আপনি কী বিবাহ সম্পর্কে এই ভুল ধারণাগুলি পোষণ করছেন?

Муфтий Чечни Салах Межиев временно приостановил проведение никахов
ID 168834425 © Евгений Вершинин | Dreamstime.com

আছিয়া ও আহমেদ বিবাহিত জীবনে প্রবেশ করতে আগ্রহী। তবে তারা উভয়ই এই বাস্তবতার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না যে, বিবাহের জন্য শ্রম এবং আপস প্রয়োজন, বৈবাহিক জীবনে মতবিরোধ ঘটবে এবং কিছু জিনিস সর্বদাই নিজের প্রত্যাশা অনুপাতে ঘটবে না।

বিবাহের ভুল ধারণাগুলি পূর্ব থেকেই সনাক্ত করে রাখলে তা আপনার ভবিষ্যতের বিবাহের জন্য সহায়ক হতে পারে। সামগ্রিকভাবে বিবাহ বিস্ময়কর প্রেমের একটি মেলবন্ধন যা আপনার জন্য একজন জীবনসঙ্গীর বন্দোবস্ত করে।

বিবাহ সম্পর্কে ভুল ধারণাগুলি বিবাহের একটি মিথ্যা ছবি আঁকে এবং নতুন দম্পতির জন্য বৈবাহিক প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ করার পরিবর্তে আরও জটিল করে তোলে।

বিবাহের প্রকারভেদ

সকলের জন্য বিবাহের ধারণাটি একরকম হয় না, যেটি একজনের জন্য কাজ করে সেটি অন্য কারও জন্য কাজ নাও করতে পারে। এজন্য প্রতিটা নিয়ামকের কথা চিন্তা করে বিবাহ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। যেমন কোনো কোনো দম্পতির জন্য পিতামাতার পছন্দে বিবাহ করাটা কল্যাণকর হয়, আবার কারও জন্য সংসারে অশান্তি ও জীবনে হতাশা নিয়ে আসে।

“হে ঈমানদারগণ! জোরপূর্বক নারীদের ওয়ারিশ হওয়া তোমাদের জন্য বৈধ নয় আর তাদেরকে দেয়া মাল হতে কিছু উসূল করে নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করবে না, যদি না তারা সুস্পষ্ট ব্যভিচার করে। তাদের সাথে দয়া ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন কর, যদি তাদেরকে না-পছন্দ কর, তবে হতে পারে যে তোমরা যাকে না-পছন্দ করছ, বস্তুতঃ তারই মধ্যে আল্লাহ বহু কল্যাণ দিয়ে রেখেছেন।” (আল কুরআন-৪:১৯)

যেকোনো ধরণের বিবাহে প্রবেশ করা হোক না কেন, বিবাহের বিষয়ে ইসলামিক বর্ণনাকে মাথায় রাখা খুবই জরুরি।

হাদিসে আছে, “নারীদের চারটি গুণ দেখে বিয়ে করো: তার সম্পদ, তার বংশমর্যাদা, তার রূপ-সৌন্দর্য ও তার দ্বীনদারী। তবে তুমি দ্বীনদারীকে প্রাধান্য দেবে। নতুবা তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে” (বুখারী ও মুসলিম)

বিবাহের বিষয়ে বিবেচনা করার সময়, এই চারটি বিষয়কে অবশ্যই বিবেচনা করা উচিত। তবে দ্বীনদারীকে বর্তমান সমাজে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না, যার কারণে সংসারে অশান্তিরও অবসান ঘটে না।

বিবাহের জন্য প্রচেষ্টা প্রয়োজন

বিবাহ আপনা থেকেই আপনার সমস্ত সমস্যার সমাধান করবে, সবকিছু সহজ করবে, দ্রুত একটি শিশু সরবরাহ করবে এটি রূপকথার রোম্যান্সের মতোই এটি একটি রূপকথার গল্প। তবে বিবাহের জন্য উভয় পক্ষ থেকেই সমঝোতা এবং প্রচেষ্টার প্রয়োজন হয়।

স্ত্রী পুরো পরিবারকে চিরকাল বহন করতে পারবে না। উভয়কেই আন্তরিক ও সত্যিকারের উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তাদের বন্ধনের প্রতি অবদান রাখতে হবে। দম্পতিদেরকে তাদের জীবনযুদ্ধে একত্রে পথ চলতে হবে এবং পরস্পরের প্রয়োজন ও অনুভূতিকে সম্মান জানাতে হবে।

পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাস না থাকলে বৈবাহিক জীবনে কখনও সুখের সন্ধান পাওয়া যাবে না। বরং, এগুলি না থাকলে অনেকক্ষেত্রে বিবাহ-বিচ্ছেদের মত ঘটনাও ঘটে।

বৈবাহিক জীবনে নিজের জিহ্বাকে নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাগান্বিত হয়ে নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে কিছু বলে ফেললে সেটির প্রভাব অন্তরে পড়ে যায় এবং এর দ্বারা সম্পর্কের মাঝে ধীরে ধীরে অবনতি ঘটে। 

ধৈর্য্য কুরআন সুন্নাহর একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, যেটির মাধ্যমে সকল অশান্তির অবসান ঘটতে পারে। আল্লাহ বলেন, “হে মুমিন গন! তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চিতই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন” (আল কুরআন-২:১৫৩)

স্ত্রী পরিবর্তন করা

আমাদের মাঝে প্রচলিত আরেকটি ভুল ধারণা হল, বিয়ের পর যেকোনো সময়ই স্ত্রী পরিবর্তন করা যাবে। তাই বিয়ের শুরুতে পাত্রী নির্বাচনকে অতটা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এ কথাটি সত্য যে, বিয়ের পর তালাক দেওয়ার সুযোগ আছে, কিন্তু এটির ভুল প্রয়োগ করা যাবে না। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে আল্লাহতায়ালার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত বিষয় হচ্ছে তালাক।” (আবু দাউদ)

যৌনতা সম্পর্কে ভুল ধারণা

স্বাভাবিক যৌন-সম্পর্ক যেকোনো দাম্পত্যকে সুখী রাখতে সহায়তা করে। বিয়ের আগে মনে হয়, বিয়ের পর ইচ্ছে হলেই যখন-তখন যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা সম্ভব। বাস্তবে এমনটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা থাকে না। রোজকার বাস্তবতা, ব্যস্ততা ও সমস্যায় এমন আকাঙ্ক্ষা বিয়ের পর কমতে থাকে। এ নিয়ে দুই পক্ষেই হতাশা বাড়ে।

সর্বশেষ ভাবনা

বিবাহ আজীবনের জন্য একটি প্রতিশ্রুতি যার জন্য শ্রম, ধৈর্য্য, ​​পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও বিশ্বাসের প্রয়োজন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার বন্ধন ধীরে ধীরে গভীরতর হয়ে ওঠে, তবে পরস্পরের সাথে মিশে কিভাবে থাকবে এটি বুঝতে একটু সময় লাগে।