শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিন

umit-bulut-qbTC7ZwJB64-unsplash
Fotoğraf: Ümit Bulut-Unsplash

যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র ইত্যাদিতে পরীক্ষা হয় তখন একটা নির্দিষ্ট রুটিন থাকে যা আমাদের মধ্যে অনেকেই অনুসরণ করে। অনেকে আছে যারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত প্রস্তুতি নেয় আবার অনেকে আছে কয়েকদিন আগেই যাদের প্রস্তুতি নেওয়া হয়ে যায়। যাইহোক আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম তখন আমার রীতি ছিল ‘ভুলে যাওয়ার জন্য শেখা’। আমাদের মধ্যে কতজন আছে যারা ‘মনে রাখার জন্য শিখে’?

প্রকৃতপক্ষে এই ছোট ছোট পরীক্ষাগুলি আমাদের বড় পরীক্ষার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যে পরীক্ষাটি আমাদের রবের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে। আমরা যেরকম দুনিয়ার পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিই, তার মত কতটুকু আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি?

পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতির সাধারণ রুটিনটি এরকম হতে পারে, প্রথমে, যে বিষয়গুলি আসার সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলির দিকে নজর দিতে পারি; দ্বিতীয়ত, আমরা আমাদের শিক্ষক বা প্রভাষকের কাছে সাহায্য এবং পরামর্শ চাইতে যেতে পারি; এবং পরিশেষে আমরা পরীক্ষার সময়ের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য একটি সময়সূচী তৈরি করতে পারি যাতে আমাদের প্রয়োজনীয় কাজগুলো যথাসময়ে শেষ হয়।

যদি আমরা আল্লাহর সাথে আমাদের আসন্ন পরীক্ষা সম্পর্কে চিন্তা করি, তবে আমরা দেখতে পাব যে, পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে দুটি রুটিন প্রায় একই রকম।

যে বিষয়গুলি সম্ভবত উঠে আসবে: আমরা যদি আমাদের দ্বীনি বিষয়গুলির দিকে ফিরে তাকাই তবে আমরা সেই বিষয়গুলি সম্পর্কে জানতে পারি যেগুলি সম্পর্কে আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে। সাধারণত দ্বীনি বিষয় দু’রকমঃ একটি আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত  আর আরেকটি আল্লাহর বান্দাদের সাথে সম্পর্কিত। পরীক্ষার দিন এগুলি সম্পর্কে আমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। মানুষ আমাদের সাথে কি আচরণ করেছে এটা জিজ্ঞাসা করা হবে না বরং আমরা মানুষের সাথে কি আচরণ করেছি সেটা জিজ্ঞাসা করা হবে।

সুতরাং, এই বিষয় সম্পর্কিত প্রশ্নগুলির উত্তর দিতে সক্ষম হওয়ার জন্য, আমাদের প্রত্যেকের উচিত এ বিষয়ে কিছু অধ্যয়ন করা। প্রত্যেককেই আলেম হতে হবে এমন নয়, কিন্তু দ্বীনের ফরজিয়্যাতগুলো সকলকেই জানতে হবে।

পরামর্শ এবং সহায়তার জন্য শিক্ষকদের কাছে যাওয়াঃ পরীক্ষার হলে যদি আমাদের পরিচিত কোনো শিক্ষকের গার্ড পড়ে তবে তা আমাদেরকে অনেক স্বস্তি দেয়। এটি একারণে নয় যে, তিনি আমাদেরকে কোনো উত্তর বলে দেবেন বা উত্তরপত্রে নম্বর বেশি দেবেন। এটা একারণে যে, আমার যদি কোনো সাহায্যের প্রয়োজন হয়, তবে আমার অপরিচিত কোনো মুখকে আমি দেখব না। অনুরূপভাবে আল্লাহর কাছে পরীক্ষার সময় তিনি যদি আমাদেরকে সুপরিচিত বান্দা হিসেবে দেখেন যে সবসময় তাঁর ফরমাবরদারী করেছে তবে এটা কত স্বস্তির একটা বিষয় হবে তা কল্পনা করুন।

এরপরে রয়েছেন আমাদের প্রিয় শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম), যাকে আল্লাহ আমাদের নিকট প্রেরণ করেছিলেন এবং তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, “যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্যে রসূলুল্লাহর মধ্যে উত্তম নমুনা রয়েছে” (আল কুরআন-৩৩:২১)। প্রকৃতপক্ষে, আমরা যদি জানি যে, আমাদের পরীক্ষক তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর উদাহরণকে ভালবাসেন তবে আমাদেরকেও তাঁকে ও তাঁর উদাহরণকে ভালবাসা উচিত। তাঁর অনুসরণই আমাদের রবের নিকট পৌঁছার মাধ্যম।

অবশেষে রয়েছেন আমাদের ধন্য শিক্ষক, ‘ওলামায়ে কেরাম’, যারা নবী-রাসূলগণের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ইলম প্রাপ্ত হয়েছেন। স্কুল বা বিশ্ববিদ্যালয়ে, আমাদের বেশিরভাগের ব্যক্তিগত পছন্দের একজন শিক্ষক থাকেন যার নিকট আমরা সর্বদা সহায়তার জন্য যাই। আমরা কেন সবসময় একইজনের কাছে যাব? কারণ তারা আমাদেরকে জানেন, তারা জানেন যে, আমাদের মন কীভাবে কাজ করে, তারা জানেন যে, আমরা ইতিমধ্যে কি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, আমরা কি নিয়ে লড়াই করছি। একইভাবে, এই চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য আমরা সর্বদা সহায়তার জন্য যেতে পারি এমন একজন শিক্ষকের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় থাকা খুবই উপকারী, আর তারা হলেন ওলামায়ে কেরাম।

সময়সূচী তৈরি করা: এটি সম্ভবত অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আমাদেরকে সবসময়ই একটি পরীক্ষার সময়সূচি তৈরি করে রাখতে হবে কারণ আমরা জানি না যে কখন এটি ঘটবে। তাই সবসময়ই আমাদেরকে এমন কাজে অভ্যস্ত হতে হবে যাতে আমাদের রব সর্বদা আমাদের উপর খুশি থাকেন।

দুনিয়াবী পরীক্ষার জন্য আমরা যতটা ত্যাগ শিকার করি ও উদ্বিগ্ন থাকি তার সামান্য পরিমাণও যদি আমরা আখিরাতের জন্য করতাম তবে আমরা কামিয়াব হয়ে যেতাম।

এই কথাগুলোর উপর আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন