SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আরব উপদ্বীপ: কোন প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে এ ভূখণ্ডে?

প্রকৃতি ১৫ জানু. ২০২১
মতামত
আরব উপদ্বীপ
© Tomas Griger | Dreamstime.com

আরব উপদ্বীপ ভূখণ্ড দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত একটি বৃহৎ উপদ্বীপ। এর আয়তন প্রায় ৩০ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার। এ উপদ্বীপের উত্তরে মরুভূমি এবং পূর্ব, দক্ষিণ ও পশ্চিমাংশ সাগর দ্বারা বেষ্টিত। যুগ যুগ ধরে এ ভূখণ্ডকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। ১) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল যা ‘হিজায’ নামে পরিচিত; ২) মধ্য ও পূর্বাঞ্চল যা ‘আরব মরুভূমি’ নামে এবং ৩) দক্ষিণাঞ্চল যা ‘ইয়েমেন’ নামে পরিচিত।

এ উপদ্বীপে অবস্থিত বৃহৎ মরুভূমির কারণে এর এক-তৃতীয়াংশ ভূখণ্ড পানি ও উদ্ভিদবিহীন। একারণে এ অঞ্চলগুলো বসবাসের অযোগ্য। কখনো কখনো বৃষ্টিপাতের কারণে মরুভূমির ভিতর অল্প পরিমাণে পানি পাওয়া যায়। তখন কতিপয় আরব গোত্র খুবই অল্প সময়ের জন্য উট ও চতুষ্পদ জন্তু চরানোর জন্য সেখানে নিয়ে যায়।

আরব উপদ্বীপের সাধারণ জলবায়ু ও আবহাওয়া মরুভূমির আবহাওয়ার ন্যায়। মধ্যাঞ্চলীয় এলাকাসমূহ অত্যন্ত শুষ্ক ও উষ্ণ এবং সমুদ্র তীরবর্তী এলাকাসমূহের আবহাওয়া আর্দ্র। আর অল্প কিছু এলাকার আবহাওয়া সমভাবাপন্ন। খারাপ আবহাওয়ার দরুন সমগ্র আরব উপদ্বীপের জনসংখ্যা ১.৫ কোটির বেশি হবে না।

আরব উপদ্বীপ-এর প্রাচুর্য

প্রাচীনকাল থেকেই আরব উপদ্বীপের প্রাকৃতিক সম্পদ হিসেবে সোনা, রূপা এবং মূল্যবান পাথরসমূহের মওজুদ ছিল। পশুর মধ্যে উট এবং ঘোড়াই বেশি পালন করা হত। এবং পাখির মধ্যে উটপাখি ও কবুতর সংখ্যায় বেশি ছিল। বর্তমানে আরব উপদ্বীপের আয় ও সম্পদের প্রধান উৎস হচ্ছে পেট্রোলিয়াম ও খনিজ তেল। দাহরান শহর আরব উপদ্বীপের খনিজ তেল ও পেট্রোলিয়ামের মূল কেন্দ্র। সম্মানিত পাঠকবৃন্দ যাতে আরব উপদ্বীপের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হতে পারেন সে কারণে আরবের তিনটি অঞ্চল সম্পর্কে নিম্নে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলঃ

১) হিজায

আরব উপদ্বীপ-এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কে হিজায বলা হয়; যা লোহিত সাগরের তীর দিয়ে ফিলিস্তিন থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত বিস্তৃত।

ইতিহাসে হিজায আরবের অন্য সকল এলাকার চেয়ে অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তবে এ সুখ্যাতি যে ইসলামের কারণে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বর্তমানে যে পবিত্র কাবা মুসলমানের ‘কিবলা’ তা এ হিজাযের ভূমিতেই অবস্থিত। পবিত্র কাবার অবস্থানের কারণে হিজায বহু পূর্ব থেকেই আরব ও অনারব জাতিসমূহের নিকট সম্মানিত ছিল। এর সম্মান রক্ষার্থে পবিত্র কাবার নিকটে যুদ্ধ করা সর্বদাই হারাম বা নিষিদ্ধ ছিল। আমাদের শরীয়তেও পবিত্র কাবার জন্য সীমারেখা নির্ধারণ ও এর প্রতি যাথাযথ সম্মান প্রদর্শন অব্যহত আছে।

হিজাযের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর মধ্যে পবিত্র মক্কা, পবিত্র মদীনা ও তায়েফ নগরী উল্লেখযোগ্য। অতীতকাল থেকেই হিজাযের ২ টি বন্দর আছে। জেদ্দাঃ পবিত্র মক্কার অধিবাসীরা এটি ব্যবহার করে এবং ইয়ানবুঃ মদীনাবাসীরা তাদের প্রয়োজন এ বন্দরের মাধ্যমে পূরণ করে থাকে। এ ২টি বন্দরই লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত।

২) আরব উপদ্বীপ-এর মধ্য ও পূর্বাঞ্চল

এ অংশটি আরব মরুভূমি নামে পরিচিত। ‘নজদ’ এলাকা এ অংশেরই অন্তর্গত। এখানে মানুষের ঘনবসতি খুবই কম। আরব উপদ্বীপে সৌদী রাজবংশের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পর থেকে তাদের প্রতিষ্ঠিত রাজধানী ‘রিয়াদ’ আরব উপদ্বীপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

৩) আরব উপদ্বীপ-এর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

এ অঞ্চলটি ইয়েমেন নামে প্রসিদ্ধ। বর্তমানে এ দেশের আয়তন প্রায় ৬০ হাজার বর্গমাইল। কিন্তু অতীতে এর আয়তন আরও বেশি ছিল। ঐতিহাসিক সানা নগরী ইয়েমেনের অন্যতম প্রসিদ্ধ নগরী। আল হাদীদাহ বন্দর হচ্ছে ইয়েমেনের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বন্দর যা লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত।

ইয়েমেন আরব উপদ্বীপের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী অঞ্চল। এ দেশটি ইসলামের অভ্যুদয়ের পূর্বে ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্র ছিল। প্রকৃতপক্ষে ইয়েমেনকে আরব ভূখণ্ডের ‘চৌরাস্তার মোড়’ বলে গণ্য করা হতো। ইয়েমেনে অনেক আশ্চর্যজনক স্বর্ণের খনি ছিল। ইয়েমেনের সোনা, রুপা ও মূল্যবান পাথর বিদেশে রপ্তানী করা হতো। এ কারণে দেশটি তৎকালীন সময়ে অন্যতম উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসাবে গণ্য হতো।

প্রসিদ্ধ ফরাসী ইতিহাসবিদ গোস্তাব লোবো ইয়েমেন সম্পর্কে বলেছিলেন, “সমগ্র আরব উপদ্বীপে ইয়েমেন অপেক্ষা অন্য কোনো উর্বর ও মনোরম অঞ্চল নেই।”

পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন

ইয়েমেনে যেসব আশ্চর্যজনক ঐতিহাসিক নিদর্শন প্রাচ্যবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের সর্বশেষ অনুসন্ধান ও খনন কার্যের দ্বারা আবিস্কৃত হয়েছে তা ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকা, যেমন মারাব, সানা ও বিলকীসে ইয়েমেনের গৌরবোজ্জ্বল অতীতের বিস্ময়কর সভ্যতাকে প্রমাণ করে।

মারাব শহরে (যা প্রসিদ্ধ সাবা নগরী নামে পরিচিত ছিল) গগনচুম্বী প্রাসাদসমূহের ফটকসমূহ এবং ফটকের খিলান ও তাক স্বর্ণের চোখধাধানো কারুকার্য দ্বারা সুশোভিত ছিল। এ শহরে প্রচুর স্বর্ণ ও রৌপ্যনির্মিত পাত্র এবং ধাতুনির্মিত খাট ও বিছানা ছিল।

মারাবের ঐতিহাসিক নিদর্শনাদির অন্যতম হচ্ছে মারাবের প্রসিদ্ধ বাঁধ যার ধ্বংসাবশেষ আজও বিদ্যমান। এ শহরটি জলোচ্ছ্বাসের দ্বারা বিলুপ্ত হয়ে যায়। এ জলোচ্ছ্বাসকেই পবিত্র কুরআনে ‘আরম’ বলা হয়েছে।