আদম (আঃ)-এর দুই পুত্র হাবিল এবং কাবিলের গল্প থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা

praying hands of a man for blessings his god on the sunset. People of all religions, Christians, Muslims, Buddhists humility their believed God and hope for life love world peace, sun rays background

কুরআনে সূরা মা’য়েদার ২৭-৩০ নং আয়াতে হাবিল ও কাবিলের ঘটানাটি বর্ণিত হয়েছে।

“যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, কিন্তু তাদের একজনের পক্ষ থেকে তা কবুল করা হল এবং অপরজনের পক্ষ থেকে কবুল করা হয়নি। সে বলল, আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। অপরজন বলল, আল্লাহ তো মুত্তাকীদের থেকেই কবুল করে থাকেন। তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্যে আমার দিকে তোমার হাত বাড়িয়ে দাও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে তোমার দিকে আমার হাত বাড়াব না। আমি অবশ্যই বিশ্বজগতের প্রভু আল্লাহকে ভয় করি। অবশ্যই আমি চাই, তুমি আমার পাপ এবং তোমার পাপ বহন কর, এরপর তুমি দোজখিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও। আর এটাই জালেমদের শাস্তি। অবশেষে তার মন তাকে ভাই-হত্যার বিষয়ে প্ররোচিত করল, এরপর সে তাকে হত্যা করল। ফলে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে” (আল কুরআন-৫:২৭-৩০)

এই ঘটনা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষাগুলি নিম্নরূপঃ

১। “নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দ্বীন হল ইসলাম।” (আল কুরআন-৩:১৯)

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে, কস্মিণকালেও তা গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ক্ষতি গ্রস্ত।” (আল কুরআন-৩:৮৫)

আপনার পূর্বে আমি যে রাসূলই প্রেরণ করেছি, তাকে এ আদেশই প্রেরণ করেছি যে, আমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। সুতরাং আমারই ইবাদত কর।” (আল কুরআন-২১:২৫)

অন্যান্য সমস্ত ধর্মই হয় ইসলামের বিকৃত সংস্করণ অথবা কুসংস্কারবাদী বিশ্বাস ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে।

ইসলাম সর্বদা চূড়ান্ত সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, যা সময় এবং স্থানের গতিশীলতার কারণে কখনও পরিবর্তন হয়নি।

২। গল্পটি শুরু হয়েছে ‘উতলু’ অর্থাৎ ‘তেলাওয়াত কর’ শব্দটি দিয়ে

এর অর্থ হল গল্পটি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রদত্ত প্রকাশিত জ্ঞানেরই একটি অংশ। এটি এমন জ্ঞান যা না স্বজ্ঞালব্ধ আর না অর্জিত। সুতরাং, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সর্বশক্তিমান স্রষ্টা কর্তৃক অবতীর্ণ বাণী এখানে “তিলাওয়াত” করতে বলা হয়েছে।

৩। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে “সত্য সহকারে” গল্পটি পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এটি বোঝায় যে গল্পটি আসল এবং সত্য। এটি কোনোভাবেই রূপকথার গল্প বা কল্পকাহিনী নয়।

অধিকন্তু, পবিত্র কুরআনে লিপিবদ্ধ কোনো ঘটনাই রুপকথার গল্প নয়; বরং সবগুলিতেই এই উম্মতের জন্য অসংখ্য শিক্ষা রয়েছে।

৪। কাহিনীটি “তাদের কাছে” পাঠ করুন

এখানে “তাদের” বলতে প্রধানত ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের বোঝানো হয়েছে। তবে এটির মধ্যে মুসলিম এবং সমগ্র মানবজাতিও অন্তর্ভুক্ত। কারণ আদম আ’লাইহিস সালাম সমগ্র মানবজাতির পিতা।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, প্রত্যেকে তার নিজের গুনাহের বোঝা বহন করবে। একজনের কর্ম অন্যজনের উপর বর্তাবে না। কাবিল আদম(আঃ) এর সন্তান হয়েও হত্যা করার কারণে সে শাস্তির উপযুক্ত হয়েছে। পিতার নবী হওয়া তাকে বাঁচাতে পারেনি। অনুরূপভাবে কাবিলের এই হত্যাকান্ডের দায়ভার আদম(আঃ) এর উপরও বর্তায় নি। এগুলি ইহুদি, খ্রিষ্টানদেরকে জানিয়ে দিয়ে তাদের ভ্রান্ত মতবাদের খণ্ডন করা হয়েছে।

৫। কাবিল হিংসার কারণে হাবিলকে হত্যা করেছিল, যা সে অহংকার এবং আত্ম-প্রবঞ্ছনার শিকার হয়ে করেছিল। কুরআনে বলা হয়েছে, “সুতরাং তার নফস তাকে বশ করল তার ভাইকে হত্যা করতে। ফলে সে তাকে হত্যা করল এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হল।” (আল কুরআন-৫:৩০)

কাহিনীটির মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কে স্পষ্টভাবে অবহিত করা হয়েছে যে, মানব ইতিহাসের প্রথম গুনাহ, প্রথম হত্যাকান্ড যে জিনিসের কারণে হয়েছে তা হল হিংসা ও ক্ষোভ। তাই আপনার উম্মতের কাছে এ বার্তাটি পৌঁছে দিন যে, হিংসা ও ক্ষোভ থেকে তারা যেন বিরত থাকে। নতুবা এটি তাদেরকেও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত করবে।

৬। একজন মানুষকে বিনা কারণে হত্যা করার অর্থ সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা

কাবিল ও হাবিলের ঘটনা উল্লেখের পরপরই কুরআনে উল্লেখ হয়েছে, “যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করল, সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করল। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করল, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করল।” (আল কুরআন-৫:৩২)

এ প্রসঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “পৃথিবীতে যখনই অন্যায়ভাবে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়, তখন পাপের একটি অংশ অবশ্যই আদমের প্রথম পুত্র কাবিলের উপর পড়ে। কেননা সে-ই প্রথম ব্যক্তি, যে অন্যায় হত্যাকাণ্ডের সূচনা করেছিল।” (বুখারী)