আনারস, কাশি নিরাময়ে পাঁচগুণ কার্যকরী

স্বাস্থ্য Contributor
আনারস উপকার
ID 116358712 © Yuliia Chyzhevska | Dreamstime.com

সারা পৃথিবীতে আজ করোনা ভাইরাসে আতঙ্কে মানুষ আতঙ্কিত। চলছে লকডাউন, গৃহবন্দী মানুষ। করানো রোগে আক্রান্ত হওয়ার যে কয়েকটি উপসর্গ রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে কাশি। তবে সারা পৃথিবীতে মৌসুম পরিবর্তনের সময় সাধারণ ঠান্ডা, জ্বর এবং কাশি মানুষের হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো বিভিন্ন কারণে মানুষের কাশি হয়ে থাকে।

আনারস ও কাশিতে উপকারীতাঃ

কাশি চিকিৎসায় আনারস বিশেষ কার্যকর হতে পারে। আনারস গ্রহণের মাধ্যমে রোগী সেরে ওঠে দ্রুত। এক্ষেত্রে আনারসের জুস তৈরি করে গ্রহণ করা যেতে পারে। কাশি কমাতে আনারসের জুস যেকোনো তরল ঔষধ এর অর্থাৎ সিরাপ এর তুলনায় পাঁচ গুণ বেশি কার্যকর। আনারসের জুস মধু, গোলমরিচ অথবা লবণ দিয়েও তৈরি করা যাবে (তৈরি করার নিয়ম নিম্নে দেয়া আছে)।এই জুস গ্রহণের ফলে রোগীর ফুসফুসে জমে থাকা কফ কমে যাবে। শুকনো কাশি সারিয়ে তুলতে আনারস বিশেষ উপকারী। ডার ফার্মা কেমিকা সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, এই জুস সেবনে রোগী সেরেও ওঠেন তুলনামূলক দ্রুত।

গবেষকেরা বলছেন, আনারসে প্রচুর পরিমাণে ব্রোমেলাইন ও ম্যাঙ্গানিজ থাকে। শরীরের বিভিন্ন জ্বালা-যন্ত্রণা বা প্রদাহ নিরাময় করে এই ব্রোমেলাইন। এ ছাড়া এটি খাবার হজমেও সহায়তা করে। আর ম্যাঙ্গানিজ মানবদেহের সংযোজক টিস্যু গঠনে অংশগ্রহণ করে এবং স্নায়ুর ক্রিয়াকলাপে সহায়তা করে। এই দুই ভূমিকার কারণে কাশি সেরে ওঠে এবং ফুসফুসে জমাট কফ কমে যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্যানুসারে আনারসে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আঁশ এবং ভিটামিন সি। এছাড়াও ভিটামিন বি ওয়ান, বি সিক্স, কপারের ভালো উৎস এই ফল।

আনারস ও ভিটামিন সি-র উপকারীতাঃ

এ ছাড়া আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। এই ভিটামিন কেবল কাশি নয়, আর্থ্রাইিটসের চিকিৎসা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও বিশেষ সহায়তা করে। আর ভিটামিন সিতে ক্যানসাররোধী উপাদানও থাকে। ভিটামিন সি ঠাণ্ডা-কাশি দূরে রাখতে সাহায্য করে- এই কথা প্রায় সবার জানা। তবে আনারসে ভিটামিন সি ছাড়াও ব্রোমেলেইন উপাদান কাশি নিরাময়ে উপকারী ভূমিকা রাখে।

কাশি নিরাময়ের জন্য আনারসের জুস তৈরি করতে হলে এক কাপ জুসে ১/৪ কাপ লেবুর রস, তিন ইঞ্চি পরিমাণ আদা, এক চামচ মধু ও ১/২ চামচ গোলমরিচ বা লাল মরিচ মিশিয়ে নিন। এই শরবত দিনে দুই থেকে তিনবার পান করুন।

আনারসের শরবত বানানোর উপায়ঃ

পুষ্টি-বিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আনারস থেকে উপকারী পানীয় তৈরির আরো কিছু পদ্ধতি এখানে দেওয়া হল।

পদ্ধতি ১: আনারস ও মধু

আধা কাপ গরম আনারসের রসে এক টেবিল-চামচ মধু ভালোমতো মিশিয়ে নিতে হবে। তারপর কুসুম গরম অবস্থায় পান করতে হবে। কাশি দূর করতে আনারস ও মধু দুটোই কার্যকর।

পদ্ধতি ২: আনারসের রস, মধু, লবণ ও মরিচ

এক কাপ আনারসের রস, আধা টেবিল-চামচ মধু, এক চিমটি লবণ এবং অল্প মরিচ মিশিয়ে পান করতে হবে। দিনে তিন বার এই শরবত পান করা উপকারী।

পদ্ধতি ৩: আনারস, মধু, আদা, লালমরিচ এবং লবণ

এক কাপ আনারসের রসে ১ টেবিল-চামচ মধু, ১ টেবিল-চামচ আদাকুচি, এক চিমটি লবণ এবং অল্প লালমরিচের গুঁড়া ভালো মতো মিশিয়ে নিন। গলাব্যথা কমাতে মিশ্রণের ১/৪ অংশ প্রতিদিন পান করুন।

মনে রাখতে হবে কাশি থাকলে দুধের তৈরি খাবার, ক্যাফেইন, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এসব খাবার কাশির পক্ষে ক্ষতিকর।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.
Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.