাহর অনুমোদনের উপর মনোনিবেশ করা শূন্যতা পূরণ করবে যা রাস্তায় বা রেস্তোঁরায় বা কারও দৃষ্টিতে করা মন্তব্যগুলির তুলনায় আরও ভাল এবং দ্রুত হবে।

যখন আমরা অন্যের অনুমোদনের জন্য বাইরে যাই আমরা কেবল নিজের ক্ষতিই করি না বরং আমরা সম্পর্ক এবং স্বাভাবিক মিথস্ক্রিয়াটিকে কঠিন করে তুলি। আমরা আমাদের নিজস্ব অন্তরঙ্গ স্থানকে আক্রমণ করার অনুমতি দিচ্ছি এবং এটি করে আমরা প্রকৃতপক্ষে অন্যের ব্যক্তিগত স্থানে আক্রমণ চালাচ্ছি। 

তবে আমি এটাও বুঝতে পেরেছিলাম যে মহিলাদের আত্ম-মূল্যায়ন ও আত্ম-সংজ্ঞায়নই একমাত্র সমস্যা নয়। সমস্যাটি কিছু পুরুষের মধ্যেও রয়েছে, (দ্রষ্টব্য: আমি কিছু পুরুষ বলেছি। এটি সমস্ত পুরুষের ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি মহিলাদের সম্পর্কে আমার মন্তব্যগুলি সমস্ত মহিলার সাথে সম্পর্কিত নয়), এই অর্থে যে তারা মনে করেন তাদের দেখার অধিকার রয়েছে, মন্তব্য করার অধিকার আছে। তারা এমনভাবে আচরণ করে যেন এই পৃথিবীতে নারীদেরকে কেবল তাদের জন্য উপভোগ্য বস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছেআমি একবার পরিবারের কিছু সদস্যের সাথে ট্যাক্সিতে চড়ে যাচ্ছিলাম। তখন ট্যাক্সির বয়স্ক ড্রাইভারটি আমার এক পুরুষ আত্মীয়কে এই ধারণাটি এভাবে ব্যাখ্যা করতে শুরু করলেনঃ “আপনি যখন কোনো গাড়ীর দিকে তাকান এবং এটিকে সুন্দর গাড়ী বলে মন্তব্য করেন, তখন কি আপনি এটিকে খারাপ কিছু মনে করেন? তা তো অবশ্যই নাএতে কী কারও আঘাত লাগে? তাও না। কারণ আপনি কেবল এটির প্রশংসা করছেন এবং এটি যে আপনার কাছে প্রশংসিত তা আপনি জানাচ্ছেন। মহিলাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম: যতক্ষণ না আমরা তাকে স্পর্শ করি, ততক্ষণ সমস্যা নেই”। কথাটি যৌক্তিক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি অনেক অযৌক্তিক একটি উদাহরণ। কারণ আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ মানুষের মাঝে আত্মসম্মানবোধ দিয়েছেন যেটি গাড়ির মত কোনো জড় পদার্থকে দেননি।

আসলে আমাদের রব কোন বিষয়ে খুশি হন, কিভাবে খুশি হন সেই কথাটিই আমরা ভুলে গেছি। আল্লাহর উপর আমাদের নির্ভরতার কথাও আমরা ভুলে গেছি। আমরা এটিও ভুলে গেছি যে, প্রকৃতপক্ষে মানুষের কোন বিষয়ে মঙ্গল আর কোন বিষয়ে অমঙ্গল তা আল্লাহই ভাল জানেন। আর এটাও ভুলে গেছি যে, আত্ম-মূল্যায়ন করতে হবে আল্লাহ কোন বিষয়ে আমাদের উপর সন্তুষ্ট হবেন তার উপর ভিত্তি করে, অন্যথায় শুধু সময় নষ্ট হবে। আমরা মানুষের মন্তব্যের মাঝে মনুষ্যত্বকে খুঁজে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমরা এটি ভুলে গেছি যে, মানুষের মন্তব্যের মাঝে কখনই মনুষ্যত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। বরং এটি তাঁর কাছে খুঁজে পাওয়া যাবে যিনি মানুষের মাঝে মনুষ্যত্ববোধ সৃষ্টি করেছেন। তাই আমরা যখন আমাদের জীবনের উদ্দেশ্যকে পরিবর্তন করে সেটিকে আল্লাহমুখি করতে পারব তখনই সফলতা খুঁজে পাব। মানুষের ভাল বলা বা মন্দ বলা কোনোটিকেই তখন আমরা পরোয়া করব না। বরং তখন শুধু লক্ষ্য থাকবে যে, আল্লাহ কিভাবে সন্তুষ্ট হবেন। আর আল্লাহর সন্তুষ্টিই প্রকৃত বিষয়।