আল্লাহর অভিমুখে ফিরে চলার মধুর অনুভূতি

ID 91584865 © Nan Li | Dreamstime.com

কল্পনা করুন, আপনি মরুভূমির উপর দিয়ে উট চালাচ্ছেন এবং আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাই আপনি মরুভূমির মাঝখানে একটি গাছের ছায়ায় কয়েক মিনিট বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। আপনার একটু ঝিমকি এল আর পরমুহূর্তেই উঠে দেখলেন যে, আপনার উটটি আশেপাশে আর কোথাও নেই!

আপনি সামনে, পিছনে, বামে, ডানে চারদিকে তাকালেন কিন্তু আপনার উটের কোনো চিহ্ন দেখতে পেলেন না। আপনার পানি এবং খাবার সবকিছুই উটের পিঠে বাধা ছিল। এখন আপনি নিশ্চিত যে, মরুভূমির ভিতর খাদ্য,পানি না পেয়ে অচিরেই আপনি ধুঁকে ধুঁকে মরবেন। এমন হাজারো উৎকণ্ঠা আর উদ্বিগ্নতার মধ্য দিয়ে আপনি নিজেকে দোষারোপ করতে লাগলেন যে, “আমি উটটি কেন বেঁধে রাখলাম না?”

আপনি যখন বিলাপ করছেন তখন হঠাৎ দূর থেকে আপনার উটটি দেখতে পেলেন। আপনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারলেন না। আপনি ভাবতে লাগলেন, “আমি কি মায়াচ্ছন্নতা বোধ করছি? এটা কি আসলেই আমার উট?” পরক্ষণেই আপনি উটটির দিকে ছুটে গিয়ে দেখলেন আসলেই এটি আপনার উট এবং উটের পিঠে সামানপত্র সব ঠিক মতই আছে!

ঠিক এ মুহুর্তে আপনার অনুভূতিটা কেমন হবে একটু ভাবুন তো? সম্ভবত আপনার সব দুঃখ আর ভয় মুছে গিয়ে আপনি পরম আনন্দ অনুভব করবেন, তাই না?

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন যে, কেন আমি আপনাকে এটি কল্পনা করতে বললাম? আচ্ছা, আপনি কি জানেন যে, আমরা যখন তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসি তখন আল্লাহ এই ব্যক্তির চেয়ে বেশি খুশি হন, যে মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে আবার তা খুঁজে পায়!

আনাস ইবনে মালেক রাযিঃ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “কোনো ব্যক্তি মরুভূমিতে তার পানীয় ও খাদ্য বহনকারী উটকে হারিয়ে ফেলার পর আবার তা ফিরে পেলে যতটা খুশি হয় আল্লাহ তার চেয়ে বেশি খুশি হন যখন কোনো বান্দা তওবা করে তাঁর নিকট ফিরে আসে।” (সহীহ বুখারী)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পাওয়ার পর, উটের লাগাম ধরে খুশির উচ্ছ্বাসে সে বলে উঠল, ‘আল্লাহ তুমি আমার বান্দা আমি তোমার রব। চরম আনন্দের কারণে সে ভুল করে এ কথা বলে ফেলল।” (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহু আকবার! আমরা কিসের জন্য অপেক্ষা করছি? আসুন আমরা যাই করে থাকি না কেন আল্লাহর নিকট ফিরে আসি। আসুন ভীত না হয়ে আল্লাহর রহমতের দিকে তাকিয়ে আল্লাহর দরবারে অশ্রুবর্ষণ করে আমরা তওবা করি।

যদিও আল্লাহর কাছে আমাদের এই  পাপ-পঙ্কিলতাময় জীবন অতিবাহিত করার অভিজ্ঞতা খুবই তিক্ত। তবুও বান্দা যখন আল্লাহর কাছে ফিরে আসে তখন আল্লাহ অত্যন্ত সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর রহমত বিশাল ও অন্তহীন এবং এই অভিজ্ঞতাটি খুবই মিষ্ট।

আপনি কি করেছেন বা কীভাবে আপনার জীবন অতিবাহিত করেছেন তা বিবেচনা না করেই আল্লাহর রহমতের দরজা সর্বদা আপনার জন্য খোলা থাকে।

আনাস ইবনে মালেক রাযিঃ বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “আল্লাহ বলেন, বনী আদম! তুমি যতক্ষণ আমাকে ডাকতে থাকবে, আমার কাছে (ক্ষমার) আশা করতে থাকবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব; কোনো পরোয়া করব না। বনী আদম! তোমার পাপরাশি যদি মেঘমালা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, অতঃপর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি ক্ষমা করে দিব; কোনো পরোয়া করব না। বনী আদম! তুমি যদি পৃথিবী-ভর্তি পাপ নিয়ে আমার কাছে আস এবং শিরক থেকে মুক্ত হয়ে আমার সাথে সাক্ষাৎ কর, তবে আমি পৃথিবী-ভর্তি ক্ষমা নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব।” (জামে তিরমিযী)

হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি তো ক্ষমা করতে ভালবাসেন, তাই আমাদেরকে ক্ষমা করুন। আমীন।