আলোর পথ প্রজ্জ্বলিত করুন

Balik kampung ketika PKPB © Mohamad Faizal Ramli | Dreamstime.com

আলোর পথ কী 

প্রত্যেক মুহূর্তে দুনিয়ার কোথাও না কোথাও একজন মুসলিম মক্কার দিকে মুখ ফিরে সালাত আদায় করে এবং প্রত্যেক সালাতে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে এই দু’আ করেঃ

“আমাদেরকে সীরাতে মুস্তাক্বীমের দিকে পরিচালিত করুন”

আমরা প্রায়শই এই আয়াতের মর্মকে না বুঝেই তেলাওয়াত করি। সীরাতে মুস্তাক্বিম কোনটি? কোথা থেকে এর শুরু এবং এর যাত্রাপথ কোনদিকে? আমরা কিভাবে এপথে চলব এবং যদি পথ হারিয়ে ফেলি তবে আবার কিভাবে এপথে ফিরে আসব?

আমরা প্রায়ই এই কথাগুলো শুনে থাকি – “সফলতার পথ সহজ নয়” বা “জীবনে চলার পথে অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে হয়”।

এই প্রবন্ধের আলোচনা বিষয়, আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা কিভাবে আলোর পথ সম্পর্কে অবগত হয়ে এপথে চলতে পারি।

আলোর পথের বৈশিষ্ট্য

সমগ্র কুরআন জুড়ে, আল্লাহর কথাগুলি আমদের কাছে ভালভাবে বোধগম্য হওয়ার জন্য তিনি বিভিন্ন রূপক শব্দ ব্যবহার করেছেন। আল্লাহ চাইলে সুরা ফাতিহাতে নির্দিষ্ট কোনো স্থান, কাল বা ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে পারতেন।

কিন্তু আল্লাহ তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় এটিকে পথ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়।

সংজ্ঞা অনুসারে, একটি পথ কোনো একক স্পট নয়। অসংখ্য স্পট একত্রে মিলে একটি পথ তৈরি করে। আমরা যখন কোনো পথে যাত্রা শুরু করি, তখন কেবল এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকি না। আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাই। পথ সন্ধান করার অর্থ এই নয় যে আমরা আমাদের পছন্দসই গন্তব্যে পৌঁছে যাব। এর অর্থ হল আমরা এখন সেখানে যাওয়ার উপায় খুঁজে পেয়েছি।

একইভাবে আল্লাহর কাছে পৌঁছানোর পথে আমরা সবাই একই স্থানে নেই। আমাদের মধ্যে কেউ হয়ত সবেমাত্র শুরুর দিকে আছে , অন্যরা হয়ত আরও এগিয়ে গেছে। আমরা যখন সূরা ফাতিহা পাঠ করি, তখন আমরা সরল পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করি, তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা সবাই গন্তব্যে পৌঁছে গেছি। এর অর্থ কেবল আমরা পথের সন্ধান পেয়েছি। এখন এটি আমাদের উপর নির্ভর করে যে, কে কিভাবে গন্তব্যে পৌছাবে।

কুরআনে অনেক জায়গায় এই ধারণাটি উল্লেখ করা হয়েছেঃ

“(আল্লাহ) তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যেন তোমরা উপদেশ গ্রহণ কর। নিশ্চিত এটি সরল পথ। অতএব, এ পথে চল এবং অন্য পথে চলো না। তা হলে সেসব পথ তোমাদেরকে তাঁর পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। তোমাদেরকে এ নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা সংযত হও” (আল কুরআন – ৬:১৫৩)

কুরআনে যে সরল পথের উল্লেখ আছে তা ওলামায়ে কেরাম তা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন,  এটি ইসলামের পথ; আল্লাহর কিতাবে বর্ণিত এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতে বর্ণিত পথ; সত্যের পথ এবং যে পথ মুমিনের জীবন পরিচালিত করে এবং শেষ পর্যন্ত জান্নাতে পৌঁছে দেয়।

আলোর পথের সন্ধান

মানুষ স্বাভাবিকভাবে অন্ধকারে স্বস্তিবোধ করে না। আমাদের চোখ অন্ধকারের উপলব্ধি আমাদের মস্তিষ্কে প্রেরণ করে এবং মস্তিষ্ক আমাদের অন্ধকারের অনুভূতি জাগায়। আমরা যদি কখনও রাতে বনের মধ্যে হারিয়ে যেতাম তবে আমাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা প্রতিক্রিয়া অনুভব করত। কেউ হয়ত পথ খুঁজে পেতে শব্দ ব্যবহার করত আবার কেউ হয়ত আশেপাশের জিনিসকে স্পর্শ করে অনুমানের উপর নির্ভর করে পথ চলত।

তবে অবশ্যই, অন্ধকারে পথে খুঁজে পেতে সবচেয়ে বুদ্ধিমান পদক্ষেপটি হল কোনো আলোক উত্স খুঁজে বের চেষ্টা করা। যেমন হতে পারে কোনো ফ্ল্যাশলাইট বা একটি মোমবাতি বা কেবল একটি ম্যাচ। আমাদের ইন্দ্রিয়ের উপর নির্ভর করার চেয়ে কোনো আলোর উৎসের উপর নির্ভর করা আমাদেরকে পথ চলতে বেশি সহায়তা করবে। আলোর উৎসের সন্ধান পাওয়া কেবল যে শারীরিকভাবেই আমাদেরকে সাহায্য করবে তা নয়, বরং মানসিকিভাবেও আমাদের মাঝে আত্মবিশ্বাস জন্মাবে।

পার্থিব জগত আল্লাহর সৃষ্টির অন্যতম নিদর্শন। আল্লাহ কুরআনে ইরশাদ করেছেন, আসমান ও যমীনের সৃষ্টি এবং রাতের অন্ধকার থেকে দিনের উজ্জ্বলতার প্রকাশ মানুষের জন্য অনেক বড় নিদর্শন। আমাদের পারিপার্শিক বাস্তবতা আমাদের আত্মিক বাস্তবতাকে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায্য করে।

আল্লাহ আমাদেরকে যেমন শারীরিকভাবে অন্ধকার অনুধাবন করার সক্ষমতা দিয়েছেন তেমনি তিনি আমাদেরকে আত্মিকভাবে অন্ধকার অনুধাবন করার সক্ষমতাও দিয়েছেন।

হৃদয় হল একটি জাহাজ যা আমাদের ঈমানকে বহন করে। এটি সেই অঙ্গ যা দিয়ে আমরা আল্লাহকে জানি এবং ভালোবাসি। আমরা হৃদয়ের মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা থেকে আলাদা করি। আমরা হৃদয় দিয়েই আত্মিক আলো এবং অন্ধকার উপলব্ধি করি।

আমরা জানি, অন্ধকারে পথ চলতে আলোর প্রয়োজন। আমাদের আত্মিক আলোর উৎস কি? আল্লাহ আমাদের বলেছেন, তিনি আসমান ও জমীনের নূর। তাঁর নূর আমাদেরকে পথ দেখায়, শেষ পর্যন্ত গন্তব্যে পৌঁছে দেয়। আল্লাহ আমাদের জীবনে আত্মিক আলো বাড়ানোর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দিয়েছেন। এগুলি কীভাবে ব্যবহার করতে হয় তা আমাদেরকে কেবল জানতে হবে।