আদর্শে অটল থাকুন

ben-white-1zA_mC846yU-unsplash
Fotoğraf: Ben White-Unsplash

মেরুদণ্ডহীনদের পৃথিবীতে কোথাও ভালো চোখে দেখা হয় না। তারা নিজেদের অকর্মণ্যতাকে অজুহাতের আড়ালে ঢাকতে চায়। যেকোনো অবস্থানেই তাদের কাছে পর্যাপ্ত যুক্তি থাকে না, ফলে নিজের অবস্থানকে দৃঢ় করতে না পেরে অন্যের কথায় ঘাড় পেতে দেয়।

মেরুদণ্ডহীন লোকদের সম্বন্ধে এরকম বহু কথা বলা যায় কিন্তু যেটা মাথায় রাখতে হবে সেটা হলো, আপনার মধ্যে কি এরকম কোনো লক্ষণ আছে?

পবিত্র তিরমিযির একটি অংশে বলা হয়েছে, “অন্যেরা ভালো হলে তুমি ভালো হবে অথবা খারাপ হবে, এই বলে নিজেকে মেরুদণ্ডহীন হতে দিও না। তার চেয়ে এমন ভাবো যে মানুষ ভালো হলেও তুমি ভালো হবে আবার খারাপ হলেও এমন কিছু আচরণ করবে না যাতে তোমাকে খারাপ দেখায়।”

এই কথাটি সদা সর্বদা আমাদের মাথায় রাখতে হবে। কারণ যে ব্যক্তির নিজস্ব কোনো আদর্শ নেই, সে অন্যের সাপেক্ষেই চালিত হয়। এর থেকে কূটমানুষেরা আপনার ফায়দা তুলতে পারে। কীভাবে? আপনার ব্যবহার যদি পূর্বানুমান করা যায় তাহলে নিশ্চয়ই কোনো স্বার্থপর ব্যক্তি জেনে বুঝে আপনাকে বোকা বানাতে পারে।

কিন্তু যখন নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করবেন কারও ক্ষমতা থাকবে না আপনাকে তোষণ বা শাসন করে আপনার মত পাল্টানোর। নিজের সিদ্ধান্ত নিতে কোনো বিশেষ শিক্ষা বা জ্ঞান দরকার নেই, প্রত্যেকের সাধারণ জ্ঞানকে বিবেচনা করলেই এটা করা যায়।

মনে করুন আপনি গরীবের দুঃখ লাঘব করতে চান তাই তাদের সব ধরনের সাহায্য করেন, কিন্তু তা বলে তো যে কেউ গরীব সেজে আসলেই তাকে সাহায্য করবেন না। স্বাভাবিক ভাবেই সাহায্য করার আগে তার সাথে কথা বলবেন, আশেপাশে খোঁজখবর নেবেন তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন তাকে আদৌ সাহায্য করবেন কিনা অথবা করলেও কতটা।

মুসলমান হওয়ার পিছনে বহু কৃচ্ছ্বসাধন করতে হয়, আল্লাহের ইবাদত করা মেরুদণ্ডহীনের কাজ নয়। অবশ্যই আল্লাহ বলেছেন দ্বীনের রক্ষার্থে প্রয়োজনে তলোয়ার তুলতে হবে কিন্তু সেই দ্বীন কী? আগে বুঝুন কে দ্বীনকে বিপদের মুখে ঠেলছে তৃতীয় কোনো ব্যক্তি নাকি যে আপনার হাতে তলোয়ার দিচ্ছে সে নিজেই। এই ধরনের  সাধারণ প্রশ্ন এবং বিশ্লেষণের মধ্যে লুকিয়ে থাকে মেরুদণ্ড।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে উল্লেখ থাকা অসংখ্য নিয়মকানুন আজ বহু মুসলমানরা মানেন না। অবশ্যই তৎকালীন সমাজের সাথে আজকের সমাজের বহু পার্থক্য কিন্তু বৃহত্তর সত্যের ভান্ডার যে পবিত্র কোরআন তাকে সঠিকভাবে তর্জমা করলে আজকের সমাজব্যবস্থাতেও কোনো না কোনো কার্যকরী পন্থা অবশ্যই পাওয়া যাবে। একজন মুসলিম ব্যক্তির কাজ হলো সেই নিয়মের পালন করা, শত বাধাবিপত্তিতেও তার ইমান যেন এক শতাংশও দুর্বল না হয়।