আপনারা কি সুখী দম্পতি?

দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অথবা সুখী দাম্পত্য সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, মনোযোগ, ভালোবাসা এবং দায়িত্ববোধ। যেকোনো সুখী দম্পতি কে জিজ্ঞেস করলে তারা এই কথাগুলিই বলবে। দাম্পত্য সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে কোন ব্যাপারটা ক্লিক করবে সেটা একেক দম্পতির ক্ষেত্রে এক এক রকম।

প্রশ্ন করায় যেতে পারে সুখী দম্পতি কাকে বলে? হাসিখুশি, ঝগড়া না করে সংসার গেলেই কি সুখী দম্পতি বলে? এই বিষয়টি নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করব। তবে তার আগে আরো কিছু বিষয় জেনে নিন।

খেয়াল করলে দেখতে পাবেন কিছু কিছু দম্পতি আছে যারা লোকদেখানোর জন্য সুখের ভান করে থাকে। তাদের কোনো কিছুরই হয়তো অভাব নেই। অভাব বিশ্বাস, আস্থা আর ভালোবাসার। একে অপরের প্রতি সন্দেহজনক দৃষ্টি, মাত্রাতিরিক্ত খবরদারি, একজন আরেকজনের থেকে যে বড় এটা জাহির করার প্রবণতাই এদেরকে নিঃশেষ করে দেয়। মার্কিন দাম্পত্য পরামর্শবিষয়ক বেস্ট সেলার লেখক তাহেরেহ মাফি যেমনটা বলেছেন, ‘তোমার সঙ্গীর সুখের জন্য তুমি কিন্তু অক্সিজেন। অক্সিজেন ছাড়া যেমন এই সবুজ গ্রহে বাঁচা অসম্ভব; তেমনি তোমার আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা ছাড়া সঙ্গীর বেঁচে থাকা কঠিন ও অর্থহীন।’

সারা পৃথিবী জুড়েই আগ্রাসী বিপণন ব্যবস্থার কারণে মানুষের জীবনের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম্পত্য জীবনও এর বাইরে নয়। পণ্যের প্রতি আসক্তি, অন্যের প্রতি আসক্তি, তথাকথিত মেরুদণ্ডহীন আকর্ষণীয় লাইফ স্টাইল সহ বিভিন্ন কারণে ব্যক্তি অস্থিরতা তৈরি হয়। এবং এই অস্থিরতার কারণে দাম্পত্য জীবনে মমতা ও মনোযোগ এ দুটি কমে যায়। বিজ্ঞাপনের চটকারিতা, সোশ্যাল মিডিয়ার তথাকথিত পারফেক্ট জীবন এর প্রভাবে একটা বড় অংশ দাম্পত্য জীবন নিজেদেরকে অস্থিরতার মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দাম্পত্য জীবন তো কোনো বিচ্ছিন্ন দ্বীপ নয়। এখানে দুজনকে একসাথে পাশে থেকে সংসারের এবং জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। দুঃখবিলাসী হওয়ার বা নেতিবাচকতার কোন সুযোগ এখানে নেই। স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্যে প্রত্যেকেরই তিনটা করে জীবন থাকে—একটা তাঁর নিজের জন্য, একটা তাঁর সঙ্গীর জন্য, আরেকটি উভয়ের জন্য। এই চমৎকার উপলব্ধি বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী জ্যাকুলিন বিসেটের।

আপনারা আসলে দাম্পত্য জীবনে কতটুকু সুখী এটা নির্ণয় করার জন্য নিচে বেশ কিছু প্রশ্ন দেয়া হলো। এই প্রশ্নগুলোর যত বেশিসংখ্যক উত্তর ‘হ্যাঁ’ হবে, ধরে নেয়া যাবে আপনারা তত বেশি সুখী দম্পতি।

১. আপনার জীবনসঙ্গীর প্রিয় বিষয়গুলো সম্পর্কে আপনি কি জানেন?( ফুল, গান, রং, ইত্যাদি।)

২. সুযোগ থাকলে আপনারা কি একসাথে খেতে বসেন? আর সুযোগ না থাকলে কি একসাথে খেতে বসতে না পারার শূন্যতা অনুভব করেন?

৩. আপনারা কি সাধ্যমত কাছে কিংবা দূরে ঘুরতে কিংবা বেড়াতে যান?

৪. পরস্পরের শ্বশুর-শাশুড়ি এবং তাদের আপনজনদের প্রতি প্রাপ্য সম্মান দেখান?

৫. বিনোদনের জন্য নিয়মিতভাবে একত্রিত হন কি?

৬. সুযোগ পেলে মৌখিকভাবে আপনার ভালোবাসার কথা উপস্থাপন করেন কি?

৭. সন্তানকে লালন-পালনের ক্ষেত্রে দুইজনের একই ইতিবাচক ও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে?

৮. বিশেষ দিনগুলো কি একসাথে উদযাপন করেন? (জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী)

৯. জীবনসঙ্গীর সফলতায়, ব্যস্ততায় এবং ব্যক্তিস্বাধীনতায় বাধা না দিয়ে সহযোগিতা করেন কি?

১০. সুস্থ যৌন জীবন আপনাদের রয়েছে? এমনকি বৃদ্ধ বয়সে প্রতিদিন অন্তত একবারের জন্য হলেও সঙ্গীকে স্পষ্ট করেন?

জীবন যেমন বিচিত্রময়, ঠিক তেমনি দাম্পত্য জীবনও বৈচিত্র্যময়। হাসি-আনন্দ, বেদনা, দুঃখ, হতাশা, ক্ষোভ, রাগ নিয়েই দাম্পত্য জীবন এগিয়ে চলে। তবে সুখী দম্পতিরা নেতিবাচক বিষয় গুলো দূরে ঠেলে দিয়ে ইতিবাচক বিষয়গুলোকে আপন করে নেয়। সঙ্গীর যে কোন ভুল ত্রুটি ক্ষমাসুন্দর, সহনশীলতার দৃষ্টিতে দেখেন। কারো দুর্বলতা থাকলে সেটা নিয়ে উপহাস না করে বরং সেই দুর্বলতা কাটিয়ে সঙ্গীকে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায় সেই দিকে মনোনিবেশ অ সহায়তা করে। আসলে মমতা খবরদারি করে না, মমতা অংশগ্রহণ করতে শেখায়। তাই দাম্পত্য জীবন মমতা, প্রেম, ভালোবাসা নিয়েই এগিয়ে যাক।