SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

আল্লাহর দরবারে পুরস্কৃত সেই, গোপনে দীনের সেবা করে যে

যাকাত ২২ এপ্রিল ২০২০
আল্লাহর দরবারে পুরস্কৃত

কোনো মানুষের কঠিন বিপদের মুহূর্তে যখন কেউ তাকে সাহায্য করে, তখন তার সে সাহায্যের কথা সে কখনো ভুলে না। যারা বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যকারী হয়, তারাই প্রকৃত বন্ধু। প্রবাদে আছে, ‘বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।’ আমরা জানি যে, দুনিয়ার সব সম্পদের মালিক আল্লাহ। মানুষ যে সম্পদের অধিকারী, তা মূলত আল্লাহর কৃপার ফসল। আল্লাহ যাকে অর্থ-সম্পদ দিয়েছেন তিনি সে সম্পদ থেকে অভাবী মানুষকে সাহায্য করলে তাতে আল্লাহতায়ালা খুব খুশি হন। এ ধরনের মানবিক কর্তব্য পালন রাত জেগে অবিরাম নফল নামাজ আদায় ও অবিরত নফল রোজার সমতুল্য।

আল্লাহর কাছে সবাই পবিত্র-

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বিধবা, গরিব, অভাবী ও অসহায়দের সাহায্যের জন্য চেষ্টা-তদবির করে, সে আল্লাহর পথে ব্যস্ত ব্যক্তির সমতুল্য। (হাদিস বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সে রাত জেগে অবিরাম নফল নামাজ আদায়কারী এবং অবিরত নফল রোজা পালনকারীর সমতুল্য। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম। যারা বিপদগ্রস্ত ও গরিব-দুঃখীকে দান করেন আল্লাহ তাদের পুরস্কৃত করেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি (আমার অভাবী বান্দাদের জন্য) নিজের উপার্জন থেকে খরচ কর, আমি আমার ভাণ্ডার থেকে তোমাকে দিতে থাকব। -সহিহ বোখারি ও মুসলিম।

সৃষ্টি জগতের সব কিছুর সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ। মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। কোনো মানুষের সঙ্গে যখন সদয় ব্যবহার করা হয়, তার বিপদে সাহায্য করা হয়, তখন আল্লাহকেই খুশি করা হয়। সমাজের আশ্রয়হীন, দুর্বল ও অসহায় লোকজনের সাহায্য-সহযোগিতা ইবাদতেরই অন্তর্ভুক্ত। হজরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত; তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গোটা সৃষ্টিকুল আল্লাহর পরিবার। অতএব যে আল্লাহর পরিবারের সঙ্গে সদয় ব্যবহার করে, সে আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয়। -বায়হাকি

দীনের সেবা করলে আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। সমাজে সেই মানুষেরই একটা অংশ গরীব-দুস্থ। তারা আমাদের সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। গরীব-দুস্থসহ সমাজের আশ্রয়হীন, দুর্বল ও অসহায় মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করা ইসলামে অন্যতম ইবাদত। অসচ্ছল, বিপদগ্রস্ত এবং অভাবী মানুষের সাহায্যে কেউ এগিয়ে এলে আল্লাহ খুব খুশি হন। কিন্তু সমাজে এমন একটি শ্রেণি রয়েছে যাদের বেশ-ভূষা, চালচলন আর দশজন অভাবী মানুষের মতো না। আত্মসম্মানবোধের কারণে যারা নিজেদের গুটিয়ে রাখে। মানুষের কাছে হাত পাতে না। পবিত্র কোরআনে এই শ্রেণির আত্মসম্মানী অভাবী মানুষের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

যারা দ্বিনের ক্ষেত্রে সার্বক্ষণিক নিজেদের নিয়োজিত রাখে, চক্ষুলজ্জায় বা আত্মসম্মানবোধের কারণে নিজের জন্য চাইতে পারে না। আপাতদৃষ্টিতে যাদের সচ্ছল ও স্বাভাবিক মনে হয়। তবে লক্ষ করলে তাদের অভাব বোঝা যায়, এরকম আত্মসম্মানী অভাবীদের উদ্দেশ্যে আল্লাহ বলেন, ‘যারা দিনে ও রাতে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজের সম্পদ থেকে দান করে, আল্লাহর কাছে তাদের পুরস্কার রয়েছে। তাদের কোনো ভয় নেই এবং তার জন্য দুঃখিত হবে না। (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৭৪)। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও সন্তুষ্টি লাভ করার উদ্দেশ্যে যারা রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে নিজেদের ধনসম্পদ থেকে ব্যয় করে তাদের জন্য রয়েছে তাদের প্রতিপালকের কাছে বিশেষ পুরস্কার। যেদিন সবাই ভীতসন্ত্রস্ত ও চিন্তিত থাকবে, সেদিন তাদের কোনো ভয় ও চিন্তা থাকবে না।