আপনার ফ্রুট স্যালাডে রাখছেন কি ভিটামিন সমৃদ্ধ কিউই ফল?

fruit salad

রোঁয়া ওঠা ইষৎ বাদামি বর্ণের এই ফলের ভিতরটা কিন্তু সবুজ। রসালো সবুজ শাঁসের মধ্যে মধ্যে রয়েছে ছোট ছোট কালো কালো বীজের দানা। কয়েকদশক আগেই ফলটি বাজারে সেভাবে পরিচিত না হয়ে উঠলেও এখন কিন্তু সকলের কাছেই বিশেষভাবেই পরিচিত। আজকাল অবশ্য ফ্রুট স্যালাড বানাতে গিয়ে হামেশাই ফলটির ব্যবহার করা হয়ে থাকছে। ব্যবহার করাটাও বেশ স্বাভাবিক! এর চমকপ্রদ স্বাদ এবং পুষ্টিগুণ দুই-ই এর জনপ্রিয়তা তৈরি করতে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। পাঠকদের মধ্যে আর ধোঁয়াশা বা সন্দেহ না রেখে বলে নামটা এবারে বলে ফেলাই ভাল… কথা হচ্ছে কিউই ফল নিয়ে। মূলত চিন দেশেই কিউই ফলের চাষ সবথেকে বেশি পরিমাণে হয়। কিউই ক্ষেত্রবিশেষে চাইনিজ গুজবেরী নামেও পরিচিত। এখন অবশ্য এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এমনকী ভারতেরও বিভিন্ন স্থানে কিউই ফলের চাষ করা হয়ে থাকে। এই প্রসঙ্গে আরও একটা বিষয় উল্লেখ করা যায় নিউজিল্যান্ডের জাতীয় ফল হিসেবে কিউই চিহ্নিত।

কিউই ফলটির নানাবিধ গুণাগুণ এবং উপকারিতা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে প্রথমেই যেটা বলা প্রয়োজন কিউই হচ্ছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। সুস্থ এবং নীরোগ স্বাস্থ্যের জন্য এই তিনের ভূমিকাই বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য একথা অস্বীকার করা যায় না।

১। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, কোলাইন, লুটিন, জেক্সানথিন প্রভৃতি। এইসবই আমাদের শরীর থেকে খারাপ এবং দূষিত পদার্থ বা কণিকা বের করে দিতে সাহায্য করে। ফলে শরীর অনেক বেশি পরিমাণে সতেজ, কর্মক্ষম থাকে। শরীরের মধ্যে অক্সিডেটিভ পদার্থের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে আমাদের শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা যায়। ক্ষেত্রবিশেষে তা থেকে হৃদরোগের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া ক্যানসারের মতো কঠিন রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে কিউই।

২। কিউই যেহেতু উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, সেহেতু আমরা জানি ভিটামিন সি কোলোজেন তৈরিতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। এই কোলোজেন হল আমাদের দেহকোশের অন্যতম প্রধান উপাদান। ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ানোর পাশাপাশি ত্বকের কোনও প্রকার ক্ষত নিরাময়ের ক্ষেত্রেও কোলোজেন সাহায্য করে।

৩। আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ঘুমের সমস্যায় ভোগেন। অনিদ্রাজনিত সমস্যার কারণে শারীরিক নানা অসুবিধাও দেখা দেয় ক্ষেত্রবিশেষে। ২০১১ সালে প্রাপ্ত একটি গবেষণা মারফৎ জানা গিয়েছে কিউই ফল অনেকাংশেই অনিদ্রাজনিত সমস্যা নিরাময়ে সক্ষম। গবেষকেরা এক্ষেত্রে মনে করেন যেহেতু এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং সেরাটোনিন জাতীয় পদার্থ, তাই এগুলো ঘুম সংক্রান্ত সমস্যা নিরাময়ে এবং দেহের কোশ এবং পেশির প্রশান্তি প্রদানে বিশেষভাবে কার্যকর।

৩। বিভিন্ন খনিজ উপাদান যেমন-ক্যালশিয়াম, আয়রন, পটাশিয়ামে ভরপুর হল কিউই ফল। এই সবই আমাদের শরীরে খনিজের ঘাটতি পূরণ করতে শরীরে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং একইসঙ্গে হাড় ও দাঁতের মজবুত গঠনের জন্য বিশেষভাবে সাহায্য করে।

৪। রক্তচাপের সমস্যাতে যারা ভুগছেন তারা এই ফলটি খেতে পারেন, কারণ এতে থাকা রায়োঅ্যাক্টিভ শরীরে রক্তসঞ্চালনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

৫। ভিটামিন এ এবং ফাইটোক্যামিক্যাল সমৃদ্ধ কিউই ফ্রুট চোখের সমস্যা নিরাময়েও সাহায্য করে।

৬। সম্প্রতি অফিস অফ ডাইয়েট্রি সাপলিমেন্টস-এর একটি সমীক্ষা থেকে জানা যায় উচ্চ মাত্রায় পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে এটি কিডনিতে স্টোন বা পাথর হওয়ার হাত থেকেও রক্ষা করে।

৭। কিউই ফলটি ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার কারণে কোষ্ঠাকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

৮। কিউই ফল খেতে বেশ মিষ্টি। যারা সুগার বা মধুমেহ রোগে আক্রান্ত তারা মিষ্টিজাতীয় খাবারের পরিবর্তে এই ফলটি খেতে পারেন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভাল লো-গ্লাইসেমিক হওয়ার কারণে কিউই ফল ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে।

৯। নির্দিষ্ট বয়সের পরে নারী এবং পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই হাড়ের সমস্যা বা হাড়ের ক্ষয় দেখা দিতে পারে। যা অস্টিওপোরোসিস নামেও পরিচিত। কিউই ফলে রয়েছে ভিটামিন কে, যা হাড়ের ক্ষয় থেকে শরীরকে রক্ষা করে।

১০। অনেকেরই শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির রোগ রয়েছে, তারা প্রতিদিনের ডায়েটে অবশ্যই কিউই ফল খেতে পারেন। এতে শ্বাসকষ্টের যন্ত্রণা অনেকখানি উপশম হওয়া সম্ভব।

সুতরাং, বহুগুণে সমৃদ্ধ এই ফলটি পরেরবার থেকে ফ্রুট স্যালাড বানানোর সময়ে অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে রাখতে ভুলবেন না যেন!