আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে স্থান পাওয়া ৭ শ্রেণির মানুষ

আকীদাহ Contributor
আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে
© Ruslee Yaena | Dreamstime.com

আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে আমাদের সকলের আসার প্রয়োজন রয়েছে।

আল্লাহর বাণীঃ

আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সাত ব্যক্তিকে সেই দিনে তাঁর (আরশের) ছায়া দান করবেন যেদিন তাঁর ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না।

(তারা হল) ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ।

সেই যুবক যার যৌবন আল্লাহ তা’আলার ইবাদতে অতিবাহিত হয়।

সেই ব্যক্তি যার অন্তর মসজিদের সাথে আটকে থাকে।

যে দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে বন্ধুত্ব ও ভালবাসা স্থাপন করে।

যারা এই ভালবাসার উপর মিলিত হয় এবং এই ভালবাসার উপরেই চিরবিচ্ছিন্ন (তাদের মৃত্যু) হয়।

সেই ব্যক্তি যাকে কোনো সুন্দরী নারী (ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে) আহবান করে, কিন্তু সে বলে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’

সেই ব্যক্তি যে গোপন দান করে।

আর সেই ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে; ফলে তার উভয় চোখ অশ্রুসিক্ত হয়।’’

সুতরাং আল্লাহর আরশ পেতে পারে এই হাদীসে সাত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে:

১। ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ।

২। যে যুবক যৌবন থেকেই আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন থাকে।

৩। যার অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে।

৪। ঐ দু’জন লোক যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একে অপরকে ভালোবাসে।

৫। বিপরীত লিঙ্গ থেকে সরাসরি প্রলোভন প্রতিরোধকারী।

৬। যে ব্যক্তি সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে সদকা করে।

৭। যে ব্যক্তি আল্লাহকে গোপনে স্মরণ করে এবং অশ্রুবর্ষণ করে।

এখানে যে সাতটি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলি আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিকাশের ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রথম,

ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা। একজন কর্তৃত্বকারীর আচরণ কেমন হবে সে সম্পর্কে ইসলামে পরিপূর্ণ দিকনির্দেশনা রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। একজন নেতার জন্য দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও তাকওয়ার অভাব সমগ্র কওমকেই কষ্টের মুখে ফেলে দেয়।

আর নেতার সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতা সমগ্র কওমের মাঝে শান্তি নিয়ে আসে।

দ্বিতীয়,

যুবক শ্রেণী যাদেরকে আপনি সবসময় সমাজের মাঝে দেখবেন। যৌবনের এই সময়টি সত্যিই অনেক বিস্ময়কর। এ সময়ে মানুষের কাছে নেককাজ করার যেমন অনেক সু্যোগ থাকে তেমনি তার সামনে ফেতনাও থাকে অনেক বেশি। সমাজের যুবক শ্রেণী যদি আল্লাহর হুকুম মেনে চলে তাহলে সমাজের রূপই পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তৃতীয়,

যাদের অন্তর আল্লাহর ঘর মসজিদের সাথে যুক্ত। এ শ্রেণীর লোকেরা যথাসম্ভব নামাজের জন্য মসজিদে যাওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করে এবং এর মাঝে আনন্দ খুঁজে পায়। এক নামাজ শেষ হলে আরেক নামাজের অপেক্ষায় থাকে। তারা মসজিদে সময় কাটানোর ফলে যে প্রশান্তি লাভ করে তার দিকে অন্যকেও আহ্বান জানায়।

চতুর্থ,

এমন দুই ব্যক্তি যারা আল্লাহর জন্যই একে অপরকে ভালবাসে। তাদের ভালোবাসার মাঝে অন্য কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য বা চাহিদা থাকে না। এরূপ নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আল্লাহকে খুশি করে।

পঞ্চম,

এমন কেউ যাকে বেআইনী ভাবে যৌন আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ডাকা হয় এবং সে এটি প্রতিরোধ করে। যে ব্যক্তি নিজের যৌন চাহিদাকে মন্দ উপায়ে চরিতার্থ করতে সক্ষম হয়েও তা থেকে ফিরে আসে তার শারীরিক শক্তির চেয়ে তার আত্মিক শক্তি আরও শক্তিশালী।  এরূপ ব্যক্তিদের জন্যই আল্লাহ জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন।

ষষ্ঠ,

এমন কেউ যে এতটাই নিঃস্বার্থভাবে দানশীল যে, তার ডান হাত দান করলে তার বাম হাতও তা টের পাই না। তার দানের ভিতর লোক দেখানো বা অন্য কোনো দুনিয়াবী উদ্দেশ্য থাকে না। সে একমাত্র আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্যই দান করে।

সপ্তম,

সে ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং এতে তার চক্ষু অশ্রুসিক্ত হয়।  নির্জনে যেখানে কেউ নেই সেখানে একমাত্র আল্লাহর চিন্তা অন্তরে জাগ্রত রেখে ক্রন্দন করা তার পক্ষেই সম্ভব যে আল্লাহকে ভয় করে।

আল্লাহর আরশের ছায়ার নীচে আসার পবিত্রপূত কর্তব্য সমস্ত সহি মুসলমানের পালন করে চলা উচিৎ।