আপনার রাগের বহিঃপ্রকাশ শিশুমনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে

Sabar dan tahan marah anda © Zurijeta | Dreamstime.com

ক্রোধ আমাদের জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত একটি অনুভূতি যা অনেক সময় ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়। এরকম অনেক মানুষ আছেন যারা খুব সহজেই রেগে যান এবং রাগের মাথায় আসবাবপত্র ভাঙাভাঙি করেন। এর ফলে রাগ হয়তো কমে যায় কিন্তু ক্ষতির সম্ভবনা থাকে প্রবল। যারা সন্তানসন্ততিদের অভিভাবক তাদের রাগের বহিঃপ্রকাশ শিশুদের মনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না যে আপনার বাচ্চা আপনাকে ভয় পাক বা অপছন্দ করুক। তাই এমন কোনো ব্যবহার তাদের সাথে বা তাদের সামনে করবেন না যাতে তাদের মনের উপর বিরূপ প্রভাব পরে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ কাজ নয় তবে কিছু বদঅভ্যাস ত্যাগ করলে এটি সহজাত ভাবেই নিয়ন্ত্রিত হয়। আসুন আজ আমরা জেনে নিই ক্রোধ নিয়ন্ত্রণের উপায় কী কী হতে পারে।

আপনার রাগের উৎসকে চিহ্নিত করুন

আপনি ঠিক কোন কারনে রেগে যান ছেলেমেয়েদের সামনে? এটা কি কোনো ব্যক্তিগত কারণ? যদি আপনার ব্যক্তিগত কারণ থেকে রাগ হয় (ব্যক্তিগত সমস্যা বা শারিরীক সমস্যা) তাহলে আপনার বাচ্চার চোখের আড়ালে গিয়ে এর প্রতিকার খুঁজুন। হঠাৎ প্রচন্ড রাগ হলে শুয়ে পড়ুন, ফাঁকা জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকুন কিছুক্ষণ। প্রয়োজনে ওজু করে কোরআন নিয়ে বসুন রাগ কমে যাবে।

দাম্পত্য জীবনের সমস্যা বাচ্চাদের মনে সবচেয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। তারা কখনই চাইবেনা যে তার পিতামাতা নিজেদের মধ্যে মনোমালিন্য করুন। এ বিষয়ে আপনার স্বামী/স্ত্রীর সাথে কথা বলুন, সমস্যা গুরুতর হলে কাউন্সেলরের কাছে যান। নিজেদের সমস্যা বা ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের কথা শিশুর কাছে প্রকাশ না করাই শ্রেয়। তবে আপনার ছেলে বা মেয়ে যদি তেরো-চোদ্দ বছর বা তার অধিক হয় তাহলে তাদের সাথে শান্ত হয়ে এবিষয়ে আলোচনা করুন। আজকালকার ছেলেমেয়েরা অনেক বেশী ম্যাচিউর হয়, হয়ত তাদের থেকেই কোনো সমাধান পেয়ে যাবেন।

আপনার ক্রোধের কারণ কী আপনার সন্তান নিজেই? এই ঘটনা আজকের দিনে আকছার ঘটে। নতুন প্রজন্ম পুরোনো প্রজন্মের থেকে আলাদা ভাবে বড় হচ্ছে, তাদের ভাবনাচিন্তাও সম্পূর্ণ আলাদা। তাই আপনার ছেলে/মেয়ে পাঁচবছরের হোক বা পনেরো বছরের, মনের অমিল হতেই পারে।

আপনার সন্তান যদি ছোটো হয় তাহলে তাকে বোঝান সে কোথায় ভুল ভাবছে। আদর করে যুক্তি শেখান তাহলে সে বুঝতে পারবে। প্রয়োজন হলে বকা দিন কিন্তু সেটা যেন উচ্চস্বরে না হয়, কখনই গায়ে হাত তুলবেন না।

আপনার সন্তান যদি বয়ঃসন্ধিকালে থাকে তাহলে তার সমস্যা কথা শুনুন, বুঝতে চেষ্টা করুন তার যুক্তি গুলো। এই সময় অভিভাবকদের সচেতন থাকতে হয় সন্তানদের মানসিক পরিবর্তনগুলোকে গভীর মনযোগ দিয়ে বুঝতে হয়। মতের অমিল হলে রেগে যাবেন না ঠান্ডা মাথায় যুক্তি দিয়ে তর্ক করুন, ঠিক কোনো সমাধান বেড়িয়ে আসবে। কখনও ভাববেন না যে আপনার স্বপ্নগুলো তার মধ্যে দিয়ে প্রতিপালন করবেন বা আপনি যা চান আপনার সন্তান তাই করবে। ভুলে যাবেন না দুটো প্রজন্মের মধ্যে কিন্তু প্রায় পঁচিশ-তিরিশ বছরের পার্থক্য।

আপনার রাগের উৎসগুলি চিহ্নিত করতে পারলেই অর্ধেক কাজ হয়ে যাবে। বাকিটা নিজে থেকেই করতে পারেন অথবা কারও সাহায্য নিন। সমস্যা হলে সেটাকে এড়িয়ে না গিয়ে মুখোমুখি হন, তাহলে সমাধান পাওয়া যাবে।