‘আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়’

Dmitrii Melnikov-Dreamstime
Fotoğraf: Dmitrii Melnikov-Dreamstime

আমরা এমন এক পৃথিবীতে বাস করি যা আমাদের থেকে সর্বদা সেরাটির প্রত্যাশা করে। আমাদেরকে যথাসম্ভব কাজ করতে হয় এবং কাজগুলিকেও যথাসম্ভব ভাল করতে হয়। আমরা আমাদের সমস্ত শক্তি পার্থিব কাজের জন্যই ব্যয় করে ফেলি।

আমরা যখন আমাদের পার্থিব কাজগুলি শেষ করি তখন প্রায়শই আমরা ক্লান্ত অনুভব করি। এর ফলে কখনও কখনও আমরা ইবাদতকে বোঝা হিসাবে অনুভব করি। এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এটি শেষ করার চেষ্টা করি। কিভাবে আমরা এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে পারি?

আমাদের ইবাদতকে একটি শক্তিতে পরিণত করতে হবে।

কিভাবে?

মূল বিষয় হল ইবাদতকে আমাদের পার্থিব কাজের মতো একই পরিমিতি দিয়ে বিচার করতে হবে।

কিন্তু আমরা এটা করতে পারি না। এর কারণ কি?

কারণ আমরা সবসময় আমাদের ইবাদতের তাত্ক্ষণিক ফলাফল দেখতে পাই না। সুতরাং প্রথমত, ইবাদত সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

“আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে।” (আল কুরআন-৫১:৫৬)

“যারা ঈমান আনে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।” (আল কুরআন-১৩:২৮)

একটি বিস্ময়কর রূপান্তর

আমরা সবসময় ভাবতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমরা যদি না ভাবি, তবে আমরা নিজেদেরকেই বিনোদন দিই। কোনো অবসর সময় নেই। এমনকি আমাদের ইবাদতের সময়ও আমাদের চিন্তাভাবনাগুলি দৌড়াদৌড়ি করে। আমরা আল্লাহ-কেন্দ্রিক মন এবং হৃদয়ের আধ্যাত্মিক সুবিধাগুলি না পেয়ে এরকম অবস্থার মধ্য দিয়ে যাই।

আবার, আসুন ইবাদতকে আশ্রয় হিসাবে দেখি। আমাদের নিজস্ব ব্যস্ততা থেকে আশ্রয়। প্রথম প্রথম, আমরা সিজদা করার সময় আল্লাহর সাথে আমাদের হৃদয়ের সংযোগ অনুভব করার চেষ্টা করতে পারি। যতক্ষণ না আল্লাহর সাথে সংযোগ অনুভূত হয় ততক্ষণ সেজদায় থাকার চেষ্টা করুন। এর দ্বারা একটি দুর্দান্ত রূপান্তর শুরু হবে। শুধুমাত্র বাধ্যবাধকতা হিসেবে নয় বরং ইবাদতকে নিজের প্রয়োজন পূরণের মাধ্যম হিসেবে কল্পনা করুন।

ইবাদতের অন্যান্য রূপ

ইবাদতকে গুরুতর বাধ্যবাধকতা হিসাবে নয় বরং ইবাদতকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনের এক রূপ হিসাবে দেখা উচিত যেন আমাদের এই জগতে বিচরণ করতে কোনো বাধার সম্মুখীন না হতে হয়। আমাদের পার্থিব বাধ্যবাধকতা আছে। অন্যান্য মানুষের, আমাদের শিশুদের, স্বামী বা স্ত্রীর, পিতামাতা ইত্যাদি সকলের প্রতি আমাদের অধিকার আছে। এবং এই অধিকার ও বাধ্যবাধকতাগুলি পালন করা ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়াও এটি ইবাদতেরও একটি রূপ।

আমাদের কর্তব্যগুলি আমাদেরকে বুঝতে হবে এবং প্রতিটা কাজের মধ্যেই আল্লাহর সাথে আমাদের সংযোগের বিষয়টি আনুধাবন করতে হবে।

এটি করার একটি পদ্ধতি হল প্রত্যহ সকালে সারা দিন আল্লাহকে স্মরণ করার নিয়ত করুন। এবং যখনই আপনি মনে করবেন যে, তাঁর সাথে আপনার সংযোগ আরও জোরদার করা দরকার তখনই আপনার উদ্দেশ্যটি পুনরায় স্মরণ করুন।

আপনার সীমাবদ্ধতাকে জানুন

যখন ইবাদত করার কথা আসে তখন আমাদের সীমাবদ্ধতাকেও জানা দরকার। তালিকার সমস্ত কিছুই আমাদেরকে করতে হবে না। যদি রোজা রাখা আপনার জন্য সহজ হয় তবে আপনি পুরো মাস বা বছর জুড়ে বেশ কয়েকটি সুন্নত রোজা রাখতে পারেন।

তবে, যদি রোজা রাখা আপনার পক্ষে সত্যিই কঠিন হয়, তবে আপনি আরও একটি ইবাদতের সন্ধান করতে পারেন যা আপনাকে আল্লাহর আরও নিকটে নিয়ে যাবে। আপনি নফল সদকা প্রদান করতে পারেন। অথবা তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য রাতে জেগে ওঠা আপনার পক্ষে সহজ হলে এটিও করতে পারেন। অথবা আপনি আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর অনেক দরূদ পড়তে পারেন।

আল্লাহ কি আমাদের ইবাদতের মুখাপেক্ষী?

নিজেকে জানুন। আমাদের করুণাময় রবের নিকট আরও প্রিয় হওয়ার জন্য আপনি কী করতে পারেন তা জানার চেষ্টা করুন। যেসব নফল আমল করা আপনার জন্য কষ্টকর মনে হয় সেই নফল ইবাদতের জন্য নিজের উপর চাপ দেওয়া উচিত নয়।

নিজেকে তুলনা করুন

প্রত্যেক ব্যক্তির শক্তি-সামর্থ্য ভিন্ন ভিন্ন। তাই প্রত্যকের ইবাদতের ধরণও ভিন্ন হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ কারণে অন্য কারও সাথে নিজের তুলনা না করে আপনার সামর্থ্যের মধ্যে যেটা আছে আপনি তাঁর উপরই চেষ্টা করুন।

নিয়মিত নিজের আমলে উন্নতি ঘটানোর চেষ্টা করুন। আর যে আমলটি শুরু করবেন তা নিয়মিত জারি রাখার চেষ্টা করবেন। কারণ আল্লাহ সেসকল আমলকেই পছন্দ করেন যা নিয়মিত করা হয়।

আল্লাহর ইবাদতে আরও মনোনিবেশ করার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে তওফিক দিন। আমীন।