আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান

 54440928 © jack Parker | Dreamstime.com
54440928 © jack Parker | Dreamstime.com

আমরা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ সম্পর্কে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি এবং আজ আমরা আল-মুহই (জীবনদাতা) নামটি নিয়ে আলোচনা করব।

কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা কিভাবে আল্লাহকে অস্বীকার করো, যখন আল্লাহ তোমাদেরকে প্রাণহীন অবস্থা থেকে প্রাণ দান করেছেন?”

মায়ের গর্ভে গর্ভধারণের পূর্বে আমরা কোথায় ছিলাম তা কি কারও স্মরণে আছে?

তবে এটি স্বাভাবিকভাবেই আমরা বুঝতে পারি যে, আমরা নিজেদেরকে অস্তিত্বে আনিনি, নিজেদেরকে আমরা জীবন দিইনি।

আমরা যদি নিজেদেরকে জীবন না দিয়ে থাকি তবে কি কেউ আমাদেরকে সৃষ্টি করেননি? তবে কীভাবে আমরা ধরে নিতে পারি যে, সৃষ্টির পিছনে তাঁর কোনো উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য নেই?

একমাত্র আল্লাহই হলেন জীবনদাতা, তিনি আল-মুহই।

এটা আমাদেরকে স্বীকার করতেই হবে যে, জীবন আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই, মৃত্যুও আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। আমরা নিজেদের জীবনকালকে মোটেও প্রসারিত করতে পারব না। একমাত্র আল্লাহই হলেন আল-মুহই, জীবনদাতা, যারই নিয়ন্ত্রণে জন্ম ও মৃত্যু।

সুতরাং যখন কেউ এটা বুঝতে পারল যে, সে নিজেকে নিজে জীবন দেয় না বা অন্য কোনোকিছু কেও সে জীবন দিতে পারবে না। তখন এটি স্বভাবতই আল্লাহর উপাসনায় মগ্ন হতে, তাঁর সকল নির্দেশনা মেনে নিতে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদেরকে বিনীত করে এবং আল্লাহর উপর আমাদের নির্ভরতা, আমাদের অক্ষমতা প্রভৃতির স্বীকৃতি দেয়।

“বলে দাও, হে মানব মন্ডলী। তোমাদের সবার প্রতি আমি আল্লাহ প্রেরিত রসূল, সমগ্র আসমান ও যমীনে তার রাজত্ব। একমাত্র তাঁকে ছাড়া আর কারো উপাসনা নয়। তিনি জীবন ও মৃত্যু দান করেন। সুতরাং তোমরা সবাই বিশ্বাস স্থাপন করো আল্লাহর উপর তাঁর প্রেরিত উম্মী নবীর উপর, যিনি বিশ্বাস রাখেন আল্লাহর এবং তাঁর সমস্ত কালামের উপর। তাঁর অনুসরণ কর যাতে সরল পথপ্রাপ্ত হতে পার।” (আল কুরআন-৭:১৫৮)

সুতরাং এটি স্পষ্টভাবে আমাদেরকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আল্লাহই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান। সুতরাং আমাদের উচিত তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাঁর রাসূলকে বিশ্বাস করা ও রাসূলের অনুসরণ করা যাতে আমরা সরলপথে পরিচালিত হতে পারি। কারণ এই জীবন শেষ হওয়ার পরে আল-মুহই আবার আমাদেরকে জীবিত করবেন।

আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহকে কীভাবে অস্বীকার করছ? অথচ তোমরা ছিলে মৃত, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জীবন্ত করেছেন, আবার তোমাদের মৃত্যু ঘটাবেন, তারপর আবার জীবিত করবেন, তারপর তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।” (আল কুরআন-২:২৮)

একদিন কিছু লোক রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, “মৃত্যুর পরে আমাদেরকে কিভাবে পুনরুত্থিত করা হবে যখন আমাদের হাড়গুলোও ধুলিতে পরিণত হবে?” এবং তারা এটি বলে ব্যঙ্গ করার চেষ্টা করে। এরই উত্তরে আল্লাহ সূরা রুম এর ৩০ নং আয়াতটি নাযিল করেন:

“অতএব, আল্লাহর রহমতের ফল দেখে নাও, কিভাবে তিনি মৃত্তিকার মৃত্যুর পর তাকে জীবিত করেন। নিশ্চয় তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন এবং তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান।”

আমরা জানি যে, সৃষ্টি আল্লাহর কাছে খুবই সহজ। তিনি বলেন, ‘হও’, তো হয়ে যায়।

সুতরাং আল্লাহ আমাদেরকে প্রথমে জীবন দান করেছেন। তিনিই আমাদের মৃত্যু ঘটাবেন। এবং তাঁর কাছেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।

যেহেতু আমরা জানি না যে, আমাদের হায়াতের আর কত দিন বাকি আছে, তাই আজকের দিনটিকেই আমাদের জীবনের শেষদিন হিসেবে বিবেচনা করা যাক। আপনি কিভাবে আপনার পালনকর্তার সাথে দেখা করতে চান? আপনি কি তাঁর সাথে সবচেয়ে ভাল অবস্থায় দেখা করতে চান না? তিনি যে জীবন আপনাকে এত উদারতার সাথে, এত করুণাময়ভাবে, একটি দায়িত্বশীল উপায়ে, সচেতনভাবে দিয়েছিলেন সেই জীবনকে সর্বোত্তম রূপে কাটানোর মাধ্যমে আপনি তাঁর সাথে দেখা করতে চান না?

কেবল এই নামটি মনে রাখাই আপনার অন্তরকে শক্তিশালী করবে। কীভাবে আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা করি, কীভাবে আমরা আমাদের পরিবার, প্রতিবেশীদের সাথে আচরণ করি, কিভাবে আল্লাহর ইবাদত করি সাথে ইত্যাদি যাবতীয় কিছুর সংশোধন হওয়া সম্ভব যদি আমরা কেবলমাত্র আল্লাহর এই নামিটি নিয়ে চিন্তা করি। 

আল্লাহ আমাদেরকে সেই ভাগ্যবান ব্যক্তিদের মত বানিয়ে দিন, যারা সত্যই আল্লাহর সুন্দর নামগুলি বোঝেন এবং তাঁর প্রশংসা করেন এবং তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার জন্য এই নামসমুহকে ব্যবহার করেন যাতে আমরা আল্লাহর কাছে এমনভাবে ফিরে যেতে পারি যে, তিনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট এবং আমরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট।

আল্লাহ আমাদের পথকে সহজতর করুন এবং আমাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতের মঙ্গল দান করুন। আমীন।