আল্লাহর কাছে সময় থাকতে ফিরে চলুন

আকীদাহ ১৪ জুলাই ২০২০ Contributor
আল্লাহর কাছে ফিরে আসুন
ID 143997860 © Ruslee Yaena | Dreamstime.com

একসময় আল্লাহই ছিল আপনার জীবনের একমাত্র উদ্দেশ্য, কিন্তু এখন আপনি আল্লাহর থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন। কোন জিনিসের প্রভাবে আপনার জীবনে এই পরিবর্তনটি আসল তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? আল্লাহর কাছে ফিরে আসা ছাড়া আপনার আর কোনও উপায় আছে কি? 

আল্লাহর কাছে ফিরে আসার আগেঃ

আল্লাহর সাথে সংযোগ বিছিন্ন হয়ে যাওয়া, কোনো মানুষের সাথে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয়। আল্লাহর কথা স্মরণ করে ঘুমাতে যাওয়া এবং তাঁর কথা স্মরণ করে ঘুম থেকে জেগে ওঠার অনুভুতিটা কি এখনও আপনার মনে আছে?

তিনি আপনার সবচেয়ে সেরা বন্ধু ছিলেন।

আপনার কি মনে পড়ে কিভাবে আপনি তাঁর পছন্দ অনুযায়ী নিজের চরিত্রকে সজ্জিত করছিলেন?

আপনার কি মনে পড়ে আল্লাহর হুকুম মানার জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে আপনি কিভাবে প্রস্তুত ছিলেন?

সেসময় আপনার কোনো চিন্তা ছিল না। আপনি এই বিশ্বাস ছিল যে, ‘আল-ওয়াকিল’ (তত্ত্বাবধায়ক) আপনাকে সর্বাস্থায় সযত্নে রাখবেন।

তবে এই মুহুর্তে আপনি আর সেই অবস্থানে নেই।

নিজেকেও এই অবস্থায় চিনতে পারছেন না।

কিভাবে আবার সেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারেন?

তাকে জিজ্ঞাসা করুন যিনি তিমির পেটে আটকা পড়েছিলেন (ইউনুস আঃ)। তাকে জিজ্ঞাসা করুন, তিনি অনুগ্রহ থেকে পতনে গিয়ে কেমন অনুভব করেছিলেন।

একটি সংক্ষিপ্ত বাক্যে তিনি নিজের অবস্থা তুলে ধরেছেনঃ

“…তুমি ছাড়া অন্য উপাস্য নেই, তোমারই সব মহিমা, আমি নিশ্চয়ই ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছি।’’ (আল-কুরআন-২১:৮৭)

এবং ফলাফল কি হয়েছিল? আল্লাহ আমাদেরকে বলেছেন, “যদি তিনি আল্লাহর তসবীহ পাঠ না করতেন, তবে তাঁকে কেয়ামত দিবস পর্যন্ত মাছের পেটেই থাকতে হত।” (আল কুরআন ৩৭:১৪৩-১৪৪)

সুতরাং হযরত ইউনূস আলাইহিস সালাম রক্ষা পেয়েছিলেন।

তিনি তিমির পেট থেকে উদ্ধার লাভ করেছিলেন কারণ তিনি আল্লাহর দিকে ফিরে এসেছিলেন এবং কখনও হাল ছাড়েননি। 

আল্লাহর কাছে ফিরে আসার উপায়ঃ

যারা বলে, “আমি ধার্মিক ছিলাম” অথবা “আমি কখনই ধার্মিক ছিলাম না”, তাদের উভয়ের জন্যই সবসময় ফিরে আসার উপায় রয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বলছেন, “তোমাদের কেউ মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া উট খুঁজে পেয়ে যতটা খুশি হও, আল্লাহ তা’আলা তার বান্দার তওবাতে এর চেয়েও বেশি খুশি হন” (সহীহ বুখারী)। 

তাই যেকোনো অবস্থায় আমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরতে হবে। তওবা মানেই হল ফিরে আসা।

এই ফিরে আসার একটি বড় অংশ হচ্ছে নিজের গুনাহর উপর লজ্জিত হয়ে ফিরে আসার সংকল্প করা।

যদিও এটি কোন সহজ বিষয় নয়; তবে অসম্ভবও তো কিছু নয়।   

সুতরাং হাল ছেড়ে দেবেন না। নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা (তিনি মহান) তিনি আপনাকে এই দুনিয়াতে একটি অকেজো সংযোজন হিসাবে সৃষ্টি করেননি।

যদি আপনি হাল ছেড়ে না দেন তবে আপনি তাঁর কাছে বিশেষ কিছু হতে পারবেন। 

ফিরে আসার এই পদক্ষেপটি গ্রহণ করুন।

কেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এত হাদিস বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তা’আলা সে বান্দাকে গ্রহণ করেন যে তাঁর নিকট তওবা করে ফিরে আসে?

কেন আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, আপনি যখন আল্লাহর দিকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবেন তখন আল্লাহর রহমত আপনার দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসবে?

এটি শুধু আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, আল্লাহ তা’আলা চান যেন আমরা তাঁর দিকে প্রথম পদক্ষেপটি ফেলি।

তাহলে তিনিই আমাদেরকে দ্বিতীয় পদক্ষেপ দেওয়ার তওফিক দেবেন। তিনি কখনই আমাদের জন্য কিছু কঠিন করতে চান না।

 মানসিক শান্তিঃ

আপনি যদি বছরের পর বছর ধরে ফজরের সালাতের জন্য জাগ্রত হতে না পারেন তবে আজই (উদাহরনস্বরূপ) পাঁচটি অ্যালার্ম দিয়ে রাখুন।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে আল্লাহ তা’আলার কাছে আন্তরিকভাবে দু’আ করুন। বারবার করুন।

ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং তাঁর কাছে দু’আ করুন যাতে আপনি ফজরের সালাতের জন্য জাগ্রত হতে পারেন।

কখনই হতাশ হতে হবে না। আপনার আগের সেই অবস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করুন যে অবস্থায় আপনার সম্প্রদায়ের লোকেরা আপনাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখত।

দুনিয়ার জীবনের কোনো অবস্থা যদি আপনার ফিরে আসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় তবে কুরআনে আল্লাহ তা’আলার এই সতর্কবাণীটির কথা চিন্তা করুন- 

এ পার্থিব জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া কিছুই নয়। আর আখিরাতের জীবনই তো প্রকৃত জীবন; যদি তারা জানত।” (আল কুরআন-২৯:৬৪)

তাই কখনই নিরাশ হবেন না।

কারণ আল্লাহ বলেছেন, “…আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহর রহমত থেকে কাফের সম্প্রদায় ব্যতীত অন্য কেউ নিরাশ হয় না।” (আল কুরআন-১২:৮৭)