আমাদের সমাজকে উত্তমরূপে গড়ে তুলতে কুরআনের ৩টি আয়াত

Amalan Pemuda Ahli Syurga

এই নিবন্ধে আমরা আলোচনা করব যে, কুরআন কিভাবে আমাদের সমাজকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে পারে। আমরা কিভাবে কুরআনের রঙে রঙ্গীন হতে পারি।

ফরজসমূহ যথাযথভাবে আদায় করা

প্রথম যে আয়াতটি উল্লেখ করব সেটি কুরআনের ৫ম সূরা, সূরা আল-মায়েদার। যেখানে বলা হয়েছে,

“হে মুমিনগণ, তোমরা অঙ্গীকারসমূহ পূর্ণ কর।” (আল কুরআন-৫:১)

আরবিতে চুক্তি(আকদ) শব্দটি দ্বারা শুধুমাত্র কেবল বাণিজ্যিক লেনদেনই নয়, বরং মানুষের মধ্যে নির্মিত প্রতিটি সম্পর্ককে বোঝায়। মুসলিম হিসাবে আমাদের উচিত, যখন আমরা কোনো প্রতিশ্রুতি করি তখন তা যত ছোটই হোক না কেন, তা যথাযথভাবে আদায় করা।

আপনি যখন ছোট ভাইবোনদের তাদের পড়াশোনায় সহায়তা করার, সহকর্মীকে সহায়তা করার, বা এমনকি বাড়ির কাজকর্মে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তখন এটি পূরণ করা আপনার আধ্যাত্মিক মূল্যবোধের একটি বাধ্যবাধকতা।

এই বাধ্যবাধকতাগুলি পূরণ করার অর্থ হল আমরা আল্লাহর আদেশের প্রতি সাড়া দিচ্ছি এবং এরই প্রতিক্রিয়াতে আরও ভাল মুসলমান হয়ে গড়ে উঠছি।

ঈমান আমাদের চারপাশের ব্যক্তিদের সাথে বন্ধুত্ব এবং সম্পর্ককে উত্সাহ দেয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রকৃতি আরও উন্নত করে এবং ঈমান সম্পর্কে সচেতনতা ইসলামের সামগ্রিক চিত্রকে উন্নত করে।

একে অপরের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া

কুরআনের ৪৯নং সূরায় আল্লাহ তা’আলা মানবজাতির সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলেন,

“হে মানবজাতি, আমি তোমাদেরকে এক পুরুষ ও এক নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পরে পরিচিত হও। নিশ্চয় আল্লাহর কাছে সে-ই সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত যে সর্বাধিক পরহেযগার। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সবকিছুর খবর রাখেন।” (আল কুরআন-৪৯:১৩)

জাতি, ধর্ম, জাতীয়তা এবং অর্থনৈতিক অবস্থানের মধ্যে পার্থক্যগুলি আমাদেরকে একে অপরের কাছ থেকে জানতে এবং শিখতে সাহায্য করে। ন্যায়পরায়ণতা ও ধার্মিকতার দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া আল্লাহ বা মানবতার দৃষ্টিতে কোনো ব্যক্তিই অপর কোনো ব্যক্তির চেয়ে উত্তম নয়।

আপনি যখন এই পৃথিবীতে কোনো সফল ব্যক্তিকে দেখেন, তখন সেখান থেকে কিছু শেখার উদ্দেশ্যে তার কৃতিত্ব ও অর্জনের দিকে তাকান। দেখুন কিভাবে সে বিশ্বের সাথে মিশে এবং সকল বিষয় নিয়ে চিন্তা করে এবং সেই অনুসারে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকেও মানিয়ে নিন। তবে একটি বিষয়ে সাবধানঃ উপরোক্ত আয়াতটি কিন্তু অন্যকে সম্পূর্ণরূপে অনুকরণ করার আদেশ দেয় না, কারণ এই পৃথিবীতে একজন সফল ব্যক্তির আধ্যাত্মিক জীবনেও মারাত্মকভাবে শূন্যতা থাকতে পারে।

বরং আয়াতটি আমাদেরকে চারপাশ সম্পর্কে বুদ্ধিমত্তার সাথে পর্যবেক্ষণ করতে উত্সাহিত করে। সামাজিক স্তরে, যখন একটি সম্প্রদায় কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়, তখন অন্যরা কীভাবে একই সমস্যাগুলি কাটিয়ে উঠেছে তা দেখার জন্য তাদের দিকে তাকান। তাদের ভুলগুলি এড়িয়ে চলুন, তবে তাদের অভিজ্ঞতার সেরা দিকগুলি বাছাই করে নিন।

সহযোগিতার লক্ষ্য

শেষে যে আয়াতটি উল্লেখ করব সেটি সূরা মা’য়েদাতে এসেছে, যেখানে কোনো মানুষকে সহযোগিতার লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে।

“…সৎকাজ ও তাক্বওয়ার ব্যাপারে তোমরা পরস্পরকে সহযোগিতা কর, পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় কর, আল্লাহ শাস্তি দানে অত্যন্ত কঠোর।” (আল কুরআন-৫:২)

কোনো মানুষ মুসলিম হোক বা অমুসলিম হোক তার স্বভাবজাত একটি বৈশিষ্ট্য থাকে। তা হল, সঠিক কাজটি করা। সামাজিক উন্নয়ন, অন্যকে সহায়তা করা, এবং উত্পাদনশীল এবং সহযোগিতামূলক সম্পর্ক তৈরি করা আমাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্দেশ।

প্রয়োজনে গঠনমূলক সমালোচনা করুন, তবে সর্বদা অন্যের দোষ তালাশ করতে থাকবেন না।

উপরোক্ত আয়াতটিতে মুসলমানদের মধ্যে সহযোগিতার পিছনে যে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে তা হল-আল্লাহর ভয়। যাকে আরও সহজভাবে অনুবাদ করতে গেলে বলা যায়, আল্লাহর উপস্থিতি এবং জ্ঞানলব্ধ চেতনা । অর্থাৎ, আমরা এই দুনিয়াতে যা করব তার ফলাফল আখিরাতে অবশ্যই প্রত্যক্ষ করব।

আল্লাহ সম্পর্কে চেতনা তাই অধ্যবসায়ের জন্য অতিরিক্ত উপাদান যুক্ত করে। বিভিন্ন গ্রুপে কাজ করতে গেলে প্রায় সময়ই ভুল বুঝাবুঝি হয় বা ভিন্ন মতের সৃষ্টি হয়। এই মুহুর্তে আল্লাহর ভয় যদি কারও অন্তরে বিদ্যমান না থাকে তবে খুব সহজেই এই মতভিন্নতা ঝগড়া-ফাসাদ বা সম্পর্কহীনতা সৃষ্টি করতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, কুরআন কেবলমাত্র আমাদের ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বরং আমাদের সামগ্রিক জীবনে একটি নকশা হিসাবে কাজ করে।

প্রতিশ্রুতি পূরণে সততা ও বিশ্বস্ততার মাধ্যমে, অন্যের সাফল্য (এবং কখনও কখনও ব্যর্থতা) থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং ইতিবাচক সহযোগিতা প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা কেবল উন্নত ব্যক্তিই হতে পারি না বরং আমাদের সমাজের উন্নত সদস্যও হতে পারি।