আপনার নামাজকে গ্রহণযোগ্য ও উন্নত করার জন্য কয়েকটি পরামর্শ

dreamstime_s_180292266
180292266 © Elmirex2009 | Dreamstime.com

আপনার নামাজকে গ্রহণযোগ্য ও উন্নত করার জন্য এবং যথাযথভাবে সম্পাদন করার জন্য নিম্নে কিছু পরামর্শ দেওয়া হল, যেগুলি আপনার নামাজের কবুলিয়্যাতের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবেঃ

যথাযথভাবে অযু সম্পাদন

যথাযথভাবে অযু সম্পাদন করুন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সুন্দর করে অযু করবে, তারপর দুই রাকাত নামাজ এভাবে আদায় করবে যে, তাতে দুনিয়ার কোনো খেয়াল অন্তরে না আসে, তবে তার পিছনের সকল (সগীরা) গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।” (বুখারি, মুসলিম)

ঘর থেকে বেরনোর সময়

-ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অযু অবস্থায় বের হোন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য অযু অবস্থায় নিজের ঘর ত্যাগ করে সে হজ্জ্ব আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করে।” (মুসনাদে আহমাদ)

নামাজের সময়

-যথাসময়ে নামাজ আদায় করুন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সবচেয়ে উত্তম আমল হল যথাসময়ে নামাজ আদায় করা।” (বুখারী, মুসলিম)

জামাতে নামাজ

-জামাতের সাথে নামাজ আদায় করুন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জামাতের সাথে নামাজ আদায় কারী একাকী নামাজ আদায় কারীর তুলনায় সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদার অধিকারী।” (বুখারী, মুসলিম)

প্রথম তাকবীর বলার সাথে সাথে নামাজে শরীক হোন

-ইমামের প্রথম তাকবীর বলার সাথে সাথে নামাজে শরীক হোন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি চল্লিশ দিন প্রত্যেক নামাজ জামাতের সাথে এমনভাবে আদায় করবে যে, ইমামের সাথে তার প্রথম তাকবির ছুটে না, তার জন্য দুটি পরোয়ানা লিখে দেওয়া হয়। এক. জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি, দুই. মুনাফিকি থেকে মুক্তি।” (তিরমিযী)

হেঁটে মসজিদে যান

-নামাজের জন্য পায়ে হেটে মসজিদে গমন করুন। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যাক্তি ফরজ নামাজ আদায়ের জন্য অযু করে আল্লাহর ঘরের দিকে অগ্রসর হয়, তার প্রতি কদমে একটি গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।” (মুসলিম)

মনোযোগিতা

-নামাজ আদায়ের সময় খুবই মনোযোগ সহকারে আদায় করুন।  

-এক ওয়াক্ত নামাজের পর আরেক ওয়াক্ত নামাজের অপেক্ষায় থাকুন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “হাশরের ময়দানে আল্লাহ যেই সাত শ্রেণীকে তাঁর আরশের ছায়ায় স্থান দেবেন তার মধ্যে একশ্রেণী তারা যাদের দিল (নামাজের জন্য) মসজিদে আটকে থাকে।” (বুখারী, মুসলিম)

সুন্নতের খেয়াল

-রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের দিকে খেয়াল রেখে নামাজ আদায় করুন।

-নিয়মিত ঘরে নফল নামাজ আদায় করুন। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ফরজ নামাজের পর সবচেয়ে উত্তম হল নিজ ঘরে নফল নামাজ আদায় করা।” (তাবারানী)

ঘুমের সময় বিধি

-ফজরের নামাজে সহজে উঠার জন্য রাতে ঘুমাতে খুব বেশি দেরী করবেন না।

-অতিরিক্ত পানাহার ও হাসি-তামাশাকে বর্জন করুন। কারণ, এগুলা অন্তরকে মৃত করে দেয় এবং ইবাদতে গাফলতি পয়দা করে।

-ফজরে সহজে ঘুম ভাঙ্গার জন্য মোবাইলে অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন অথবা কাউকে বলে রাখুন যেন সে আপনাকে ডেকে দেয়।

আয়াত সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা

-নামাজে যে আয়াতগুলো তেলাওয়াত করছেন সেগুলি সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করুন।

-পূর্ববর্তীদের জীবনী পড়ুন আর এটা অনুধাবনের চেষ্টা করুন যে, তারা কিভাবে ইবাদতে মগ্ন থাকতেন।

-নামাজ শুরুর আগে সর্বশক্তিমান আল্লাহর সম্পর্কে চিন্তা করুন।

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন, নামাজীরা ৫টি শ্রেণীতে বিভক্ত।

প্রথম প্রকার

১ম প্রকার হল মুহাকিব। এ প্রকার নামাজীরা মাঝে মধ্যে নামাজ আদায় করে। প্রায়শই নামাজ ত্যাগ করে। এরা নিজের নফসের ওপর জুলুমকারী ও সীমালঙ্ঘনকারী। অর্থাৎ নামাজের অযু, সময়, সুন্নাত ও রুকন সব ক্ষেত্রেই এরা ত্রুটি করে।

দ্বিতীয় প্রকার

২য় প্রকার হল মুহাসিব। যারা নিয়মিত নামাজ তো আদায় করে, কিন্তু নামাজে মনোযোগী হয় না। আর মনোযোগ আনার চেষ্টাও করে না। শুধু বাহ্যিক নামাজই এদের ঠিক আছে, কিন্তু অন্তর ঠিক নেই।

তৃতীয় প্রকার

৩য় প্রকার হল মুকাফফার আনহু। এরাও নিয়মিত নামাজ আদায় করে এবং এদেরও নামাজে পুরোপুরি মনোযোগ থাকে না। তবে এরা নফস আর শয়তানের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। নামাজে মনোযোগ রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে।

চতুর্থ প্রকার

৪র্থ প্রকার হল মুছাব। যারা পরিপূর্ণ সুন্নাত মোতাবেক এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে নামাজ আদায় করে।

পঞ্চম প্রকার

৫ম প্রকার হল মুকাররাব। যারা পরিপূর্ণ সুন্নাত মোতাবেক ও মনোযোগ সহকারে নামায আদায় করে এবং সব ধরনের গুনাহ্ থেকেও নিজেকে বাচিয়ে রাখে। নামাজ আদায় করে এরা আনন্দ অনুভব করে।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে নিজ নিজ অবস্থান অনুযায়ী নামাজে আরও বেশি মনোযোগী ও যত্নশীল হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।