আমাদের জীবনে ‘স্থায়ী সৎকর্ম’ কোনটা?

আকীদাহ Contributor
ID 94976136 © sanfar azeez | Dreamstime.com
ID 94976136 © sanfar azeez | Dreamstime.com

মানুষের জীবন দশায়  অর্থ ও সন্তান প্রত্যাশা করে থাকে।  মানুষ ভেবে থাকে অনেক অর্থ আয় করব।  এবং বর্তমানে আমরা অর্থের পাহাড় গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকি।  শুধু অর্থ আর অর্থ।  আর সন্তানকে নিজের খুঁটি হিসেবে বিবেচনা করার চেষ্টা করে থাকি।  বিশেষ করে বয়সের ভারে যখন আমরা ভারাক্রান্ত হয়ে যাব তখন সন্তান আমার  আশ্রয়স্থল হবে এই হিসাব আমরা করে থাকি। ইসলামের দৃষ্টিতে সন্তান-সম্পদ জীবনের সৌন্দর্যছবি : প্রতীকী, অর্থবৈভব ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের শোভা-আভা। সঠিক ও যথাযথ এগুলোর ব্যবহার হলে পরকালে কল্যাণ ও পুরস্কার লাভ হবে। না হয় এগুলোই ডেকে নিয়ে আসবে চূড়ান্ত বিপদ। মূলত পরকালের জন্য সৎকর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।  আর বিশেষ থাই সৎকর্ম গুলো আল্লাহর কাছে অনেক অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

মৃত্যুর পর বহাল থাকা সৎকর্ম

ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের রূপ-সৌন্দর্য। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য। ‘স্থায়ী সৎকর্ম’ তোমার রবের কাছে পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য শ্রেষ্ঠ এবং আশান্বিত হওয়ার জন্যও সর্বোৎকৃষ্ট। ’ (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৪৬)

আমরা যে সকল সৎকর্ম করে থাকি তার মধ্যে কিছু সৎকর্ম রয়েছে যার ফল আমাদের মৃত্যুর পরেও চালু থাকবে।  যেমন-  সন্তানকে সুশিক্ষা প্রদান,  জ্ঞান অর্থ সৃষ্টির সেবায় ব্যয় করা ইত্যাদি।  এসব কাজের সুফল অনন্তকাল ধরে পাওয়া যায়।  কারণ এসব কাজ চলমান থাকে ফলে এর থেকে সৃষ্টি হয় কল্যাণকর বিষয়।

তাফসিরবিদ আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রহ.)-এর মতে, স্থায়ী সৎকর্ম হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। অধিকাংস তাফসিরবিদরা বলেন, এ আয়াতে যে স্থায়ী সৎকর্মের কথা বলা হয়েছে তা হলো, ‘সুবহানাল্লাহ ওয়ালহামদু লিল্লাহ ওয়ালা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম। ’ দোয়াটির শব্দগুলো আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত এবং হাদিসগ্রন্থ নাসায়ি শরিফ থেকে উদ্ধৃত। এই দোয়ার মাধ্যমে জান্নাতের ধনাগার লাভ হয় বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। দোয়াটির অর্থ হলো, ‘মহিমাময় পবিত্র আল্লাহ, সমস্ত প্রশংসা তাঁরই। তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তিনি সবচেয়ে বড়। তিনি ছাড়া কোনো ভরসা নেই। আর সুমহান, মর্যাদাবান আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি বা ক্ষমতা নেই। ’

ইহকাল এবং পরকাল

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ করার মত যে আলোচিত আয়াতে পৃথিবী বা দুনিয়া ত্যাগ করতে বলা হয়নি।  বরং এখানে বলা হচ্ছে যে দুনিয়াতে থাকা অবস্থায় পরকালেকে প্রাধান্য দিতে।  দুনিয়াতে থাকাকালীন অবস্থায় ধন সম্পদ উপার্জন সন্তান জন্ম দেওয়া নিষিদ্ধ কোনো বিষয় নয়।  কিন্তু  এসব বিষয়ে মোহগ্রস্ত হওয়া যাবে না।  এসব বিষয়ে পরকালীন জীবনকে  ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।  এই বিষয়গুলোতে সব সময় লক্ষ্য রাখতে হবে।  ইসলাম একটি কল্যাণকর ধর্ম।  ইহকাল এবং পরকাল এর মধ্যে স্থাপন করতে বলা হয়েছে। জাহেলি যুগের পাদ্রিরা সন্ন্যাসী সেজে মানুষের ভক্তি পুঁজি করে অর্থ উপার্জন করেছিল। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘আর সন্ন্যাসবাদ—এটা তো তারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করেছিল। আমি তাদের এই বিধান দিইনি; অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি। ’ (সুরা : হাদিদ, আয়াত : ২৭)

যারা পার্থিব সম্পদ ও সৌন্দর্য হারাম মনে করে, তাদের উদ্দেশ্য করে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তাদের জিজ্ঞাসা করো, ‘আল্লাহ বান্দাদের জন্য যে সৌন্দর্য ও পবিত্র রিজিক সৃষ্টি করেছেন, তা হারাম করল কে?’ বলে দাও, ‘এগুলো ঈমানদারদের পার্থিব জীবনের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য এবং বিশেষভাবে পরকালের জন্য নির্দিষ্ট। ’ এভাবে আমি জ্ঞানবানদের জন্য আমার আয়াতগুলো সবিস্তারে উপস্থাপন করি। ” (সুরা আরাফ, আয়াত : ৩২)

আবার ইসলাম প্রয়োজনীয় কাজ উপার্জন বাদ দিয়ে শুধুমাত্র পরকালের চিন্তায় পড়ে থাকার নির্দেশ দেয়নি।  বরং দুনিয়াতে আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পদ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন অনুসারে করার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, ‘আল্লাহ যা তোমাকে দিয়েছেন, তা দিয়ে আখিরাতের আবাস সন্ধান করো। কিন্তু দুনিয়া থেকে তোমার অংশ ভুলে যেয়ো না…। ’ (সুরা : কাসাস, আয়াত : ৭৭)।

মহান রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আরো বেশি বেশি করে সৎকর্ম করার তৌফিক দান করুন।

Enjoy Ali Huda! Exclusive for your kids.