SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আরব দুনিয়ার প্রথম ‘মঙ্গল গ্রহ মিশন’ অবশেষে সফল!

আবিষ্কার ১৭ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
মঙ্গলের
Photo by SpaceX from Pexels

বড় বড় দার্শনিকেরা বলে গিয়েছে সাফল্যের জন্য উচ্চাশার সঙ্গে সঙ্গে স্বপ্নদর্শী হওয়া প্রয়োজন। সে কথা মেনেই যেন এক দুরূহ স্বপ্ন বাস্তবায়িত করল আরবের একটি ছোট্ট দেশ UAE ।

‘হোপ’ অর্থ আশা বা স্বপ্ন, আরবীতে যা “আমল”। সত্যিই এই মিশনের হাত ধরে মুসলিম দুনিয়ার স্বপ্ন পৌঁছল সুদূর মঙ্গল অব্দি। এর সাথেই রাশিয়া, আমেরিকা, ইউরোপ আর ভারতের সাথে বিশ্বের পঞ্চম দেশ হিসেবে নাম উঠল সেই অভিজাত ক্লাবে যারা এখনও অব্দি সফল ভাবে মঙ্গলের কক্ষপথ বা মঙ্গলে পৌঁছতে পেরেছে।

কীভাবে সম্ভব হল এই মঙ্গলের অভিযান?

২০১৪ সালে UAE ঘোষণা করে যে ২০২১ সালে দেশের ৫০ বছরের জন্মদিনের মধ্যেই মঙ্গলে পৌঁছবে তাদের পাঠানো মঙ্গলযান। সে সময় তাদের কোনো নিজস্ব মহাকাশ গবেষণা সংস্থান অব্দি ছিলনা। ওই স্বল্প সময়েই তরুণ বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়ার দের নিয়ে দল তৈরী করে মিশনকে বাস্তবায়িত করতে দুবাইয়ে তৈরী হয় মহম্মদ বিন রাশিদ মহাকাশ কেন্দ্র।

আমেরিকার University of Colorado Boulder এ দুই দেশের বিজ্ঞানী-ইঞ্জিনিয়ারদের হাতে তৈরী হয় ২০০ কোটি ডলারের ‘হোপ’ বা আমল। এরপর জাপানের তানেগাশিমা মহাকাশ কেন্দ্র থেকে গতবছরের জুলাই মাসের ২০ তারিখে মহাকাশে পাড়ি দেয় আমল। গত ৭ মাসে ৪৯৪০ লক্ষ কিমি পথ পাড়ি দিয়ে ফেব্রুয়ারী মাসের ৯ তারিখে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছয় সে।

নিরাপদে কক্ষে অবতরণের জন্য নির্দেশমত তার গতিবেগ ঘন্টায় ১,২১,০০০ কিমি থেকে ১৮,০০০ এ নামিয়ে আনা হয়। ফলে, নির্দিষ্ট সময়ে আগে থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় সফল ভাবে পৌঁছে যায় আমল। খুশির বন্যা বয়ে যায় মহম্মদ বিন রাশিদ মহাকাশ কেন্দ্রের কনট্রোল রুমে। এরপরের ধাপে আমল পৌঁছবে উপবৃত্তাকার “বিজ্ঞান কক্ষে “।

এই প্রজেক্টের মুখ্য বৈজ্ঞানিক, মুসলিম মহিলা বিজ্ঞানী সারা আল আমিরি বললেন, “প্রত্যেকটি উদযাপনের মুহূর্তের সাথেই থাকে পরের পর্বের সাফল্য নিয়ে সংশয়। কিন্তু আমরা জানি আমরা সফল হবোই। ”

মঙ্গলের কক্ষপথে কী করবে আমল?

আমল এর প্রধান লক্ষ্য হল মঙ্গলের একটি স্থান-কালের হিসেবে সর্বব্যাপী মানচিত্র তৈরী করা। ওই উপবৃত্তাকার “বিজ্ঞান কক্ষে” আমল এর সাথে থাকা উচ্চ ক্ষমতার ক্যামেরা এবং ইনফ্রারেড ও আল্ট্রাভায়োলেট স্পেকট্রোমিটার ৯ দিন অন্তর মঙ্গলের প্রত্যেকটি ভৌগোলিক অংশের তথ্য সংগ্রহ করবে দিনের পুরো সময়ে। এভাবেই তৈরী হবে মঙ্গলের আবহাওয়ার প্রথম সার্বজনীন বিশ্বব্যাপী মানচিত্র। এই প্রচেষ্টা এখনও অব্দি নতুন ও প্রথম।

সারা আল আমিরি জানালেন, মে মাস থেকেই আমল তথ্য সংগ্রহ করবে এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকেই সেই তথ্য বিশ্বের সমস্ত বিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছে যাবে বিশ্লেষণের জন্য। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মঙ্গলের আবহাওয়া সম্পর্কে অনেক কিছু জানা যাবে, আর জানা যাবে মঙ্গলের ধূলিঝড় সম্পর্কে। এমনকি আমরা জানতে পারব মঙ্গলের পৃষ্ঠদেশ থেকে মহাকাশে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেনের নিক্ষেপণ সম্পর্কেও।

ইসলামের পবিত্র ধর্ম সবসময় মানুষের জ্ঞানের উতকর্ষতার পক্ষে সওয়াল করে গিয়েছে, আজ সেই পথ ধরেই আমরা এগিয়ে চলেছি উন্নত এক সভ্যতার দিকে।