SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আলবেনিয়ার মুসলিমদের ফিরিয়ে দিতে হবে তাঁদের পরিচয়

ইউরোপ ২১ ফেব্রু. ২০২১
ফিচার
আলবেনিয়ার
© Andrii Shevchuk | Dreamstime.com

১৯৪৪ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত, কমিউনিস্ট শাসনের অধীনে আলবেনিয়া কঠোর দমননীতি প্রত্যক্ষ করেছে এবং বর্তমানে এই দেশ নিজের জন্য স্বাধীন অবস্থান নির্বাচন করেছে। যদিও, রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, এবং সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং আদর্শগত অনৈক্য এই দেশকে সেই আলবেনীয়দের কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে যাঁরা কসোভো, ম্যাসিডোনিয়া এবং গ্রীসে বসবাস করেন। ন্যাটোর সদস্য হওয়া সত্ত্বেও, আলবেনিয়া বল্কান অঞ্চলের ভৌগলিক-রাজনৈতিক অবস্থানে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে না।

আলবেনিয়ার গুরুত্ব 

আলবেনিয়াতে গ্রীস ও ইতালির আর্থিক বিনিয়োগের কারণে, এবং আলবেনিয়ার বহু নাগরিক অভিবাসন নিয়ে এই দেশগুলিতে চলে আসার ফলে, আলবেনিয়ার উপরে এদের প্রভাব অনস্বীকার্য। এই প্রভাবের ফল শুধুমাত্র গ্রীস-পন্থী বা ইতালি-পন্থী রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক গ্রুপের প্রতি সমর্থন জানানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিষয়েও তা লক্ষ্য করা যায়। এই দেশে কমিউনিস্ট শাসনের হাত থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পরে, মুসলিম আমলের নিদর্শন হিসেবে, একমাত্র ইথেম বে মসজিদ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে, কিন্তু এ কথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই যে, এই দেশের মাটিতে ইসলামের আদর্শ মিশে রয়েছে।

এখানকার মুসলিমরা যত বার নতুন মসজিদ গঠনের কিংবা উসমানীয় ওয়াকফিয়া ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, সেগুলি তিরানা কর্তৃপক্ষ দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। নানা ভাবে আলবেনিয়ার সরকার তাদের মুসলিম নাগরিকদের সাথে একের পর এক অন্যায় করে চলেছে, যা এই দেশের ধর্মীয় ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করেছে।

মুসলিম নয় গ্রীক 

আলবেনিয়া এমন একটি দেশ যার সত্তর শতাংশ নাগরিকই মুসলিম, কিন্তু আলবেনীয় অর্থোডক্স চার্চের সর্বোচ্চ পদাধিকারী যাজকের সাহায্যে গ্রীস দক্ষিণের বসবাসকারী আলবেনীয়দের অর্থোডক্স এবং গ্রীক হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোর্সা এবং জিরোকাস্ট্রার মতো স্থানে মাদ্রাসাগুলি বলপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দক্ষিণে একাধিক গ্রীক স্কুল খোলা এবং ব্যাপক বিনিয়োগের মূল লক্ষ্য হল, এমন নাগরিক তৈরি করা যাতে তাদের অর্থোডক্স এবং গ্রীক হিসেবে ঘোষণা করা যেতে পারে। এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে আলবেনীয় মুসলিমদের অদূরদর্শী এবং অযোগ্য প্রকৃতি।

এখানকার মুসলিমরা মসজিদের ইসলামি রীতি অনুযায়ী জীবনধারণ করে না, কয়েক জন মুফতি কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার জন্য কাজ করলেও তা আলবেনীয় মুসলিমদের মধ্যে কোনও প্রকার সচেতনতা গড়ে তুলতে পারেনি।

বল্কান অঞ্চলের প্রতিটি মুসলিম দেশেরই একে অপরের পাশে থাকা উচিত, বিশেষ করে তুরস্কের এই বিষয়ে নেতৃত্ব প্রদান করা উচিত, কিন্তু অন্য যে কোনও দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি সাহায্য দরকার আলবেনিয়ার।

কীভাবে পরিচয় ফিরে পাবেন আলবেনিয়ার মুসলমানরা ?

বর্তমানে আলবেনিয়ার সমস্ত ক্ষেত্রে মোটা বিনিয়োগ প্রয়োজন। আর্থিক ভাবে, গ্রীক এবং ইতালির পুঁজির আগমন ঠেকাতে বিভিন্ন মুসলিম বিনিয়োগ এমন ভাবে সঞ্চালিত করা উচিত যাতে তা অল্প সময়ে অনেক বেশি প্রভাব ফেলতে পারে এবং আলবেনিয়ার উপর থেকে এই দুইটি দেশের প্রভাব কম করতে পারে।

আলবেনিয়াই হল একমাত্র দেশ, যেখানে তুরস্কের কলেজগুলি শিক্ষাগত এবং ধর্মীয় সংগঠন উভয় ভূমিকা পালন করে, এবং এই কারণে আলবেনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় সম্পূর্ণ বঞ্চিত রয়েছে। এই সম্প্রদায়কে যদি তুরস্কের ধর্মীয় ডিরেক্টোরেটের সাথে যুক্ত করা হত, তাহলে তার ফলাফল অনেক বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত।

এই কারণে আলবেনিয়ার বহু শহরে দ্রুত একাধিক মাদ্রাসা ও উপযুক্ত স্কুল খোলা খুবই প্রয়োজন। এখানে তিরানা, দুর্স এবং ইস্কোদ্রা মাদ্রাসার কথা উল্লেখ করা উচিত, যা আলবেনিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে, কিন্তু তা প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট নয়।

গণমাধ্যমের উদ্যোগ 

দেশে ইসলামের প্রভাব বাড়িয়ে তোলার জন্য সামাজিক সংগঠন গঠনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করে তোলাও খুবই জরুরি। এখানে বহু গণমাধ্যম রয়েছে, যেগুলি খ্রিস্টান-পন্থী এবং ইহুদি-পন্থী উদারপন্থী সংস্থার দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত। এদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে, উসমানীয়-মুসলিম আমলের সমস্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধীরে ধীরে মুছে দেওয়া। কিন্তু যদি এখানে কোনও মুসলিম গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে তার মাধ্যমে ইসলামের বাণী আলবেনিয়ার পাশাপাশি কসোভো, মার্সিডোনিয়া এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে বসবাসকারী অন্তত ৭০ লক্ষ আলবেনীয় নাগরিকের কাছে পৌঁছে যাবে। যার প্রভাব অস্বীকার করার কোনও জায়গাই থাকবে না। এছাড়াও আলবেনিয়ার মুসলিমদের জন্য বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও প্রকাশিত হওয়ার মতো প্রোজেক্ট লঞ্চ করা উচিত।

সাধারণ ভাবে বলতে গেলে, বল্কান অঞ্চলের অন্যান্য দেশে এই ধরনের উদ্যোগ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আলবেনিয়া সবার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। এই কারণে আমাদের সবার আগে আলবেনিয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এখানে মুসলিমদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয় ফিরিয়ে দিতে হবে, ভবিষ্যতে সাফল্য নিশ্চিত করার জন্য।