আধুনিক সমাজে বিবাহিতদের জন্য কিছু পরামর্শ

Photo by Ramiz Dedaković on Unsplash
Saygı bir evliliğin temelidir. Fotoğraf: Ramiz Dedaković-Unsplash

এমন একটি সমাজে আমরা বাস করি যেখানে প্রায় ৫০% বিবাহের ডিভোর্সের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে। ‘Marriage Guardian’ ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য উঠে এসেছে যে, “৪৩% এরও বেশি দম্পতির ৫ বছরের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়ে গেছে।”

সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হওয়ার পিছনে মৌলিক যে কারণগুলো থাকে সেগুলো হলঃ

-স্বামী-স্ত্রী একে অপরের হক বা অধিকার যথাযথ আদায় না করা।

-একে অপরকে গুরুত্ব না দেওয়া।

-অযথা দ্বিমত পোষণ করা। 

-একে অন্যের প্রতি আস্থা না রাখা, বিশ্বাস না করা।

সুতরাং বৈবাহিক জীবনকে সুখময় ও স্থায়ী করতে এখন প্রয়োজন ফলদায়ক কিছু পদক্ষেপ নেওয়া। আর এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, ইসলামের ভিতরেই এর একমাত্র সমাধান রয়েছে। নিম্নে কুরআনি শিক্ষার আলোকে স্বামী স্ত্রীর অধিকার ও কর্তব্যের বিষয়ে কিছুটা আলোকপাত করা হল।

স্বামীর কর্তব্য ও স্ত্রীর অধিকারসমূহ-

-স্ত্রীর সাথে সর্বদা ভালো আচরণ করা।

-সামর্থ্যনুযায়ী স্ত্রীর ভরণ পোষণ দেওয়া। অপচয় না করা।

-স্ত্রীর কোনো কথায় বা কাজে কষ্ট পেলে ধৈর্যধারণ করা।

-উচ্ছৃঙ্খল, বেপর্দা চলাফেরা করতে থাকলে নম্র ভাষায় তাকে বোঝানো।

-সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া-বিবাদ না করা।

-কথায় কথায় ধমক না দেওয়া। রাগ না করা।

-স্ত্রীর আত্মমর্যাদায় আঘাত করে এমন বিষয়ে সংযত থাকা। 

-শুধু শুধু স্ত্রীর প্রতি কুধারণা পোষণ না করা।

-স্ত্রীর সম্পর্কে উদাসীন না থাকা।

-দ্বীনি বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা করা।

-একাধিক স্ত্রী থাকলে তাদের মাঝে সমতা রক্ষা করা।

-চাহিদানুযায়ী তাদের সাথে মেলামেশা করা।

-প্রয়োজন মাফিক থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা।

-মাঝে মাঝে স্ত্রীর নিকটাত্মীয়দের সাথে দেখা-সাক্ষাত করার সুযোগ করে দেওয়া।

-নিজেদের একান্ত ব্যক্তিগত কোন বিষয় অন্যের কাছে বর্ণনা না করা।

-প্রয়োজনে স্ত্রীকে শাসন করা। সতর্ক করা। তবে অতিরঞ্জিত না করা।

স্ত্রীর কর্তব্য ও স্বামীর অধিকারসমূহ-

-সর্বদা স্বামীর মন জয় করার চেষ্টা করা।

-স্বামীর সাথে অসংযত আচরণ না করা।

-স্বামীকে কষ্ট না দেওয়া।

-কোন মতামত জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করা।

-প্রয়োজনাতিরিক্ত ভরণ-পোষণ দাবি না করা।

-বিবাহ বহির্ভূত কোনো ধরনের অবৈধ সম্পর্ক না রাখা।

-স্বামীর অনুমতি ছাড়া কাউকে ঘরে ঢোকার অনুমিত না দেওয়া।

-অনুমতি ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া।

-স্বামীর সম্পদ হেফাযত করা। অনুমতি ছাড়া সেখান থেকে কাউকে কোনো কিছু না দেওয়া।

-স্বামীকে অসন্তুষ্ট করে অতিরিক্ত নফল নামাযে মশগুল না থাকা। অতিরিক্ত নফল রোযা না রাখা।

-স্বামী মেলামেশার জন্য আহবান করলে শরীয়তসম্মত কোনো ওযর না থাকলে আপত্তি না করা।

-স্বামীর আমানত হিসেবে নিজের ইজ্জত-আব্রু হেফাযত করা। কোনো ধরনের খেয়ানত না করা।

-স্বামী দরিদ্র কিংবা অসুন্দর হওয়ার কারণে তাকে তুচ্ছ না করা।

-স্বামীকে কোনো গুনাহের কাজ করতে দেখলে আদবের সাথে তাকে বিরত রাখা।

-কারো কাছে স্বামীর বদনাম, দোষ- দুর্বলতা বর্ণনা না করা।

-শ্বশুর-শাশুড়িকে নিজের পিতা মাতা সমতুল্য ভাবা এবং তাদেরকে ভক্তি-শ্রদ্ধা করা। ঝগড়া-বিবাদ কিংবা অন্য কোনোভাবে তারা যাতে মনে কষ্ট না পান সেদিকে খেয়াল রাখা।

-সন্তানদের লালন-পালনে অবহেলা না করা।

-শরীয়তসম্মত প্রত্যেক কাজে স্বামীর আনুগত্য করা। গুনাহ এবং শরীয়ত বিরোধী কাজে অপারগতা তুলে ধরা এবং স্বামীকে নরম ভাষায় বোঝানো।

উত্তম স্ত্রী

হাদীস শরীফে আছে-‘উত্তম স্ত্রী হল, যখন তুমি তার দিকে তাকাও তখন সে তোমাকে আনন্দিত করে। যখন তাকে আদেশ কর তখন সে আনুগত্য করে আর যখন তুমি স্থানান্তরে যাও তখন সে তার ইজ্জত-আব্রু রক্ষা করে এবং সম্পদ হেফাযত করে।’

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘যে নারী পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে, রমযান মাসের রোযা রাখে, লজ্জাস্থানের হেফাযত করে এবং স্বামীর অনুগত থাকে তাকে বলা হবে তুমি যে দরজা দিয়ে চাও জান্নাতে প্রবেশ কর।

উত্তম স্বামী

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “তোমরা স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ কর। কেননা তাদেরকে পাঁজরের হাড্ডি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর পাঁজরের হাড্ডিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাঁকা হল উপরেরটি। সুতরাং তুমি যদি তা সোজা করতে যাও তাহলে ভেঙ্গে ফেলবে। আর যদি একেবারে ছেড়ে দাও তাহলে বাঁকাই থেকে যাবে। তাই স্ত্রীদের সাথে উত্তম আচরণ কর”

বৈবাহিক জীবনে স্বামী-স্ত্রী যদি এই বিষয়গুলো পরিপূর্ণরূপে মেনে চলতে পারে তবে তালাকের হার একবারে শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে ইনশাআল্লাহ।