আল্লাহর বন্ধু বা ওলী হবেন যেভাবে

আকীদাহ Contributor
ফিচার
আল্লাহর বন্ধু
© I-bag | Dreamstime.com

আল্লাহ তা’আলা মানুষকে তাঁর ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছেন। আর মানুষ আল্লাহর ইবাদত করবে তাঁর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে। আল্লাহর একান্ত আপন ও বন্ধু হওয়াই বিচক্ষণ মানুষের জীবনের একমাত্র চাওয়া-পাওয়া। আল্লাহর বন্ধুকে আরবিতে বলা হয় ‘ওলী’।

আল্লাহর বন্ধু বা ওলী হওয়ার দুটি শর্ত

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রিয়বান্দাদের পরিচয় এবং বন্ধু হওয়ার শর্ত এভাবে তুলে ধরেছেন-

“জেনে রেখো! নিশ্চয় আল্লাহর বন্ধু বা ওলীদের কোনো ভয় নেই এবং তারা শঙ্কিতও হবে না; (আল্লাহর বন্ধু তারা) যারা ঈমান আনয়ন করেছে এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে আত্মরক্ষা করে চলে বা তাকওয়ার পথ অবলম্বন করে। তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে তাদের পার্থিব জীবনে এবং আখিরাতের জীবনে। আল্লাহর কথা কখনো হের-ফের হয় না। নিশ্চয় এটাই হল মহা সফলতা।” (আল কুরআন-১০:৬২-৬৪)

উল্লেখিত আয়াতে আল্লাহর বন্ধু বা ওলী হওয়ার জন্য দুইটি শর্তারোপ করা হয়েছে। একটি হলো- আল্লাহর প্রতি ঈমান আনয়ন করা এবং দ্বিতীয়টি হলো- আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও অবাধ্যতা থেকে আত্মরক্ষা করে চলা বা তাকওয়ার পথ অবলম্বন করা।

‘ঈমান এবং তাকওয়া’- এ দুইটি গুণের মধ্যেই রয়েছে আল্লাহর ওলী বা বন্ধুর পরিচয়। সুতরাং, ঈমান ও তাকওয়ার গুণ যার মধ্যে যত বেশি ও পরিপূর্ণ হবে; সে তত বেশি আল্লাহর ওলী বা বন্ধু হওয়ার পথে অগ্রসর হবে।

ইমাম আবু জাফর তাহাবি(রহঃ) বলেন, “সব মুমিনই প্রকৃতপক্ষে করুণাময় আল্লাহর বন্ধু। তবে তাঁদের মধ্য থেকে যে যত বেশি আল্লাহর আনুগত্যশীল এবং আল্লাহর হুকেমের অনুসরণকারী, সে তত বেশি আল্লাহর নিকট সম্মানিত অর্থাৎ তাঁর সাথে আল্লাহর বন্ধুত্ব-ও তত দৃঢ়।” (কিতাবুয যুহুদ)

আল্লাহর বন্ধু হওয়ার উপায়

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’টি কাজকে আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হওয়ার উপায় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। একটি হলো আল্লাহ নির্ধারিত ফরজ হুকুমগুলো যথাযথ পালন করা। অতঃপর নফল ইবাদতে নিজেকে বেশি বেশি নিয়োজিত করা।

আল্লাহর ফরজ হুকুমগুলি পালনের পর যে যতবেশি নফল ইবাদতে নিজেকে আত্মনিয়োগ করবে, সে ততবেশি আল্লাহর ঘনিষ্ঠ বন্ধুতে পরিণত হবে। হাদিসে এসেছে-

হজরত আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলী বা বন্ধুর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করি। আমার নৈকট্য অর্জন করতে বা বন্ধু হতে বান্দা যত কাজ করে তাঁর মধ্য থেকে সে কাজকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালবাসি যে কাজ আমি তাঁর উপর ফরজ করেছি। (অর্থাৎ, ফরজ হুকুম পালন করাই আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য অর্জনের জন্য সর্বপ্রথম ও সর্বপ্রধান কাজ)

এরপর (অর্থাৎ, ফরজ ইবাদত পরিপূর্ণরূপে পালনের পর) বান্দা যখন নিয়মিত নফল ইবাদত পালনের মাধ্যমে আমার নৈকট্য অর্জনের পথে অগ্রসর হতে থাকে তখন সে আমার ভালোবাসা অর্জন করে ফেলে।

আর যখন আমি তাকে ভালবাসি তখন আমি তার শ্রবণযন্ত্র বা কানে পরিণত হয়, যা দিয়ে সে শুনতে পায়। আমি তার দৃষ্টিশক্তি বা চোখে পরিণত হই, যা দিয়ে সে দেখতে পায়। আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে কোনোকিছুকে ধরে বা আঘাত করে এবং আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে হাঁটে।

এ অবস্থায় সে যদি আমার কাছে কোনো কিছু চায়, তাহলে আমি অবশ্যই তাকে তা দান করি। সে যদি আমার কাছে আশ্রয় চায় তাহলে আমি অবশ্যই তাকে আশ্রয় প্রদান করি।” (মুয়াত্তা মালেক)

আল্লাহর বন্ধু বা ওলী হতে হলে পরিপূর্ণ ঈমানদার ও তাকওয়ার অধিকারী হওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প পথ নেই। আল্লাহর বন্ধু বা ওলী হতে হলে তাঁর ফরজ হুকুম বা বিধানাবলী পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগিতেও নিজেদেরকে নিয়োজিত করা জরুরি। যা উপরোক্ত হাদিসে পরিষ্কারভাবে উল্লেখিত হয়েছে।

আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু বা ওলী কে?

সুতরাং, যারা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য তাঁর হাবীব সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের পরিপূর্ণ অনুসরণ করে সঠিক ঈমান আনয়ন করে ও ঈমানের সংরক্ষণ করে এবং এর পাশাপাশি দুনিয়ার সকল হারাম ও নিষেধ কর্ম বর্জনের মাধ্যমে তাকওয়া অর্জন করে, তাঁর ওপর অর্পিত যাবতীয় ফরজ দায়িত্ব যথাযথ আদায়ের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগি করে, তারাই হল প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর বন্ধু বা ওলী।

আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে তাঁর নৈকট্য অর্জনে ঈমান ও তাকওয়ার ওপর অটল ও অবিচল খেকে সঠিকভাবে ফরজ হুকুমাবলি পালনের পাশাপাশি বেশি বেশি নফল ইবাদত-বন্দেগি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।