আপনার সন্তানকে মুহাররম এবং আশুরা সম্পর্কে শিক্ষা দিন

young muslim boy praying on mat with city in background
© Suryadi Djasman Kartodiwiryo | Dreamstime.com

সম্পাদকের মন্তব্য:

এই নিবন্ধে, আমরা পবিত্র মুহাররম মাস এবং আশুরার দিন সম্পর্কে সহজ কিছু তথ্য সরবরাহ করব যাতে মুসলিম পিতামাতারা সহজেই তাদের সন্তানদের কাছে এটি পড়তে পারেন এবং আশীর্বাদময় এই দিনগুলি সম্পর্কে তাদেরকে শিক্ষা দিতে পারেন।

মুহাররম

মুহাররম হিজরি বর্ষের প্রথম মাস এবং সেই চারটি পবিত্র মাসের মধ্যে একটি যেগুলির সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, “আসমান-যমীন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কিতাবে (লৌহ মাহফুজে) মাসগুলোর সংখ্যা হল বার। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এটা হল সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। কাজেই ঐ সময়ের মধ্যে নিজেদের উপর যুলুম করো না। মুশরিকদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মকভাবে যুদ্ধ করে। জেনে রেখ, আল্লাহ অবশ্যই মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।” (আল কুরআন-৯:৩৬)

মুহাররম মাস বছরের অন্য মাস থেকে আলাদা এবং এটি চারটি পবিত্র মাসের অন্যতম। এ কারণে মহান আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন, “… সুতরাং ঐ সময়ের মধ্যে নিজেদের উপর যুলুম করো না…” যার অর্থ এই পবিত্র মাসে নিজেকে অন্যায় কাজে, পাপ কাজে লিপ্ত করো না। কারণ এই মাসের গুনাহ অন্যান্য মাসের চেয়েও মারাত্মক।

পবিত্র মাস চারটি হল: যিলক্বদ, যিলহজ্জ্ব, মুহাররম এবং রজব। এই সকল মাসে কৃত গুনাহগুলি অন্য যেকোনো মাস থেকে আরও গুরুতর এবং এই সকল মাসে কৃত নেক কাজগুলি অন্য যেকোনো মাস থেকে আরও বেশি পুরষ্কারের যোগ্য। সুতরাং, মুসলমানদেরকে এই মাসগুলিতে গুনাহ থেকে বিরত থাকতে এবং নেক আমল বৃদ্ধিতে উত্সাহিত করা হয়।

আশুরা

আশুরা মুহারমের দশম দিন, যেদিনটি মুসলমানরা রোজা রেখে উদযাপন করে।

আশুরার দিনে রোজার ঐতিহ্য অনেক প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবাগণ মদীনায় হিজরতের পূর্ব থেকেই মুহাররমের দশম দিন অর্থাৎ আশুরার দিন রোজা রাখতেন।

এটি মক্কাবাসীদের নিকট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল যে, তারা এ দিন কাবাঘরের গিলাফ (কিসওয়াহ) পরিবর্তন করত। কুরাইশরাও এ দিন রোজা রাখত।

ইহুদীদের সিয়াম পালন

হিজরতের পরে যখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় এলেন তখন তিনি দেখতে পেলেন যে মদিনার ইহুদীরাও এ দিনে সিয়াম পালন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে এ দিনে রোযা রাখার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তারা বলল, “এটি একটি বরকতময় দিন। এ দিন আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে তাদের শত্রু থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং তাই হযরত মুসা আ’লাইহিস সালাম এ দিন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে রোজা রেখেছিলেন।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কথা শুনে বললেন, “মূসার প্রতি তোমাদের চেয়ে আমাদের বেশি দাবি রয়েছে।” তাই তিনি সেদিন রোজা রেখে মুসলমানদেরকেও এ দিন রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

আশুরার রোযা ইসলামের শুরুর দিকে ফরয ছিল। হিজরতের দ্বিতীয় বছরে (অর্থাৎ, ৬২৪ খ্রিস্টাব্দ) যখন আল্লাহর নির্দেশ এলো যে, মুসলমানরা পুরো রমজান মাস জুড়ে রোজা রাখবে, তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম একজনকে লোকদের মাঝে ঘোষণা করতে পাঠালেন যে, “আশুরার রোজা নফল হয়ে গেছে। যার ইচ্ছা হয় সে এদিন রাখবে আর যার ইচ্ছা হয় সে রাখবে না। এতে আর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।” এটি ইঙ্গিত দেয়, যে ব্যক্তি রোযা রাখতে চায় সে রাখতে পারে এবং যে রোজা রাখতে চায় না সে এর জন্য দোষী সাব্যস্ত হবে না। তবে, যারা রোজা রাখা বেছে নেয় তাদেরকে ইহুদী সম্প্রদায় থেকে পৃথক করার জন্য ৯ এবং ১০-ই মুহাররম বা ১০ এবং ১১-ই মুহাররম রোজা রাখা উচিত।

মুহাররমের নবম ও দশম তারিখ রোজা রাখা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি গুরত্বপূর্ণ সুন্নত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান প্রত্যাশা করছি আরাফার রোজা বিগত বছর ও আগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে। আরও প্রত্যাশা করছি আশুরার রোজা বিগত বছরের গুনাহ মার্জনা করবে।”(মুসলিম)