আদর্শ মুসলিম পরিবারের ১০ বৈশিষ্ট্য

dreamstime_s_111403449
sillhouette of happy asian family having fun time at the beach with sunset view as background. family concept

যেকোনো মানুষের শিক্ষার সবচেয়ে বড় জায়গাটি হচ্ছে তার পরিবার।  পরিবার থেকেই মানুষের চিন্তা চেতনা গতি-প্রকৃতি নির্ধারিত হয়। পবিত্র কোরআন শরীফে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ ঘর ও পরিবারকে তাঁর অন্যতম দান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহ তোমাদের ঘরকে করেছেন তোমাদের আবাসস্থল।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৪০)। পরিবারের ভিতরে কি কি বৈশিষ্ট্য থাকলে একটি পরিবার আদর্শ  মুসলিম পরিবার হতে পারে তা নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব।

১.আদর্শ স্ত্রী নির্বাচন

আদর্শ মুসলিম পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আদর্শ স্ত্রী নির্বাচন।  পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ ‘তোমাদের মধ্যে যারা ‘আইয়িম’ (স্বামীহীন নারী) তাদের বিয়ে করো এবং তোমাদের দাস-দাসীর মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। তারা অভাবগ্রস্ত হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাব দূর করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তোমরা চার গুণ দেখে মেয়েদের বিয়ে করো : তার সম্পদের জন্য, তার বংশ পরিচয়ের জন্য, তার সৌন্দর্যের জন্য ও তার ধার্মিকতার জন্য। অতঃপর তুমি ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দাও। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০৯০)

২.ইসলামিক আদর্শের চর্চা থাকা

আদর্শ মুসলিম পরিবারে সব সময় ইসলামিক আদর্শ চর্চা থাকবে।  চলমান ফ্যাশন,  ট্রেন্ড নয় ধর্মীয় জ্ঞান,  অনুশাসন অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশাবলী সবসময় অন্তরে ধারণ করে আদর্শের চর্চা করতে থাকবে। তারা সব সময় আল্লাহকে স্মরণ করবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি মুসা ও তার ভাইয়ের প্রতি প্রত্যাদেশ দিলাম—মিসরে তোমার সম্প্রদায়ের জন্য ঘর নির্মাণ করো। তোমাদের ঘরগুলোকে ‘ইবাদতখানা’ করো, তোমরা নামাজ কায়েম করো এবং মুমিনদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ৮৭)
পরিবারে দ্বিনচর্চা উৎসাহিত করতে পরিবারপ্রধান ও অভিভাবকরা নিজের দৃষ্টান্তরূপে উপস্থাপন করবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন ঘরে ফিরতেন তাঁর হাতে মিসওয়াক থাকত।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৩)

৩.ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা

আদর্শ মুসলিম পরিবার তাদের সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করবে।  ধর্মীয় জ্ঞান, আচার-আচর্‌ বিধি নিষেধ সহ বয়সের উপর ভিত্তি করে ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘(ইসলামী) জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২২৪)

৪.পারস্পরিক জবাবদিহি

ভালো কাজের আদেশ বা নির্দেশনা এবং মন্দ কাজ করতে নিষেধ করা বা মন্দ কাজের চর্চা থেকে বিরত থাকতে হবে, যদি কোন পরিবার নিজেদেরকে আদর্শ মুসলিম পরিবার হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।’ (সুরা : আশ-শুয়ারা, আয়াত : ২১৪)
এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর পরিবারের ৩০ জন সদস্যকে একত্র করে সতর্ক করে বলেন, ‘তোমরা নিজেদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করো।’ (তাফসিরে ইবনে কাসির)। সুতরাং মুসলিম পরিবার পারস্পরিক পরামর্শ, সহযোগিতা, জবাবদিহি ও সতর্কীকরণের মাধ্যমে নিজেদের সুপথে পরিচালিত করবে।

৫.পাপ ও পাপ উপকরণমুক্ত হওয়া

পাপ ও পাপের উপকরণ থেকে মুক্ত থাকবে আদর্শ মুসলিম পরিবার।  পাপের উপকরণের হলে পাপ করা সহজ হয়ে যায়।  আর পাপ ব্যক্তির জীবনে বিশৃঙ্খলা অশান্তি নিয়ে আসে।  এমনকি কোনো ভালো উপকরণের মূল্য ব্যবহার বেশি হলেও তা পরিবার থেকে দূরে রাখতে হবে।   উদাহরণ হিসেবে বলা যায়,  বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদেরকে ভার্চুয়ালি কাছে নিয়ে আসলেও আসক্তির ফলে আমরা আপনজনদের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি।  আবার স্মার্টফোন কম্পিউটারের গেমস এর কারণে অস্বাভাবিক জীবনযাপন করছি।  তাই এসব উপকরণের ব্যবহার খুবই সীমিত অথবা উপকরণ মুক্ত হয়ে যেতে হবে।

৬.সময়ের বিষয়ে সচেতন

সময় আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বড় নেয়ামত।  তাই একটি আদর্শ মুসলিম পরিবার সবসময় সময় কে প্রাধান্য দিয়ে সময়ের বিষয়ে সচেতন থাকবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন কোনো বান্দা সামনে অগ্রসর হতে পারবে না, যতক্ষণ না তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, সে জীবন (সময়) কোথায় ব্যয় করেছে, জ্ঞান কী কাজে লাগিয়েছে, সম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে ও কোথায় ব্যয় করেছে এবং শরীর কোথায় উন্মুক্ত করেছে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস : ২৪১৭)

৭. আমানত রক্ষা

যেকোনো গোপনীয়তা আমানত হিসেবে রক্ষা করার বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে একটি আদর্শ মুসলিম পরিবারে।  এখানে আমানত বলতে শুধু টাকা বা ধন সম্পদ বা মূল্যবান কোন বস্তুকেই বোঝানো হয়নি।  যে কোন কথার আমানতও  রক্ষা করতে হবে।

৮.পারস্পরিক সহযোগিতা

পারস্পারিক সহযোগিতা ছাড়া কখনই কোন পরিবার সুন্দর ভাবে এগিয়ে যেতে পারে না।  আর আদর্শ মুসলিম পরিবার হওয়ার জন্য অবশ্যই একে অন্যের প্রতি পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। পারিবারিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতা আল্লাহ ভালোবাসেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ যখন কোনো পরিবারের কল্যাণ চান, তখন তাতে মমতা ও ভালোবাসা দান করেন।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৫৯৩)।

৯.শালীনতা ও পর্দা

ইসলাম নারী ও পুরুষ উভয়কেই শালীনতার ভেতরে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছে।  এমন কোন অঙ্গভঙ্গি  করা যাবে না,  অশ্লীল কোন পোশাক পরা যাবে না,  এমনকি এমন কোন ধরনের শব্দ করা যাবে না যা দ্বারা শালীনতা বা পর্দার বরখেলাপ হয়।

১০.সদাচরণ করা

পরিবারের সবাই সকলের সাথে সবসময় সদাচারণ করবে অর্থাৎ ভালো আচরণ করবে।  আর যেহেতু ছোটরা বড়দের দেখে শিখে থাকে তাই বড়রা সব সময় পরিবারের ভেতরে ভালো আচরণ করবে।