আদর্শ স্বামী কে?

ID 69258735 © Aqnus Febriyant | Dreamstime.com
Fotoğraf: ID 69258735 © Aqnus Febriyant | Dreamstime.com

ইসলামে স্বামী-স্ত্রীর বন্ধনকে দৃঢ় হওয়া উচিত বলে মনে করা হয়। এই সম্পর্কের মধ্যে থাকা উচিত ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, ক্ষমা ও দয়া যা দাম্পত্য জীবনের পথকে মসৃণ করে। মহানবী মুহম্মদ (সাঃ)-কে এক্ষেত্রে একজন আদর্শ বলে মনে করা হয় ইসলামে। তাঁর অন্যান্য হাজারটা গুণের মধ্যে একজন স্বামী হিসেবে তিনি ছিলেন প্রকৃতই অনুকরণযোগ্য। তিনি কিছু বিশেষ নিয়ম মেনে চলতেন তাঁর গৃহস্থজীবনের জন্য।

স্ত্রীর সাথে সবচেয়ে ভালো ব্যবহার করুন

আবু হুরাইয়া (রাঃ) আল-তিরমিযীতে বলেন, “সবচেয়ে বড় বিশ্বাসী সেই ব্যক্তি যার চরিত্র উত্তম। যার চরিত্র উত্তম সে তার স্ত্রীর কাছে সবচেয়ে মধুর।”

ইবন আব্বাস (রাঃ) নবীজি (সাঃ) কথিত নির্দেশ লেখার সময় এক জায়গায় লেখেন, ” তোমাদের মধ্যে সে সর্বোত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম, আমি আমার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম।”

আবু হুুরাইয়া নবীজি (সাঃ)-র উপদেশ বর্ণনা করেছিলেন, “একজন বিশ্বাসী মুসলমান পুরুষ কখনও একজন বিশ্বাসী স্ত্রীলোককে অপছন্দ করতে পারে না। তার একটা গুণ অপছন্দ হলেও অন্য কোনো গুণ নিশ্চয়ই পছন্দ হবে।”

আবদুল্লাহ ইবন (রাঃ)-এর বর্ণনা অনুযায়ী নবীজি বলেছিলেন, “পৃথিবী হলো (দ্রুত বয়ে যাওয়া) উপভোগের সামগ্রী। সবচেয়ে বেশী উপভোগ করা যায় একজন পবিত্র স্ত্রীর সাথে।”

ভালোবাসা প্রকাশ করুন

মুহম্মদ (সাঃ)-এর কথা বলার সময় আনাস (রাঃ) একটি ঘটনার কথা বর্ণনা করেন।

নবীজি মুহম্মদ (সাঃ)কে একবার জিজ্ঞাসা করা হয়,”হে আল্লাহর দূত, তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কে?”

তিনি বলেছিলেন, “আয়েশা” ।

আবার জিজ্ঞাসা করা হলো, “আর পুরুষদের মধ্যে?”

তিনি উত্তর দিলেন, “আয়েশার পিতা” ।

আয়েশা (রাঃ) বলেন, “নবীজির সমস্ত স্ত্রীদের মধ্যে আমি কারও প্রতি ঈর্ষান্বিত হইনি একমাত্র খাদিজা ছাড়া, যদিও তাকে আমি কখনও দেখিনি।”

তিনি আরও বলেন, “যখন নবীজি একটি ভেড়া জবাই করেন তিনি বলেছিলেন খাদিজার বান্ধবীদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য।”

একদিন আয়েশা নবীজি (সাঃ)-র কাছে খাদিজার প্রসঙ্গ এমনভাবে উত্থাপন করেন যে তিনি দুঃখ পান। তখন তিনি বলেন, “আয়েশা আমাকে তার ভালোবাসা দেওয়া হয়েছে (আল্লাহের দ্বারা)।”

ভালোবাসাকে কাজে রূপান্তর করুন

আয়েশা (রাঃ) বলেছিলেন তাঁর ঋতুর সময় নবীজি (সাঃ) তাঁকে ঘড়া ঘড়া পানীয় দিতেন। এরপর তিনি সেই সমস্ত জায়গাগুলো খুঁজতেন যেখানে আয়েশা তার ঠোঁট ছুঁইয়েছিলেন, এবং তিনি নিজের ঠোঁট ছোঁয়াতেন সেখানে। (আন-নাসা’ই)

আনাসের আর একটি কাহিনীতে তিনি বলেন, নবীজি (সাঃ)-এর এক পার্সী প্রতিবেশী ছিলেন যিনি খুব ভালো সুরুয়া (স্যূপ) বানাতেন। সেই প্রতিবেশী একদিন নবীজিকে আমন্ত্রণ জানালেন। সেইসময় আয়েশা ছিলেন নবীজির কাছে। তিনি জিজ্ঞাসা করেন আয়েশাও তাঁদের সাথে যুক্ত হতে পারেন কিনা, প্রত্যুত্তরে প্রতিবেশীটি অসম্মতি জানালে নবীজি আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করে দেন।

সেই প্রতিবেশীটি আবারও নবীজিকে আমন্ত্রণ করেন, এবারেও নবীজি একই কথা বলেছিলেন কিন্তু প্রতিবেশী আয়েশা (রাঃ)-কে যুক্ত করার বিষয়ে সে আবার আপত্তি করলো ফলে নবীজি আবারও প্রত্যাখান করে দিলেন।

তৃতীয়বার প্রতিবেশীটি আয়েশাকে সঙ্গে নিয়ে আসতে সম্মত হওয়া নবীজি তার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সস্ত্রীক সেখানে যান।

স্ত্রীর সাথে মজা করুন

আয়েশা (রাঃ) এক জায়গায় বলেন, নবীজি (সাঃ) ও তিনি একবার ভ্রমণে যান। সেখানে নবীজি ও আয়েশা নিজেদের মধ্যে দৌড় প্রতিযোগীতা করেন, সেখানে আয়েশা নবীজিকে হারিয়ে দেন।

এর বহুদিন পরে আর একবার তাঁরা একসাথে বেড়াতে যান। তখন আয়েশার (রাঃ) ওজন বেড়ে গিয়েছিল কিন্তু তাও নবীজি তাঁকে প্রতিযোগীতায় আহ্বান জানান। সেখানে নবীজি জিতে যান এবং আয়েশাকে বলেন, “এবার আমরা সমান সমান।”