আল্লাহর চোখে নারী-পুরুষ অভিন্ন, তবে সমাজে তাঁদের ভূমিকা ও দায়িত্ব ভিন্ন

Flower Bird

নারীবাদী আন্দোলন আধুনিক যুগের ফসল। কিন্তু আধুনিক যুগের সূত্রপাত হওয়ার বহু আগে একজন প্রকৃত নারীবাদী হিসেবে মহিলাদের জীবনের মানের উন্নয়ন ঘটিয়েছিলেন নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। আজ নারীরা যে সামাজিক মর্যাদা ও অধিকারগুলি ভোগ করেন –  তার মূল কাণ্ডারী হলেন নবীজি এবং অবশ্যই তাঁর প্রচলিত ইসলাম ধর্ম।

এই বিষয়টি ভালো করে বোঝার জন্য খুব গভীর ভাবে ভাবতে হবে এবং ইসলামকে বুঝতে হবে। শুধুমাত্র ইসলামে বলা হয়েছে বলেই প্রাক-ইসলাম যুগের নারীরা তাঁদের পশুতুল্য জীবন থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। ইসলামের আবির্ভাবের ফলে সামাজিক প্রেক্ষাপটে যে যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছিল, তা পূর্ণ রূপে প্রযুক্ত হতে কোথাও একটি গোটা প্রজন্ম বা কোথাও তার চেয়েও বেশি সময় নিয়েছে। কিন্তু ইসলাম নারীদের যে স্বাধীনতা ও অধিকারের স্বাদ দিয়েছে, তা আগে কেউ পাননি। 

সামাজিক বিপ্লব

যে নারীরা প্রথম এই অধিকারগুলি ভোগ করেছেন, যাঁরা তাঁদের প্রাক-ইসলাম ও ইসলাম-পরবর্তী জীবনের মধ্যে এই ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করেছিলেন, তাঁরা বারবার ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত পোষ্য সম্পত্তি থেকে মানুষ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার যে যাত্রা তাঁরা নিজেদের জীবন দিয়ে প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তার জন্য তাঁরা নবীজিকে সমস্ত কৃতিত্ব প্রদান করেছিলেন। ইসলাম না থাকলে, আজও হয়তো তাঁদের জীবন ও সামাজিক অবস্থানে কোনও রূপ পরিবর্তন আসত না।

হযরত মুহাম্মদ ইসলামে নারীদের উপযুক্ত স্থান প্রদান করে এবং তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও অধিকার দেওয়ার মাধ্যমে যে সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, তেমনটা গোটা পৃথিবীতে আর কেউ করেনি। পশ্চিমের দেশগুলির বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে উইমেন্স স্টাডিজ নামের একটি বিষয় পড়ানো হয়। সেই পাঠ্যক্রমেও নারীদের জীবনে ইসলাম ও নবীজির প্রভাব সম্পর্কে নতুন অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। শুধু মুসলিম নয়, বরং এই পৃথিবীর প্রতিটি ধর্মের মানুষের জানা উচিত, সমগ্র নারী জাতির হিতার্থে কত বড় অবদান রেখে গিয়েছেন মহানবী মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি না থাকলে, ইসলাম না থাকলে নারীরা হয়তো আজও পণ্য হিসেবেই বিবেচিত হতেন।

নারী ও পুরুষের দায়িত্ব

বর্তমানে পশ্চিমের নারীবাদীরা মনে করেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ এবং নারীদের সমান অধিকার থাকা উচিত, নারী-পুরুষের সামাজিক অধিকার, ভূমিকা এবং দায়িত্ব সমান হওয়া উচিত। কিন্তু ইসলাম এই মত-কে সমর্থন করে না। প্রথমত, ইসলাম মনে করে এই ভাবে নারী ও পুরুষ-কে সমান বলতে চাওয়ার মাধ্যমে সমান কথাটির অপপ্রয়োগ করা হয়েছে। ইসলাম বলতে চেয়েছে, মানবতার চোখে নারী ও পুরুষ সমান। কোনও নারী কখনও পুরুষের চেয়ে অধিক মানুষ হতে পারবে না কিংবা কোনও পুরুষও একই ভাবে কোনও নারীর চেয়ে বেশি মানুষ হতে পারবেন না। পুরুষ ও নারী – উভয়কেই আল্লাহ এক নজরে দেখেন। এবং আল্লাহ তাঁদের বিচার করেন এক ভাবে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, তাঁদের ভূমিকা ও দায়িত্ব এক হতে হবে। বরং, ইসলাম মনে করে, দুই লিঙ্গের মানুষের শারীরিক ও মানসিক গঠন সম্পূর্ণ আলাদা। সেই কথা মাথায় রেখেই ইসলাম প্রতিটি নির্দিষ্ট লিঙ্গের জন্য তাঁর উপযুক্ত ভূমিকা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।  

যদিও পুরুষ এবং নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এক, তবু তাঁদের মধ্যে কিছু সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। একজন মহিলা যে কোনও পুরুষের চেয়ে ২ বছর পূর্বে বয়ঃসন্ধিতে প্রবেশ করেন। নারীর জীবনের মেয়াদ পুরুষদের চেয়ে ৫ বছর বেশি। মহিলাদের শরীরে ৭০ শতাংশ বেশি মেদ ও ৪০ শতাংশ কম পেশি থাকে। সাধারণত, মহিলাদের উচ্চতা পুরুষদের চেয়ে পাঁচ ইঞ্চি কম হয়। এই ধরনের শারীরিক পার্থক্য ছাড়াও, মহিলারা তাঁদের মনের কথা অনেক বেশি স্পষ্ট ভাবে বলতে পারে, খুব হালকা গন্ধও তাঁদের নাসিকাকে ফাঁকি দিতে পারে না এবং তাঁদের কাজে অনেক বেশি সাহায্য পান। তাছাড়া মহিলাদের মানসিক অবসাদের প্রবণতা পুরুষদের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি আর খাবারের অনিয়মের প্রবণতা ১০ গুণ বেশি। অন্যদিকে, পুরুষরা মদ কিংবা মাদকের প্রতি অত্যন্ত দ্রুত আসক্ত হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের মধ্যে অটজমের মতো রোগে আক্রান্ত হওয়া বা সমাজবিরোধী কার্যকলাপের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ার প্রবণতা বেশি।

সবশেষে

এই ধরনের পার্থক্যগুলি কি অস্বীকার করা যায় ? সত্যিই কি সমাজ মনে করে যে, পুরুষ ও নারীদের ভূমিকা ও দায়িত্ব সমান হওয়া উচিত ? ইসলাম বলে, আল্লাহের চোখে নারী ও পুরুষ সমান এবং সেই কারণে আল্লাহ তাঁদের বিচার একই মাপকাঠিতে করেন। কিন্তু ইসলাম বলে, দুই লিঙ্গকে ভিন্ন ভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে কারণ তাঁদের ভূমিকা ও দায়িত্ব ভিন্ন। সেই কারণেই নারী ও পুরুষ, উভয়কেই নিজেদের জন্য নির্ধারিত ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতেই সমাজের কল্যাণ।